টেরাস্কোপ – পৃথিবীর সমান বিশাল টেলিস্কোপ তৈরীর সম্ভাবনা

পৃথিবীর বায়ুমন্ডলকে লেন্স হিসেবে ব্যবহার করে তৈরী করা যেতে পারে টেরাস্কোপ

0
271

টেলিস্কোপ আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে উত্তরোত্তর জ্যোতির্বিদ্যার নানান গবেষণা ও মহাকাশের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিশ্লেষণের তাগিদে এর আকার পরিবর্তিত হয়েছে। বাঘা বাঘা সব টেলিস্কোপ তৈরী করা হয়েছে। তবে বড় আকারের কোনো টেলিস্কোপ তৈরী করা বেশ ব্যয়বহুলও বটে। কেমন হতো যদি বিকল্প কোনো উপায়ে অপেক্ষাকৃত স্বল্প খরচে বৃহত্তর কোনো টেলিস্কোপ তৈরী করা যেতো !

 

Advertisement

যদি তা সম্ভর হয়ও, ধরা যাক, টেলিস্কোপের আকার ৫০ মিটার, ১০০ মিটার অথবা আরো বড় হবে, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র নির্মাণ ব্যয় ও আকারের কথা চিন্তা করলেই হবে না। সেটিকে নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপনের ব্যাপারেও ভাবতে হবে। আর পৃথিবীতে অথবা মহাকাশে সেটি স্থাপন করা আরো ব্যয়বহুল, যা বর্তমান প্রযুক্তিতে বেশ দুরূহও বটে। তবে ডেভিড কিপিং নামের একজন জ্যোতির্বিদ এমন একটি টেলিস্কোপের প্রস্তাবনা করেছেন, যার আকার একশো-দুশো মিটার কিংবা ১ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের নয় বরং পুরো পৃথিবীরই সমান। অদ্ভুত হলেও ব্যাপারটা অসম্ভব নয়। ডেভিডের গবেষণা অনুসারে, পৃথিবীর বায়ুমন্ডলকে টেলিস্কোপের লেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে এবং বায়ুমন্ডলের আলোর বিক্ষেপণ ক্ষমতাকে ব্যবহার করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা নক্ষত্রের আলোকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। 

 

২০১৯ সালে ডেভিড কিপিং- এর এই গবেষণাটি’ Publications of the Astronomical Society of the Pacific ‘ নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাপত্র অনুসারে, কোনো দূর নক্ষত্র থেকে আসা আলোক রশ্মি পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের বিভিন্ন স্তরে প্রতিসরিত হয়ে অথবা পৃথিবীর ভরের কারণে বেঁকে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে একীভূত হয়। এবং সেই স্থানটি হলো পৃথিবী থেকে ১.৫ মিলিয়ন দূরের একটি কক্ষপথ। সেই কক্ষপথে ডিটেক্টর স্থাপন করে একীভূত ওইসব আলোকরশ্মিকে সংগ্রহ করে দূর-দূরান্তের বিভিন্ন নক্ষত্রকে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। বিভিন্ন এক্সোপ্লেনেটের বিষয়েও আরো বিশদ তথ্য জানা যাবে। এমনকি এক্সোপ্লেনেটের পাহাড়-মেঘের গঠন সম্পর্কেও বিভিন্ন তথ্য জানা সম্ভব হতে পারে বলে আশা করছেন কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিদ ও গবেষক ডেভিড কিপিং। 

টেরাস্কোপ তৈরী করতে একটি ডিটেক্টর পৃথিবী থেকে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন কি.মি দূরের একটি কক্ষপথে স্থাপন করতে হবে। 

তবে জ্যোতির্বিদগণের মতে, টেরাস্কোপকে বাস্তব রূপ দিতে আরো বিশদ গবেষণার প্রয়োজন। এর বেশ কিছু কারণও রয়েছে। নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাব এর একজন এস্ট্রোফিজিসিস্ট স্লাভা তুর্সেয়িভের কথায়, ” পৃথিবীর বিভিন্ন আলোক উৎসের আলো ও দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে আসা আলোর সাথে ব্যতিচারে টেলিস্কোপ দ্বারা তোলা ছবি ঘোলাটে হতে পারে।”

স্মিথসোনিয়ান-হার্ভাড সেন্টার ফর এস্ট্রোফিজিক্স ‘র আরেকজন গবেষক মার্টিন এলভিস’র মতে, ” আইডিয়াটি চমৎকার তবে আরো বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন এবং এই গবেষণাটি জ্যোতির্বিদদের অপেক্ষাকৃত বড় টেলিস্কোপ তৈরীর চিন্তাভাবনা থেকে সরিয়ে বিকল্পধারার সৃষ্টি করবে।

তবে গবেষণাপত্রটি জ্যোতির্বিদদের নজর কেড়েছে এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানে গতানুগতিক ধারার বাইরে সৃজনশীল কাজ হিসেবে বেশ প্রশংসাও কুড়িয়েছে।

 

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.