সীতাকুণ্ডের অগ্নিকাণ্ড ও গুজব !

সীতাকুণ্ডের কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে কিছু ভূয়া তথ্য

0
354

 

সীতাকুণ্ড কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড

চট্রগ্রামের সীতাকুণ্ড অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। যদিও সেটি অজান্তেই হানা দিয়েছিল। কিন্তু তার চেয়েও বেশি আশ্চর্যের বিষয় এই যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো সরগরম কিছু গুজবও ছড়িয়ে পড়ছে একের পর এক। যেগুলো সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে দুশ্চিন্তার উদ্রেগ করছে। এরকমই একটি গুজবের ছবি নিম্নে দেয়া হলো।

Advertisement
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসিড বৃষ্টির গুজব

 

এটা নিঃসন্দেহে গুজব ও ভুয়া তথ্য🙂

কারণঃ

শিল্প কলকারখানার আশেপাশের শহরের বৃষ্টির পানি এমনিতেই মৃদু এসিডিক। সেক্ষেত্রে প্রথম ৫/১০ মিনিট না ভিজলেই হয়। কারণ পরের পানিগুলো পরিষ্কার থাকে। তাই এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

এবার আসি মর্মান্তিক অগ্নিকান্ডের সূচনা যে কেমিক্যাল/ রাসায়নিক পদার্থের কারণে সেটি হলো হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H2O2)। বলা হচ্ছে বাতাসের জলীয় বাষ্প – এর সাথে মিশে এই কেমিক্যালটি চট্টগ্রামে এসিড বৃষ্টি ঘটাবে। বিষয়টি কতটা যৌক্তিক চলুন একঝলকে দেখে নিই।⬇️

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কন্টেইনারে থাকা হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ( H2O2) তো তাপে ভেঙে পানি (H20)  ও অক্সিজেন (O2) তে রুপান্তর হয়েছে। এক্ষেত্রে পানি আর অক্সিজেন আমাদের শরীরের অত্যাবশকীয় দুটি উপাদান এবং আমাদের চারপাশের বাতাসে এগুলো সর্বক্ষণই আছে। তো এখানে আসলে এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী কোনো উপাদানই নেই যা আমাদের ক্ষতির কারণ।

এছাড়া স্বাভাবিক বৃষ্টির পানির  pH 5-5.5 ;
যা হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড থেকে H2O2 ( pH 6.2)  থেকে বেশি এসিডিক।

সুতরাং হাইড্রোজেনপারঅক্সাইড বা H2O2  এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী নয়।

বিঃদ্রঃ কোনো খবরের সঠিক তথ্য না জেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া থেকে বিরত থাকুন এবং যারা এসব জেনে অথবা না জেনে গুজব ছড়াচ্ছেন তাদেরকে সঠিক তথ্যটি জানান।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.