Thursday, October 14, 2021
বাড়িজীবজগৎমাছেরাও গায় গান!

মাছেরাও গায় গান!

- Advertisement -

অবাক হচ্ছেন? পাখিদের গানরূপ কলকাকলি তো আমাদের সবার প্রিয়। কিন্তু মাছের গান!, শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সত্য যে মাছও পানির নিচে এমনই শ্রুতিমধুর হাজারও শব্দ সৃষ্টি করতে পারে।

মৎস্য প্রজাতি তাদের প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিভিন্ন রকম শব্দ কর‍তে পারে। কানাডার University of Victoria এর Xavier Mouy কোন মাছ কেমন শব্দ করে তা নিয়ে একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

কলম্বিয়ার উপকূলীয় তীরে গেলে “Prrr…thump…thump..brrr” এমন শব্দ হয়ত আপনি শুনতে পাবেন। এই মাছেরা শিকারীদের ভয় দেখানোর জন্য অথবা আকর্ষণ করার জন্য শব্দ করে থাকে। এরিস্টটল চতুর্থ শতাব্দীতেই মাছের শব্দ করার প্রক্রিয়া সবার সামনে এনেছিলেন। যার বিস্তারিত রূপ ক্রমাগত এখন আলোচিত হচ্ছে।

পৃথিবীর ৮০০ প্রজাতির মাছের মধ্যে সামুদ্রিক প্রায় ৪০০ প্রজাতির মাছ এই কলম্বিয়ায় পাওয়া যায়। প্রায় ২২ প্রজাতির মাছের ধ্বনি এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়েছে।

মাছের এই শব্দ আমাদের জন্য কেনো প্রয়োজনীয়?

কারণ এই শব্দের উপর ভিত্তি করেই আমরা বিশাল সমুদ্র গহ্বরকে অনুধাবন করতে পারি। মৎস্য ব্যবস্থাপনাতেও এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

তবে মাছের এই শব্দ কীভাবে রেকর্ড করা হয় সেটাও তো জানা প্রয়োজন,তাই না?  মাছ তাদের নিজেদের পরিবেশে যেভাবে শব্দ করে সেটাই প্রকৃত শব্দ। তাই সমুদ্রের নিচে যেখানে মাছের বিচরণ সেখানে হাইড্রোফোন এবং ক্যামেরার মাধ্যমে কোন প্রজাতির মাছ কেমন শব্দ করছে তা জানা যায়।

তবে অনেক সময় এমনও হতে পারে যে ক্যামেরার বাইরে থাকা কোনো মাছ শব্দ করছে।  তাহলে সেটা কীভাবে বোঝা সম্ভব?  ধরুন আপনি একটি ব্যস্ত শহরে আছেন।চারপাশে বিভিন্ন ধরণের শব্দ। কিন্তু তারপরেও কয়েক মাইক্রোসেকেন্ডের ব্যবধানে আপনার মস্তিষ্ক প্রত্যেকটি শব্দ আলাদা করে ফেলবে। এখানেও সেই প্রযুক্তিই কাজে লাগানো হয়।

মাছের গান রেকর্ড করার ব্যবস্থা হচ্ছে।

eXperimental Audio and Vedio (XAV) array নামক একটি যন্ত্রের মাধ্যমে এই কাজটি করা হয়। এতে ৬ টি হাইড্রোফোন এবং ২ টি ক্যামেরা সংযুক্ত থাকে এবং সমুদ্রের নিচে ১০দিন রেখে শব্দ রেকর্ড করা হয়। কারণ যত বেশি হাইড্রোফোন থাকবে শব্দ তত নিখুঁত হবে।

তবে এই গবেষণা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা এতটাও সহজ ছিল না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন পরিকল্পনা, যন্ত্র সম্পাদন, উপাত্ত সংগ্রহ, উপাত্ত বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে অনেকের সাহায্য প্রয়োজন পড়েছে। এছাড়াও সমুদ্র এবং মৎস্য বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন জ্ঞানের প্রয়োজন। সকল বিষয়ক জ্ঞানের সমন্বয়েই সার্থক হয় আমাদেএ এই প্রকল্প। [seagoing.ca অবলম্বনে]

-জান্নাতুল ফেরদৌস অনন্যা

বিজ্ঞান পত্রিকার ইউটিউব চ্যানেল চালু হয়েছে।
এই লিংকে ক্লিক করে ইউটিউব চ্যানেল হতে ভিডিও দেখুন।
- Advertisement -

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সম্পর্কিত খবর

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

Stay Connected

যুক্ত থাকুন

302,170ভক্তমত
780গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব

Must Read

সম্পর্কিত পোস্ট

- Advertisement -
- Advertisement -

সবসময়ের জনপ্রিয়

সবচেয়ে আলোচিত

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -