Thursday, October 14, 2021
বাড়িজীবজগৎকংক্রিটের মাঝে বসবাস আর বিকাশ যে ব্যাকটেরিয়ার

কংক্রিটের মাঝে বসবাস আর বিকাশ যে ব্যাকটেরিয়ার

- Advertisement -

কংক্রিটের মাঝেও ব্যাকটেরিয়ার বসবাস! শুনতে বড্ড অদ্ভুত লাগে তাই না? কিন্তু এটা সত্যি। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এই তথ্য। এরকম একটি প্রতিকূল জায়গায় এরা শুধু টিকেই থাকে না, বরং স্বাচ্ছন্দ্যে নিজেদের বংশবিস্তারও করে।

ক্ষার এবং সিলিকার বিক্রিয়া বা “কংক্রিট ক্যান্সার” এর পূর্বেই এটা সম্পর্কে সতর্কীকরণ বার্তা দিতে পারে এই ব্যাকটেরিয়া।  ক্ষতিগ্রস্ত সেতু এবং রাস্তাসমূহ সারানোর কাজেও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নেয়া যায়।

ব্যাকটেরিয়া যে কংক্রিটে থাকতে পারে তা আমরা আগেই জেনেছি। তবে কোন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া কীভাবে কতদিন থাকতে পারে এসবও তো জানা প্রয়োজন।

পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে যে এই অণুজীব কংক্রিটে বাসা তৈরি করতে পারে। বিভিন্ন আর্দ্র পরিবেশে এগুলো বসতি গড়ে তুলতে পারে। যেমন – ব্রিজের পাইলিং, ড্রেনের পাইপ ইত্যাদি। একইসাথে এই অংশগুলোর ক্ষতিসাধনের পেছনেও এরা দায়ী।

University of Delaware এর একজন অণুজীববিজ্ঞানী Julie Maresca এবং তার সহকর্মীবৃন্দ ৪০ টি কংক্রিটের বোতল নিয়ে কিছু পরীক্ষা করেন এ বিষয়ে। কয়েকজন কংক্রিটের মিশ্রণ ব্যবহার করেছেন যা ধ্বংসাত্মক ক্ষার-সিলিকা বিক্রিয়ায় অংশ নেয়।  বাকিরা ঠিক এর উলটো উপায় ব্যবহার করেন যা ক্ষার-সিলিকা বিক্রিয়া থেকে কংক্রিটকে রক্ষা করে।

প্রায় দু বছর ল্যাবরেটরির ছাদে এই পরীক্ষা সংঘটিত হয়। এতে কিছু সুপরিচিত ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ পাওয়া যায়।  আর তা হল – Proteobacteria, Firmicutes, Actinobacteria  । প্রায় ৫০-৬০% ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন কাঁচামাল থেকে এসেছে বিশেষত নুড়িপাথর।

গবেষণাকারীরা দেখতে পান যে বংশবৃদ্ধির এই বিষয়টি পরিবর্তনশীল। খাদ্যের পর্যাপ্ততা পরিবর্তনের উপর এই বিষয়টি নির্ভরশীল।

ছবির উৎস: mediatech.com.jo

এখানে একটা প্রশ্ন থেকে যায় যে এই অণুজীবগুলো কী খায়। খুব সম্ভবত এরা অন্য মৃত অণুজীব খেয়ে থাকে। যদি কিছুই খাওয়ার মত না থাকে তাহলে তারা সুপ্ত অবস্থায় থাকে এবং পরবর্তীতে যখন খাদ্যের অভাব পূর্ণ হয় তখন এরা পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

কংক্রিটের প্রকারভেদ অনুসারে ব্যাকটেরিয়ার মাঝে কিছুটা পার্থক্য আছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুসারে, আরও গবেষণা করার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার ধরণ থেকেই কংক্রিটের ফাটল ধরার পূর্বেই সমস্যা নির্ণয় করা সম্ভব হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪৫০০০ এর বেশি ব্রিজে ফাটল ধরার সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া যেহেতু ক্যালসিয়াম কার্বোনেট উৎপন্ন করতে পারে, তাই ভবিষ্যতে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে এই সমস্যা সমাধানের উপায় হয়ত পাওয়া যাবে।

Maresca এর মতে, ব্যাকটেরিয়া গুলো সাধারণত কংক্রিটের জন্য ক্ষতিকারক নয়,বরং প্রয়োজনীয়। অধিকতর গবেষণার মাধ্যমে এ বিষয়ে সফলতা পাওয়া সম্ভব।

-নাজনীন নাহার অনন্যা

বিজ্ঞান পত্রিকার ইউটিউব চ্যানেল চালু হয়েছে।
এই লিংকে ক্লিক করে ইউটিউব চ্যানেল হতে ভিডিও দেখুন।
- Advertisement -

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সম্পর্কিত খবর

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

Stay Connected

যুক্ত থাকুন

302,172ভক্তমত
780গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব

Must Read

সম্পর্কিত পোস্ট

- Advertisement -
- Advertisement -

সবসময়ের জনপ্রিয়

সবচেয়ে আলোচিত

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -