Sunday, September 19, 2021
বাড়িমানবদেহবাতাসের আর্দ্রতা শরীরের অস্বস্তির কারণ হয় কেন?

বাতাসের আর্দ্রতা শরীরের অস্বস্তির কারণ হয় কেন?

- Advertisement -

আর্দ্রতা বলতে বোঝায় বাতাসে উপস্থিত বাষ্প বা পানির পরিমাণ। প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবনে যেনো যন্ত্রণার আরও এক ধাপ যোগ করে দেয় অতিরিক্ত আর্দ্রতার উপস্থিতি। বাতাস এতটাই ভারী মনে হয় যেনো নিঃশ্বাস নেয়াও কষ্টকর। কিন্তু আর্দ্রতার এ অত্যাচার কেনো আমাদের জন্য এতটা অসহ্য হয়ে ওঠে তা কী জানেন? তার কারণ হল অতিরিক্ত আর্দ্রতার উপস্থিতিতে আমাদের শরীর থেকে ঘাম ঝরার সুযোগ পায় না। যার ফলে গরম আরও বেশি অনুভূত হয়।

গ্রীষ্মকালে তাপ প্রদাহে আমাদের ত্বকের উপর বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে। আমাদের শরীরের তাপমাত্রার প্রভাবে অর্থাৎ শরীর হতে বাষ্পীভবনের জন্য প্রয়োজনীয় তাপ তুলে নিয়ে এই ঘাম বাতাসে মিলিয়ে যায়। যার ফলস্বরূপ শরীরের তাপমাত্রা কমে গিয়ে আরাম অনুভূত হয়। কিন্তু বাতাসে যখন আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে তখন এই ঘাম শুকানোর সুযোগ পায় না। কারণ বাতাসে আগে থেকেই যথেষ্ট পানি রয়েছে। আর এতেই ত্বক চিটচিটে হয় এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় ।

শুধু ত্বকের অস্বস্তিই নয়, বরং শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত আর্দ্র বাতাস অত্যন্ত অসুবিধাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। অনেকে হয়ত ভাবতে পারেন যে বাতাসে অতিরিক্ত বাষ্পের উপস্থিতিতে বাতাস হয়ত অত্যন্ত ভারী হয়ে যায়। কিন্তু এমনটা মোটেও নয়। বরং আর্দ্র বাতাস শুষ্ক বাতাসের তুলনায় যথেষ্ট হালকা। আর্দ্র বাতাসে মূলত বাষ্পকণাগুলো এসে আর্দ্র বাতাসে উপস্থিত থাকা কিছু নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেন অণুকে প্রতিস্থাপিত করে। যার ফলে এই আর্দ্র বাতাসের সৃষ্টি হয়। তাই শুধু বাষ্প কণা উপস্থিত থাকায় এটি যথেষ্ট হালকা বাতাস। কিন্তু এই যে অক্সিজেন অণুগুলোকে প্রতিস্থাপন করল যার ফলস্বরূপ বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। অতিরিক্ত দাবদাহে মানুষ যথেষ্ট ক্লান্ত থাকে। আর অক্সিজেনের পরিমাণ বাতাসে কমে যাওয়ার কারণে শ্বাস প্রশ্বাস কাজে অন্য সময়ের তুলনায় পরিশ্রম বেশি হয়। সুতরাং, স্বাভাবিকভাবেই আর্দ্র বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়া শুষ্ক বাতাসের তুলনায় বেশি পরিশ্রমের এবং কষ্টকর।

বায়ুর আর্দ্রতার পরিমাণ কত হলে শরীরের জন্য কষ্টকর তা নির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে গবেষকদের মতে ৫০% আর্দ্রতা শরীরের জন্য কষ্টদায়ক হতে পারে৷ তবে আশার কথা এই যে, আমাদের শরীর যেকোনো তাপমাত্রা কিংবা আর্দ্রতার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। হয়ত তাৎক্ষণিকভাবে নয়,কিছুটা সময় লাগে ,কিন্তু এই সক্ষমতা আমাদের শরীরে আছে৷ উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একটি গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে খাপ খাওয়ানোর জন্য শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী সাধারণত ৯-১৪ দিন সময় লাগতে পারে।

এই আবহাওয়ায় অভ্যস্ত হতে প্রথমত যেটা প্রয়োজন তা হল দেহের রক্ত নালিকাগুলোর প্রসারণ। এই প্রসারণে রক্ত নালিকাগুলো ত্বকের একদম নিচ স্তর পর্যন্ত প্রসারিত হয় এবং দেহ থেকে অতিরিক্ত তাপ পরিবেশে ছেড়ে দিতে সহায়তা করে। এতে আরাম অনুভূত হয়। একইসাথে এই প্রসারিত রক্ত নালিকাগুলো হৃদপিন্ডের স্পন্দন হার কমিয়ে দেয় এবং ঘাম হওয়ার জন্য অতিরিক্ত দেহ রস সরবরাহ করে। প্রায় তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই এই ঘামের পরিমাণ বেড়ে যায়। তবে শারীরিক এই সক্ষমতা কেবল কিছু সময়ের জন্যই। কারণ শরীর চর্চা নিয়মিত ভাবে না করলে তাপের সাথে শরীরের এই খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা হ্রাস পায়।

বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক ঘটনা। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে উষ্ণায়নে যথেষ্ট প্রভাব পড়ছে বিশ্বজুড়ে। নাতিশীতোষ্ণ দেশগুলোতেও আবহাওয়া এবং জলবায়ুর পরিবর্তন স্পষ্ট। আর সেকারণেই তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার পরিমাণে এত অসামঞ্জস্য। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এই উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য বরফ গলছে। এতে যেমন বিশ্ব পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে ,তেমনি আমরাও। আর তারই উদাহরণ হল বিভিন্ন ধরণের শারীরিক সমস্যা। আশা করা যায়, আমাদের কর্মকান্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে যদি আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের খারাপ প্রভাব থেকে যদি বাঁচতে পারি ,তাহলে হয়ত দৈনন্দিন জীবনে আবহাওয়াজনিত সমস্যাগুলোতে আমাদের ভুগতে হবে না। আর সেই সুন্দর পরিবেশ এবং আবহাওয়াই আমাদের কাম্য।

-নাজনীন নাহার অনন্যা

বিজ্ঞান পত্রিকার ইউটিউব চ্যানেল চালু হয়েছে।
এই লিংকে ক্লিক করে ইউটিউব চ্যানেল হতে ভিডিও দেখুন।
- Advertisement -

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সম্পর্কিত খবর

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

Stay Connected

যুক্ত থাকুন

302,509ভক্তমত
779গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব

Must Read

সম্পর্কিত পোস্ট

- Advertisement -
- Advertisement -

সবসময়ের জনপ্রিয়

সবচেয়ে আলোচিত

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -