Monday, August 2, 2021
বাড়িজীবজগৎকেমন করে প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে পুরুষ সিন্ধুঘোটক সন্তান জন্ম দেয়?

কেমন করে প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে পুরুষ সিন্ধুঘোটক সন্তান জন্ম দেয়?

পুরুষ সিন্ধুঘোটকের সন্তান জন্মদান

- Advertisement -

প্রকৃতিতে ভ্রূণের বিকাশ,সন্তান জন্মদান,সন্তানের লালন-পালন মায়েদের দ্বারাই ঘটে। আর সেটিই আপাত দৃষ্টিতে স্বাভাবিক দেখায়। যদিও পৃথিবীতে এমন অনেক জীব রয়েছে যাদের পুরুষ জাতি সন্তান জন্ম না দিতে পারলেও সন্তানের লালন-পালনে মায়েদের থেকেও এগিয়ে থাকে। তবে পৃথিবীতে বিচিত্রিতার খামতি নেই। কিছু কিছু প্রানী যেন প্রকৃতির নিয়মের পুরোই উল্টো দিকে বয়ে চলে,এমনি একটি প্রাণী সিন্ধুঘোটক, যাদের পুরুষ জাতি সন্তান জন্মদানে সক্ষম। 

প্রজনন,ভ্রূণের বিকাশ আর সদ্যোজাত সন্তানের লালন-পালনের দায়ভার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মায়েদের উপরই বর্তায়। সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রাণিদের জন্যে এই নিয়মগুলো যেনো আরো বেশি কড়াকড়িভাবে বাস্তবায়িত হয়। স্ত্রী অক্টোপাস সদ্যোজাত সন্তানের স্বার্থে অনাহারে মারা যায় যেন সে তার সন্তানদের না খেয়ে ফেলে। সিন্ধুঘোটক এইদিক দিয়ে যেন এক ধাপ এগিয়ে। এই প্রজাতির সামুদ্রিক জীবদের পুরুষরা সন্তান জন্মদানে সক্ষম।

মিলনরত অবস্থায় স্ত্রী ও পুরুষ সিন্ধঘটক

সঙ্গীর সাথে মিলনের পর স্ত্রী সিন্ধুঘোটক পুরুষ সিন্ধুঘোটকের পেটের কাছে অবস্থিত একটি  বিশেষ থলিতে ডিম্বাণু রাখে। পুরুষ সিন্ধুঘোটককে এই ডিম্বাণুগুলোর বিকাশের জন্যে এগুলো নিজের থলিতে ২৪ দিন যাবৎ বহন করতে হবে। তবে এর পূর্বে এগুলোকে নিজের শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত করে। সন্তান জন্মদানের দৃশ্যটিও ভিন্নরকম, যেন ছোট্ট সিন্ধুঘোটকরা বাবার পেট ফুঁড়ে বুদবুদের মতো বেরিয়ে আসে। আর একেকটি সিন্ধুঘোটক প্রায় হাজার খানেক ছোট্ট সিন্ধুঘোটকের জন্ম দেয়।

সন্তান জন্ম দিচ্ছে পুরুষ সিন্ধুঘটক

১৫০ বারের বেশি  বিবর্তনের পরও সি-হর্স বা সিন্ধুঘোটক আর এর নিকটতম প্রজাতি পাইপফিশে এটি অনন্য এক ধরনের প্রজনন প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে পুরুষ  সিন্ধুঘোটক আর পাইপফিশরা ভ্রুণের বিকাশ,সন্তান জন্মদান ও লালন এর মতো ভিন্নধর্মী প্রজনন প্রক্রিয়ায় সক্ষম। প্রজনন প্রক্রিয়া এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে ভ্রূনকে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শরীরের বাইরের অংশ হিসেবে গণ্য করে একে আক্রমণ করে না বরং ভ্রুণের বিকাশে সাহায্য করে। কিছু জটিল প্রক্রিয়ায় স্তন্যপায়ীদের দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এমনটা দেখা যায়। তবে এ পর্যন্ত জানা সবচেয়ে ভিন্ন প্রজাতি হলো সিন্ধুঘোটক আর এদের একই গোত্র syngnathids এর পাইপফিশ প্রজাতিটি।

পাইপফিশ; সিন্ধুঘোটকের একই গোত্র syngnathide এর অন্তর্ভুক্ত

প্রকাশিত গবেষণাপত্র অনুযায়ী, সী-হর্স সিন্ধুঘোটকের নিকটতম প্রজাতি পাইপফিশে পুরুষরা সন্তান জন্মদানে সক্ষম। আর এক্ষেত্রে MHC II সহায়ক জিনের ভূমিকা পালন করে, যেন দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এদের ভ্রণকে বহিরাগত বা অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতিকারক উপাদান নিয়ে বিবেচনা না করে। পাইপফিশের কতিপয় জিনের বর্জন এই ধরনের প্রজননে সক্ষমতার কারণ। তবে সিন্ধুঘোটকের CD74 নামের পরিবর্তিত একটি  জিন তাদের ভিন্নধর্মী এই প্রজনন প্রক্রিয়ার জন্য দায়ী। তবে পুরুষতান্ত্রিক প্রজনন ব্যবস্থা জিনতত্ত্বের গবেষণায় নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা।

-হৃদয় বিশ্বাস

বিজ্ঞান পত্রিকার ইউটিউব চ্যানেল চালু হয়েছে।
এই লিংকে ক্লিক করে ইউটিউব চ্যানেল হতে ভিডিও দেখুন।
- Advertisement -

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সম্পর্কিত খবর

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

Stay Connected

যুক্ত থাকুন

302,420ভক্তমত
451গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব

Must Read

সম্পর্কিত পোস্ট

- Advertisement -
- Advertisement -

সবসময়ের জনপ্রিয়

সবচেয়ে আলোচিত

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -