Wednesday, October 13, 2021
বাড়িজ্ঞানবিভ্রাটপকেটে রাখা ফোন প্রায়ই ভাইব্রেশনে আছে মনে হয় কেন?

পকেটে রাখা ফোন প্রায়ই ভাইব্রেশনে আছে মনে হয় কেন?

মোবাইল ফোনের কাল্পনিক ভাইব্রেশন ও রিংটোন

- Advertisement -

পকেটে হয়তো আমার ফোনটা ভাইব্রেশন দিতে দিতে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল। আমাকে হয়ত কারো প্রয়োজন এবং আমাকে  কল ধরতেই হবে। পকেট  হাতড়ে দেখা গেল ফোনটা সেখানে নেই! কেন এমনটা মনে হয়?

সাধারণত আমরা সকলেই নিজেদের ফোন আমাদের ডান পকেটে রাখি সুবিধে মতো বের করতে। অনেক সময় মনে হয় সেটি অফ হয়ে গেলো বা কোনো রিংটোন বা নোটিফিকেশন  বাজলো। কখনো-সখনো হাতের কাছে ফোন না থাকলেও এমনটা অনুভূত হয়।এই ঘটনাটি একটি মনস্তাত্ত্বিক রোগ যার নাম “ফ্যান্টম ভাইব্রেশন সিন্ড্রোম” বা “ফ্যান্টম রিংটোন সিন্ড্রোম বা  রিংজাইটি” এবং ফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতিনিয়ত এর ব্যাপকতা বাড়ছে। শুধু স্মার্টফোনই নয় বাটন ফোন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও এটা হয়।

চিকিৎসাক্ষেত্রে এটি নতুন কিছু নয় বরং অনেক আগে থেকেই মানবদেহে এমনটা লক্ষ্য করা গেছে যা “ফ্যান্টম লিম্ব (অলীক অঙ্গ)” নামে পরিচিত। কোনো অঙ্গ কেটে ফেলা সত্ত্বেও স্নায়ু আগের মতোই সংকেত পাঠায় যেন সেগুলো আগের জায়গাতেই রয়ে গেছে। চশমা পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে চশমা না পরা সত্ত্বেও মন হয় যে চশমা পরে রয়েছি।

অলীক অঙ্গ বা ফ্যান্টম লিম্ব
কোন অঙ্গ কাটা পড়ে গেলেও অনেক সময় সেই অঙ্গ হতে চুলকানি, স্পর্শ ইত্যাদির অনুভূতি বোধ হতে পারে!

তাহলে কেন ফোনের ব্যবহারে এমনটা হয়?

‘ডিসকভারি ফ্যামিলি হেলথ্’ এর মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এলান মোনাভরি বলেন, বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে নিজের দেহের খুব কাছাকাছি ফোন রাখার (বিশেষ করে নিতম্বে) প্রবণতা রয়েছে। যখন ফোনটি  কাঁপে বা বাজে তখন মস্তিষ্ক ফোন উঠাতে হবে বলে সংকেত দেয়। তো বছরখানেক এমনটা প্রতিদিন বারবার হতে থাকলে মস্তিষ্ক তাতে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং অনেক সময় ফোন না বাজলেও ( এমনকি কাছাকাছি না থাকলেও) মনে হয় ফোনটা কাঁপছে। যেমনটা ফ্যান্টম লিম্বের ক্ষেত্রে হয়।

“Computers in Human Behaviour”-এ জার্নালে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৯% শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফ্যান্টম ভাইব্রেশনের প্রভাব রয়েছে বলে দেখা যায় যাদের অধিকাংশই ফোন কল বা মেসেজের প্রতি অত্যধিক সংবেদনশীল।চিকিৎসকদের মতে এটি রোজ রোজ না হলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু অত্যধিক ক্ষেত্রে এটি অস্বাস্থ্যকর। যদি প্রতিদিন এমনটি ঘটে, তাহলে  তা শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপে ব্যাঘাত ঘটায়। অনেক ক্ষেত্রে ফোন  কাঁপছে ভেবে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। তখন শরীরে অত্যধিক এড্রেনালিনের প্রভাবে উচ্চ রক্তচাপ,নিদ্রাহীনতা ও দুশ্চিন্তায় ভুগাবে।

ফ্যান্টম লিম্ব তথ্য

ফ্যান্টম লিম্ব সিন্ড্রোম হতে মুক্ত থাকবেন কেমন করে?

কেউ যদি অত্যধিক সময় মোবাইলের ব্যবহার করে অর্থাৎ মোবাইল যখন অনেকটা নেশায় পরিণত হয় তখন মস্তিষ্ক মোবাইলের প্রতি অত্যধিক সংবেদনশীল হয়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ঘন ঘন এই ব্যাপারটা ঘটলে মোবাইল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে বা বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে যুক্ত হতে হবে। এই কাজটা নেশা ছাড়ার মতো যেহেতু সেটা অভ্যেসে পরিণত হয়েছে। তাই,এক ঝটকায় অভ্যেস পরিবর্তন হবে না উল্টো তা আরো ক্ষতির কারণ হতে পারে। কিছু ধীর পদক্ষেপ সেক্ষেত্রে বেশ কার্যকর। যেমন:

১.গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যতীত ফোনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার পরিত্যাগ করতে হবে। ফোনটাকে শরীরের সংস্পর্শে না রেখে অন্য কোথাও (যেমন ব্যাগে) রাখা যেতে পারে।

২.কারো সাহায্য নিয়ে কি কারণে অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার  করছেন তা চিহ্নিত করে সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে।

৩. রোজ কিছু নির্দিষ্ট সময় ছাড়া মোবাইলের ব্যবহার সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করতে হবে। এই কাজটি বলা যতটা সহজ করা তার চেয়েও কঠিন কিন্তু স্বল্প সময়ে প্রতিকারের পন্থা গ্রহণ করতে হবে। সেইজন্যে বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে (যেমনঃ শখের কাজে, ভ্রমণ বা ব্যায়ামে)  নিজেকে যুক্ত করতে হবে।

৪. কোনো প্রয়োজন ছাড়া যেন কেউ আপনাকে বিরক্ত না করে সেইজন্যে খোলাখুলিভাবে বন্ধু বা আত্মীয়দের সাথে কথা বলতে পারেন।

৫.ঘুমানোর সময় মোবাইল নিজের কাছ থেকে দূরে রাখুন। নয়ত সেটি ধীরে ধীরে আপনার নিদ্রাহীনতার কারণ হবে।

৬. অত্যধিক সংবেদনশীল ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ফলপ্রসূ।

যদিও সমস্যাটি নিতান্তই সাধারণ তাও এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক রোগ। এর প্রতিক্রিয়া হয়ত ধীর কিন্তু এটি একসময় বিরাট সমস্যার কারণ হতে পারে। কথায় আছে,”অতিরিক্ত যেকোনোকিছুই বিষতুল্য”।

-হৃদয় বিশ্বাস

তথ্যসূত্র:
১. https://ca.sports.yahoo.com/blogs/dailybrew/did-you-feel-that-tips-to-curb-phantom-vibration-164929399.html
২.https://en.m.wikipedia.org/wiki/Phantom_limb#:~:text=A%20phantom%20limb%20is%20the,experience%20painful%20phantom%20limb%20sensation.
৩. https://www.news-medical.net/amp/health/What-is-a-Phantom-Limb.aspx

ছবির ক্রেটিড: NPR ( npr.org )

বিজ্ঞান পত্রিকার ইউটিউব চ্যানেল চালু হয়েছে।
এই লিংকে ক্লিক করে ইউটিউব চ্যানেল হতে ভিডিও দেখুন।
- Advertisement -

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সম্পর্কিত খবর

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

Stay Connected

যুক্ত থাকুন

302,182ভক্তমত
780গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব

Must Read

সম্পর্কিত পোস্ট

- Advertisement -
- Advertisement -

সবসময়ের জনপ্রিয়

সবচেয়ে আলোচিত

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -