Monday, September 20, 2021
বাড়িইতিহাসছায়াপথের আদলে সাজানো মধ্যযুগীয় ইসলামিক সমাধি আবিষ্কৃত হয়েছে সুদানে

ছায়াপথের আদলে সাজানো মধ্যযুগীয় ইসলামিক সমাধি আবিষ্কৃত হয়েছে সুদানে

- Advertisement -

মধ্যযুগীয় ইসলামিক সমাধি! উত্তর সুদানের কয়েকজন প্রত্নতত্ত্ববিদ হাজার হাজার ইসলামিক সমাধী আবিষ্কার করেছেন যেগুলো ছায়াপথের আদালে সাজানো। “Parent tomb” এর আশপাশ দিয়ে এগুলো সাজানো রয়েছে।

ওয়েন জারুস এর রিপোর্ট অনুযায়ী কাসালা নামক অঙ্গরাজ্যে এই সমাধিস্তম্ভ গুলো আবিষ্কার করা হয়। এই গবেষণা দলটি ১৬০০ বর্গমাইলে প্রায় ১০,০০০ এরও বেশি সমাধিস্তম্ভ নিশ্চিত করেন স্যাটেলাইট ছবিতে।

ন্যাপলস বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রত্নতাত্ত্বিক  স্টেফানো কস্টানজো বলেন,  খালি চোখে দেখলে মনে হবে প্রকৃতির কারণে এই সমাধিস্তম্ভ গুলো টিকে রয়েছে। কিন্তু এগুলোকে যেভাবে সাজানো হয়েছে তাতেই রয়েছে আসল রহস্য।

কস্টানজো এবং তার সহকর্মীবৃন্দ “Neyman Scott Cluster Process” ব্যবহার করেন যা নক্ষত্র এবং ছায়াপথের দূরত্ব সংক্রান্ত বিন্যাস নিয়ে গবেষনা করতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে তাঁরা সমাধিগুলোর বিস্তারিত জানতে পারবেন। এই সমাধিগুলো হল “qubbas” প্রকৃতির যার ইতিহাস এবং নকশা নিয়ে কিছুটা দ্বন্দ্ব রয়েছে। এতে “tumuli” পাথর ব্যবহৃত হয় যার গঠন অত্যন্ত সরল এবং আফ্রিকান ইতিহাসে এদের স্থান পাওয়া যায়।

বিশ্লেষণে পাওয়া যায়,  এতে ৬টি ক্লাস্টার রয়েছে যার অধীনে কিছু গ্রুপে সমাধিগুলো করা হয়েছে। সংস্কৃতিগত বিবেচনায় “Parent tomb” গুলো সর্বাধিক পুরোনো যা ছায়াপথের কেন্দ্রের মত কাজ করে। অন্য সমাধিগুলোর বিন্যাস দেখে মনে হয় যেনো সেগুলো গ্যালাক্টিক ডিস্ক থেকে ছুটে আসা তারার মত।

পুরোনো এবং বড় সমাধিগুলোর প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবহৃত পদার্থগুলোও নজর কাড়ার মত। ধারণা করা হয়, যাযাবর পর্যায়ের বেজা উপজাতির জনগণ পারিবারিক বা আদিবাসীয় কবরস্থান হিসেবে এই সমাধিগুলো গড়েছিলেন। বেজা জাতির মানুষ প্রায় ২০০০ বছর এই অঞ্চলে ছিল। অন্য কোনো জাতির পূর্বে এখানে এই জাতি শনাক্ত করা হয়।

ফেয়ারফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জিওভান্নি রাফিনি বলেন,  গবেষকরা ধারণা করেন যে বেজা গ্রুপের বিভিন্ন তথ্য এই সমাধিগুলো থেকে পাওয়া যাবে। এই সমাধিগুলো ভৌগলিক এবং সামাজিক বিষয়গুলো দ্বারা প্রভাবিত ছিল।

Sudanese National Corporation for Antiquities and Museums এর একজন প্রত্নতাত্ত্বিক হাবাব ইদ্রিস আহমেদ বলেন, এ ধরণের আবিষ্কার প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে অনেক তথ্য দিতে পারে। যতদূর পর্যন্ত এই কবরস্থানগুলো রয়েছে ততদূর পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানা সম্ভব।

কাসালা এর আঞ্চলিক প্রত্নতাত্ত্বিক যারা বিজ্ঞদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেন তারা এই সমাধিগুলো নিয়ে অনেক কাজ করেছেন।  তবে এই অঞ্চলের অবকাঠামোগত অসুবিধা এবং শহরাঞ্চলের সুযোগ সুবিধা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এই কাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। আসলেই এই উত্তর সুদান অঞ্চলটি শুধু সোনার খননের কাজের জন্য প্রসিদ্ধ হওয়া উচিৎ নয়। বরং এর সমাধিস্থলগুলো এতটাই সমৃদ্ধ যে এর ঐতিহাসিক স্থান হিসেবেও পরিচিতি প্রাপ্তি আবশ্যক।

শুধু পুরোনো সমাধিই নয়, বরং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থান এই সুদানে রয়েছে। সুদান প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে বেশ সমৃদ্ধ। নীল উপত্যকার সভ্যতার সমৃদ্ধতায় পূর্ণ এই সুদান। এছাড়াও সহস্রাব্দ পুরোনো পিরামিড রয়েছে এখানে যা প্রায় ১০০ ফিট লম্বা।

এই বছরের শুরুর দিকেই গবেষকদের অন্য একটি দল উত্তর সুদানে একটি মধ্যযুগীয় ক্যাথেড্রাল বা বৃহৎ গীর্জা আবিষ্কার করেছে। প্রত্নতত্ত্ববিদ আর্থার ওবলুস্কি বলেন ১০০০ বছর ধরে খ্রিস্টানদের শক্তির স্বরূপ হিসেবে রয়েছে ঐ গীর্জা।

-জান্নাতুন নাহার অনন্যা

বিজ্ঞান পত্রিকার ইউটিউব চ্যানেল চালু হয়েছে।
এই লিংকে ক্লিক করে ইউটিউব চ্যানেল হতে ভিডিও দেখুন।
- Advertisement -

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সম্পর্কিত খবর

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

Stay Connected

যুক্ত থাকুন

302,492ভক্তমত
779গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব

Must Read

সম্পর্কিত পোস্ট

- Advertisement -
- Advertisement -

সবসময়ের জনপ্রিয়

সবচেয়ে আলোচিত

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -