Sunday, October 17, 2021
বাড়িজীবজগৎশিকারী মাকড়শার ফাঁদে গেছো-ব্যাঙ

শিকারী মাকড়শার ফাঁদে গেছো-ব্যাঙ

মাকড়শার শিকার গেছো ব্যাঙ

- Advertisement -

মাদাগাস্কারের শিকারী মাকড়শা সাধারণত ছোট ছোট ব্যাঙ খেয়ে থাকে। প্রাণীবিজ্ঞানীদের ধারণা এই মাকড়শাগুলো তাদের শিকার ধরার জন্যে পাতার তৈরি এক ধরণের ফাঁদ পাতে এবং ব্যাঙেরা সূর্যের প্রখর তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার আশায় ঐ ফাঁদে আশ্রয় নিতে গিয়ে ধরা পড়ে।

২০১৭ সালে, গবেষকেরা দ্বিতীয়বারের মত মাদাগাস্কারের Damastes বর্গের একটি মাকড়শাকে Heterixalus andrakata নামের একটি গেছো-ব্যাঙকে কামড়ে ধরে থাকতে দেখেন। গবেষকেরা দেখলেন, তখনো গাছের সঙ্গে লেগে থাকা দুটি পাতা দিয়ে বোনা ছোট্ট একটা আস্তানার মধ্যে বসে মাকড়শাটি মনের সুখে ব্যাঙ খাচ্ছে। সামান্য একটু ফাঁকা রেখে গাছের পাতার বাকি সবটুকু প্রান্ত মাকড়শার জাল দিয়ে ভালভাবে আটকানো।

বিজ্ঞানীরা পরবর্তীতে এরকম পাতার তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়স্থলে আরো তিনটি মাকড়শাকে গুটিসুটি মেরে অবস্থান করতে দেখেছেন। যদিও বা ঐ তিনটি মাকড়শার একটিকেও ব্যাঙ খাওয়া অবস্থায় দেখা যায়নি, আগের পর্যবেক্ষণ থেকে এই ধারণা করা যায় যে, মাকড়শাগুলো ছায়াযুক্ত আশ্রয়স্থল খুঁজতে থাকা ব্যাঙ শিকার করার জন্যে এই ধরণের খুপরির মত পাতার ফাঁদ তৈরি করে।

পৃথিবী জুড়ে মাকড়শারা প্রতি বছর ৮৮০ মিলিয়ন টন পর্যন্ত পোকামাকড় খেয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, এরা মেরুদন্ডী প্রাণীও খেয়ে থাকে। লাইভ সায়েন্স এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেরুর আমাজন বনে ক্রান্তীয় অঞ্চলের মাকড়শারা প্রচুর পরিমানে গিরগিটি, মাছ, ব্যাঙ এবং অন্যান্য ছোট মেরুদন্ডী স্তন্যপায়ী প্রাণী খেয়ে থাকে। একমাত্র এন্টার্কটিকা ছাড়া বাকি সব মহাদেশে বাদুরখেকো মাকড়শা পাওয়া যায়। মাকড়শার বিচিত্র খাদ্যাভাসের ভাইরাল হওয়া বেশ কিছু ছবি পাওয়া যায়। মাকড়শাদের পশ্চিম ভারতে ব্যাঙাচি, দক্ষিণ আফ্রিকায় পোষা গোল্ডফিশ এবং দক্ষিণ তাসমানিয়ায় একটি পিগমি পোসামকে খেতে দেখা গেছে। জার্মানির গ্যাটিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থানবিদ্যা বিভাগের গবেষক, ডমিনিক মার্টিন জানান, H. andrakata ব্যাঙের দৈর্ঘ্য এক ইঞ্চি (৩২ মিলিমিটার) যা শিকারী Damastes মাকড়শার চেয়ে সামান্য বড়। মার্টিন মাকড়শাদের পাতার ফাঁদ নিয়ে ২০২০ সালের ১১ই ডিসেম্বর “ইকোলোজি এন্ড ইভোলিউশন” জার্নালে একটি অনলাইন গবেষণা পত্র প্রকাশ করেন। গবেষকেরা আবিষ্কার করেন যে, ব্যাঙখেকো মাকড়শাটি জাল দিয়ে বোনা এক জোড়া পাতার মাঝে লুকিয়ে থেকে ব্যাঙের মাথা কামড়ে ধরে আছে। ব্যাঙটি কোন নড়াচড়া করছিল না দেখে ওটিকে মৃত বলেই গবেষকেরা ধরে নেন। গাছটির পাশেই আরো চারটি জীবিত ব্যাঙ পাওয়া গিয়েছিল।

একটি Damastes মাকড়শা একটি Heterixalus andrakata গেছো ব্যাঙকে শিকাররত অবস্থায়। ছবি: ফুলগ্যান্স থিও রসিন

পরবর্তীতে ২০১৭ এবং ২০১৮ সনে মার্টিন এবং তার সহকর্মীরা ভিন্ন ভিন্ন গাছে একই রকমের পাতার ফাঁদের মধ্যে তিনটি মাকড়শাকে লুকিয়ে থাকতে দেখেন। তাঁরা বলেন, পাতাগুলো কিনারার দিকে জাল দিয়ে বোনা ছিল এবং পত্রবৃন্তের গোড়ার দিকের মুখটা ছোট করে খোলা ছিল যাতে করে শিকার গাছ বেয়ে ঐ ফাঁদে গিয়ে পড়তে পারে।

মাকড়শারা এমন জায়গায় আস্তানা বানায়, যেখানে তারা শিকারীদের কাছ থেকে নিজেদের লুকিয়ে রাখতে পারে এবং নিজেরা সম্ভাব্য শিকারের আশায় অপেক্ষা করে। মার্টিন লাইভসায়েন্স-কে আরো জানান, শিকারী মাকড়শাগুলোর আচরণ দেখে এটা মনে হয় যে, দিনের বেলায় আশ্রয় খুঁজতে থাকা ব্যাঙ শিকারের উদ্দেশ্যে এইসব মাকড়শারা পাতার ফাঁদ বুনে থাকতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু নজির পেয়েছেন যেখানে দেখা গেছে জাল দিয়ে দুটি পাতার কিনারা জুড়ে দিয়ে ছোট আস্তানা বানিয়ে তাতে মাকড়শারা লুকিয়ে থাকে। ছবি: ফুলগ্যান্স থিও রসিন

তিনি বলেন, ব্যাঙেরা পানিশূন্যতা এবং পাখির মত শিকারীদের হাত থেকে বাঁচার জন্যে খুব সুন্দর করে বোনা পাতার মাঝখানে আশ্রয় নিতে প্রলুব্ধ হয়ে থাকতে পারে।

এ ধরণের শিকারের কৌশল এবং আদৌ এইগুলো উভচর, কীটপতঙ্গ এবং অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী ধরার ফাঁদ কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্যে মাকড়শাদের এই ধরণের ফাঁদ বানানো, শিকারের অপেক্ষায় ফাঁদের ভিতরে বসে থাকা এবং শেষ পর্যন্ত শিকার ধরার পুরো প্রক্রিয়াটি ক্যামেরা দ্বারা পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন। তবে মাকড়শা না খেয়ে অনেকদিন বেঁচে থাকতে পারে। তাই এই ধরণের দূর্লভ ঘটনার ভিডিও ধারণ করা খুব কষ্টসাধ্য ব্যপার।

Livescienceঅবলম্বনে
পুলক বড়ুয়া

বিজ্ঞান পত্রিকার ইউটিউব চ্যানেল চালু হয়েছে।
এই লিংকে ক্লিক করে ইউটিউব চ্যানেল হতে ভিডিও দেখুন।
- Advertisement -

2 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সম্পর্কিত খবর

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

Stay Connected

যুক্ত থাকুন

302,137ভক্তমত
781গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব

Must Read

সম্পর্কিত পোস্ট

- Advertisement -
- Advertisement -

সবসময়ের জনপ্রিয়

সবচেয়ে আলোচিত

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -