ভাসমান সৌরপ্যানেল উদ্ভাবনে সৌরবিদ্যুতের ব্যপক বিস্তারের সম্ভাবনা

0
195

প্রচলিত শক্তির উৎসগুলোর সাথে দামের সমতা চলে আসায় সৌরশক্তির প্রচলন বাড়বে বলে ধারনা করা হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি এবং ক্রেতাদের কাছে সহজে ব্যবহারযোগ্য হওয়াতেই এই ধরনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নরওয়ের কোম্পানী ওশেন সান এই সপ্তাহে ভাসমান সৌর প্যানেল প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ঘোষনা দিলে এই ধরনের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এই প্যানেলগুলোকে যেকোনো জলাধারের উপরে, জলবিদ্যুতের বাঁধে কিংবা শহরের কাছে অগভীর সমুদ্রে স্থাপন করা যাবে খুব সহজে।

এই সৌরপ্যানেল এবং এদের ভাসার উপকরণ তৈরির জন্য ইতিমধ্যে চীন, ভারত ও দক্ষিনপূর্ব এশিয়ার কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের পূর্ববর্তী একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী সারা বিশ্বে এই ভাসমান সৌরপ্যানেলের চাহিদা হতে পারে ৪০০ গিগা ওয়াটের মতো। যা বর্তমানে স্থলভাগে স্থাপিত সৌরপ্যানেল ক্ষমতার কাছাকাছি। এই প্রযুক্তি ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও আকর্ষনীয় হবে। বিশেষ করে নরওয়ের মতো দেশ যাদের প্রচুর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের জলাধারগুলোর কেবল ৩% থেকে ৪% পৃষ্ঠে সৌরপ্যানেল বসিয়েই জলবিদ্যুতের সমপরিমান বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এর ফলে পানির প্রাপ্যতা কমে গেলেও বিদ্যুৎউৎপাদন অব্যহত থাকবে সবসময়। এবং দিনের বেলায় সৌরপ্যানেলের মাধ্যমে এবং রাতের বেলায় বাঁধের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।

স্থলের প্যানেলের চেয়ে জলজ প্যানেলগুলোর দাম কিছুটা বেশী পড়লেও এগুলোর চালানোর খরচ অপেক্ষাকৃত কম হবে। কেননা, শীতলকারক হিসেবে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় পানি থাকবে এদের সংলগ্ন যার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে না। বিশ্বব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী মানবসৃষ্ট জলাধারে ব্যবহারের জন্যই ভাসমান সৌরপ্যানেলের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। আর যদি এগুলো সমুদ্রতটবর্তী অঞ্চলে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয় তাহলে চাহিদা হবে আকাশচুম্বী। [Scientific American অবলম্বনে]

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.