খাবার খাওয়ানোর বিনিময়ে কাকেদের কাছ থেকে উপহার পেয়ে আসছে আট বছরের শিশু

0
533

ওয়াশিংটনের সিয়াটলের বাসিন্দা আটবছরের শিশু গ্যাবি ম্যান চার বছর ধরে তার এলাকার কাকেদের খাবার খাইয়ে আসছে। তার বিনিময়ে কাকেদের কাছ থেকে নিয়মিত উপহার পেয়ে আসছে সে!

এই উপহারের মধ্যে রয়েছে পুতি, মসৃণ পাথর, লেগো, ধাতব বস্তু, পেপার ক্লিপ, বোতাম এবং ফোমের টুকরা। বিশেষতঃ চকচকে, বর্ণিল, মুখেবহনযোগ্য কোনো কিছুকে তারা মূল্যবান মনে করে দিয়ে যায়। গ্যাবি প্রতিটি জিনিসকে ভালোভাবে সংরক্ষণ করে রেখেছে এবং উপহার পাওয়ার দিন-তারিখসহ বর্ণনা লিপিবদ্ধ করে রেখেছে।

কাকেদের খাবার খাওয়ানোর বিষয়টি চালু হয় দৈবভাবে। গ্যাবির খাবার ফেলে দেওয়ার অভ্যেস ছিল। একদিন গাড়ি থেকে নেমে একটি চিকেন নাগেট ফেলে দেওয়ার পর দেখা গেলো অনেকগুলো কাক এসে সেটি নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু করেছে। তারপর থেকে সে তার যাওয়া-আসার পথে গাড়ি থেকে নেমে কাকেদের খাবার দিতে শুরু করে। কাকেরা যখন বুঝে ফেলল গ্যাবি প্রতিদিন গাড়ি থেকে নেমে এসে খাবার দিয়ে যায় তাই তারআ তার জন্য অপেক্ষা করতে শুরু করল এবং দেখা গেলে গ্যাবি এবং তার ভাইয়ের অধিকাংশ টিফিন কাকেরা খেয়ে ফেলছে। তবে তাদের মা এতে অখুশী নন বরং অল্প সময়ের মধ্যে পুরো পরিবার কাকেদের প্রতি করুনাসিক্ত হয়ে উঠল।

প্রতিদিন সকালে গ্যাবি এবং তার মা তাদের বাড়ির পেছনের উঠানে কাকেদের জন্য বাদাম ও কুকুরের জন্য তৈরি খাবার রেখে যায় এবং চৌবাচ্চার পানি বদলে দিয়ে যায়। এখান থেকেই ধীরে ধীরে কাকেদের মধ্যে উপহার নিয়ে আসার অভ্যাস শুরু হয়।

গ্যাবির সবচেয়ে পছন্দের উপহারটি হলো হৃদয় আকৃতির একটি মুক্তো-বর্ণের পুতি। আরেকটি পছন্দের উপহার হলো একটি ধাতব খন্ড যার উপরে লেখা ‘best’। গ্যাবি ভাবতে পছন্দ করে প্লেটের আরেকটি টুকরা কাক নিজের কাছে রেখে দিয়েছে যার গায়ে লেখা ‘friend’। উপহারের তালিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিসও রয়েছে। একবার গলির মাথায় ছবি তুলতে গিয়ে গ্যাবির মা লিসা তাঁর লেন্স ক্যাপটি হারিয়ে ফেলেন। পরে একটি কাক এসে ক্যাপটি দিয়ে যায়। তিনি প্রথমে নিশ্চিত ছিলেন না কাকই ক্যাপটি নিয়ে এসেছে। কিন্তু বাড়িতে পাখি দেখার জন্য লাগানো ক্যামেরার ভিডিওতে তিন দেখতে পান একটি কাক ক্যাপটি নিয়ে এসে চৌবাচ্চার পানিতে বার বার চুবিয়ে নিচ্ছে। অবশ্য উপহারের সব জিনিসই যে খুব চমৎকার তা নয়। একবার একটি কাক পঁচতে থাকা কাঁকড়ার দাঁড়া নিয়ে এসেছিল।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রানী বিভাগের অধ্যাপক জন মারজলুফ গ্যাবির এই ঘটনার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হতে লোকেদের পরামর্শ দেন এবং বলেন, “যদি আপনারা কাকের সাথে বন্ধন তৈরি করতে চান তাহলে তাদের নিয়মিত সেবা করে যান।” মারজলুফ একজন কাক বিশেষজ্ঞ এবং কাকেদের নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছেন। তিনি বলেন, কাকের সাথে ভালো আত্মীয়তা তৈরি করা খুবই সম্ভব তবে তারা যে উপহার নিয়ে আসবেই সেই নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। তিনি অন্যান্য লোকেদেরও কাকের কাছ থেকে উপহার পেতে দেখেছেন যদিও নিজে কখনো পাননি। উপহারগুলো সবসময় সুন্দর ও চকচকে হয় না। মারজুফলার বলেন, তিনি অনেক সময় মানুষের কাছে মৃত বাচ্চা নিয়ে আসতে দেখেছেন কাকেদের।

পাখিদের মধ্যে কাকেদের বুদ্ধিমত্তা চমকপ্রদ। আমরা অনেকেই ছোটবেলায় কলসির পানিতে কাকের পাথর ডুবিয়ে উচ্চতা বাড়িয়ে পানি পানের গল্প পড়েছি। এই গল্প কতটা সত্য জানিনা তবে বাস্তবেই কাকেরা বুদ্ধি খাটিয়ে অনেক কাজ করে। এদের বুদ্ধিমত্তাকে সাত বছরের মানব শিশুর বুদ্ধিমত্তার সাথে সমতুল মনে করা হয়। গবেষণাগারে এদের জটিল ধাঁধার সমাধান করে এবং টুল ব্যবহার করে খাবার বের করে খেতে দেখা গেছে। জাপানের টোকিওর রাস্তায় কাকেরা লাল বাতির জন্য অপেক্ষা করে। গাড়ি থেমে গেলে তারা গাড়ির চাকার নিচে ওয়ালনাট রেখে যায়। গাড়ি চাপা দিয়ে সেগুলো ভেঙ্গে দিলে তারা ভেতরের বাদাম খেয়ে নেয়। জাপানে একবার একজন যাত্রীর ক্রেডিটকার্ড তুলে নিয়ে ট্রেনের টিকিট কাটার চেষ্টা করতেও দেখা গেছে একটি কাককে!

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক

বিজ্ঞান পত্রিকা প্রকাশিত ভিডিওগুলো দেখতে পাবেন ইউটিউবে। লিংক:
১. স্পেস এক্সের মঙ্গলে মানব বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা
২. মাইক্রোস্কোপের নিচের দুনিয়া

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.