গবেষকগণ দেখতে পেয়েছেন কৃত্রিম আলো পরাগায়নের বৈশ্বিক ঝুঁকি তৈরি করছে। নিশাচর পরাগায়নের প্রানীরা কৃত্রিম আলোয় ভ্রমন কমিয়ে দেওয়ায় এর মাধ্যমে পরাগায়ন পূর্বের তুলনায় ৬২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই ক্রমহ্রাসের প্রভাব পড়েছে ফল উৎপাদনে।

সারা বিশ্বে পরাগায়নকারী পতঙ্গের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে যা বন্য উদ্ভিদ এবং ফসল উৎপাদনের জন্য বিশাল হুমকী।

নিশাচর পতঙ্গরা তীব্র আলোর কারণে খুব সহজেই পরাগায়নের কাজ হতে বিচ্যুত হতে পারে। গাছের ফলসৃষ্টির সুচনা হয় ফুল ফোটার মাধ্যমে। কিন্তু সব ফুলই ফলে পরিণত হয় না। ফুল হতে ফলে পরিণত হওয়ার জন্য বেশ কিছু প্রভাবক এবং ধাপ কাজ করে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটি হলো পরাগায়ণ এবং বিপুল পরিমাণ উদ্ভিদের ক্ষেত্রে কাজটি ঘটে পতঙ্গের মাধ্যমে।

কিন্তু মানবসৃষ্ট নানাবিধ কারণ যেমন বাসস্থান ধ্বংসকরণ, নির্বিচারে কীটনাশক ব্যবহার, বহিরাগত প্রজাতির অনুপ্রবেশ এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে সারা বিশ্বের পতঙ্গের পরিমান দ্রুত হারে হ্রাস পাচ্ছে।

তবে এসব কারণের পাশাপাশি সাম্প্রতিক গবেষণায় আরেকটি কারণ উঠে এসেছে- রাতের কৃত্রিম আলো। সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব বার্নের ড. ইভা নপের নেতৃত্বে একদল গবেষক এমনটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। ড. নপ বলেন, “আমাদের গবেষণায় দেখে গেছে এটি খুবই স্বাভাবিক যে গাছেরা দিন এবং রাতে উভয় সময়ই পরাগায়ন করে এবং তার জন্য রয়েছে দিন ও রাতের পরাগায়নকারী পতঙ্গ। রাতের বেলায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একধরনের গন্ধ নিশাচর পরাগায়নকারীদের আকৃষ্ট করে। কিন্তু এর সাথে দৃষ্টীয় বিষয়ও জড়িত কেননা নিশাচর পতঙ্গদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তীব্র আলোক সংবেদী চোখ থাকে।”

পরাগায়নের উপর মৌমাছির ভুমিকার কথা আমরা জানি, কিন্তু এর বাইরেও একদল নিশাচর পতঙ্গ রয়েছে যাদের ব্যাপারে আমরা খুব সচেতন নই। ড. নপের গবেষনায় উল্লেখযোগ্য নিশাচর পরাগায়নকারী পতঙ্গের মধ্যে রয়েছে গুবরে পোকা, মথ, ছারপোকা ইত্যাদি।

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক