বেশ কয়েক বছর ধরেই নাসা মঙ্গলে মানুষ পাঠানো নিয়ে কথা বলে আসছে এবং এই বিষয়ক হালনাগাদ পরিকল্পনা প্রকাশ করছে। দুর্ভাগ্যবশতঃ নাসার মানব মহাশূন্য অভিযানের প্রধান, উইলিয়াম এইচ. গারস্টেনমেইয়ার ঘোষনা করেছেন প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে মঙ্গল অভিযানের লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে পারবে না।

গত বুধবারে অনুষ্ঠিত জ্যোতির্বিদ্যার একটি সভায় তিনি বলেন, ” আমি মঙ্গলে মানুষ পৌঁছানোর একটি তারিখ দিতে পারছি না। কেননা, বর্তমান যে বরাদ্দ আমাদের দেওয়া হয়েছে তা মাত্র ২ শতাংশ বেশী, যা দিয়ে আমরা মঙ্গল অভিযানের পরিকল্পনা করতে পারব না। মঙ্গলের বায়ুমন্ডলে প্রবেশ, অধোগমন এবং অবতরণ খুবই চ্যালেঞ্জিং বিষয়।”

বস্তুতপক্ষে, নাসার SLS এবং ওরিয়ন রকেট তৈরি করতে গিয়ে প্রচুর ব্যয় হয়েছে, ফলে নতুন করে মঙ্গলে অবতরণ কিংবা মঙ্গল পৃষ্ঠ হতে উৎক্ষেপণের নভোযান তৈরি করার মতো সামর্থ এই মূহুর্তে নাসার নেই।

নাসার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে এর ভবিষ্যৎ অর্থ বরাদ্দের উপর। এই মূহুর্ত গারস্টেনমেইয়ারের তথ্য অনুযায়ী নাসা চন্দ্রাভিযানের প্রতিই বেশী উৎসাহী। এই চন্দ্রাভিযান শুধু মঙ্গলপৃষ্ঠে একটি উৎক্ষেপন পাতাটনই তৈরি করবে না বরং এর মাধ্যমে একটি বিপুলাকার চন্দ্রাভিযান পরিকল্পনা এবং গবেষণা প্রকল্প কার্যকর করা হবে।

সৌভাগ্যবশতঃ লাল গ্রহের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমাদের কেবল নাসার উপর নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে না। মঙ্গলে মানুষ নিয়ে যাওয়া একটি দলীয় প্রয়াস। নাসার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকান্ড নির্ভর করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের চিন্তা-ধারা এবং বাজেট প্রনয়নের উপর। তারা তাদের বাজেট অনুযায়ীই কেবল কাজ করতে পারে। তাদের উদ্যোগগুলো এগিয়ে নেওয়ার জন্য তারা ব্যক্তিউদ্যোগের প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে পারে।

এই ক্ষেত্রে স্পেস এক্সের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। এই ব্যক্তিউদ্যোগে স্থাপিত মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র যার উদ্যোক্তা ইলোন মাস্ক। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা পেশ করে আসছেন। এই মাসেই তিনি ঘোষনা দিয়েছেন ২০১৮ সালে তিনি মঙ্গলে মনুষ্যবিহীন একটি অভিযান এবং ২০২৫ সাথে মনুষ্যবাহী অভিযান পরিচালনা করবেন।

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক