এতদিন আমাদের যা ধারনা ছিলো তার চেয়ে অনেক বেশী পানি রয়েছে চাঁদে। উপগ্রহ থেকে পাওয়া নতুন উপাত্ত অনুযায়ী এমনই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

এই আশাতীত নতুন তথ্যের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আমাদের ধুষর সঙ্গী চাঁদের উৎপত্তি ও গঠনের ব্যাপারে আরো বিবর্ধিত জ্ঞান লাভ করবেন। এবং চাঁদের এই বৈশিষ্ট্য চাঁদের ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য মনুষ্যবাহী অভিযানগুলো আরো সহজতর করবে।

দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের ধারনা ছিলো চাঁদ একেবারেই শুকনো খড় খড়ে। এর পৃষ্ঠে রয়েছে অতিধুলো-বালিময় পরিবেশ। এতে উল্লেখযোগ্য বায়ুমন্ডল নেই এবং দিনের বেলায় তাপমাত্রা চরমে পৌঁছায়। এছাড়া এর মাধ্যকর্ষন পানি ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়।

কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা হতে দেখা যায় চাঁদে বেশ কয়েক ধরনের পানি রয়েছে। ২০০৯ সালে নাসা ইচ্ছাকৃতভাবে এর একটি মহাকাশযান LCROSS কে চাঁদের দক্ষিন মেরুতে আছড়ে ফেলে যার ফলে সংঘর্ষের ফলে উদগত হয়ে আসা জঞ্জালে বিপুল পানির বরফের উপস্থিতি দেখা যায়।

এই বরফের সঞ্চয়কে কয়েকশ’ কোটি বছরের পুরোনো এবং কেবল চাঁদ দুই মেরুর ফাটলের মধ্যে পুঞ্জীভুত বলে তখন ধারনা করা হয়। কিন্তু এই পানি প্রথম থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলো না। গবেষকগণ ধারনা করেছেন বাহ্যিক বল যেমন সৌর ঝড় ইত্যাদি চাঁদের দুই মেরুতে যথাযথ রাসায়নিক প্রক্রিয়া চালিয়ে এই বরফ তৈরি করেছে। প্রকৃতপক্ষে সমগ্র চাঁদের পৃষ্ঠ জুড়েই অত্যন্ত ক্ষুদ্রপরিমানে আটকে থাকা পানির উপস্থিতি রয়েছে।

কয়েকটি অ্যাপোলো মিশনে যেসব নভোচারী চাঁদে গিয়েছিলেন তাঁদের বহন করে নিয়ে আসা চাঁদের শিলার নমুনা ২০০৮ সালে পুনরায় বিশ্লেষণ করে দেখা যায় এই শিলায় সামান্য পরিমান পানির উপস্থিতি রয়েছে যা ছোট কাচের নুড়িতে লেগে থাকে।

এই কাচের নুড়িগুলো প্রায় ১০ কোটি বছর আগে আগ্নেয়গিরির আগ্ন্যুৎপাতের সময় উদ্গত হয়েছে। চাঁদ সেই সময়েও ভুতাত্ত্বিকভাবে যথেষ্ট সক্রিয় ছিলো। সেই সময় চাঁদের উত্তপ্ত কোর এবং আগ্নেয়গিরি ছিলো।

চাঁদের নিজস্ব ভুতত্ত্বে আটকে যাওয়া এই পানির উৎস স্থানীয় বা আদিম। অর্থাৎ চাঁদ সৃষ্টির সময় যখন কেবল বস্তুর স্তুপ ছিলো তখন থেকেই এই পানি বিদ্যমান। তবে পৃষ্ঠের পানি উপস্থিতি দেখে বিজ্ঞানীরা ধারনা করতে পারেন নি চাঁদে সত্যিই ভুগর্ভস্থ কোনো পানির স্তর রয়েছে কিনা।

এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য চন্দ্র গবেষক র‌্যালফ মিলিক্যান ভারতের পাঠানো চাঁদের আবর্তনকারী চন্দ্রায়ন-১ মহাকাশ গবেষনা কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এই গবেষণাকেন্দ্রে খনিজ অনুসন্ধানমূলক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা রয়েছে।

অ্যাপোলো মিশনের নমুনা, চাঁদের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার মানচিত্র, চন্দ্রায়ন-১ এর তথ্য সবকিছু মিলিয়ে গবেষকগণ দেখতে পান চাঁদের সর্বত্র অ্যাগ্নুৎপাতের ফলে সৃষ্ট আগ্নেয় বরফের উপস্থিতি রয়েছে। এই বরফ কিছু কিছু স্থানে হাজার হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। এই বরফ মূলতঃ ভূগর্ভ থেকে উঠে আসা ম্যাগমা যা চাঁদের অভ্যন্তরে প্রোথিত ছিলো।

তবে চাঁদের উৎপত্তির সময় যে পানি বস্তুপিন্ডের মধ্যে জড়ো হয় তার উৎপত্তি পৃথিবী নাকি বিভিন্ন ধুমকেতুর বয়ে নিয়ে আসা পানি সেই বিষয়ে গবেষকগণ এখনো কোনো ধারনা দিতে পারেন নি।

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক