মুখের হাসির স্মাইলি দেখে মনে হতে পারে আধুনিক কোন মেসেঞ্জার বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহৃত ইমোটিকন। কিন্তু এই স্মাইলি পেইন্টিংয়ের ইতিহাস আসলে অনেক পুরোনো।

সিরিয়ার সীমান্ত সংলগ্ন তুরষ্কে হিট্টিদের স্থাপিত শহর কারকামিশের একটি খননে প্রত্নতত্ত্ববিদগণ ৩৭০০ বছরের পুরোনো একটি কলসি খুঁজে পেয়েছেন যাতে তিনটি স্পষ্ট তুলির আঁচড় রয়েছে। হাঁসির বাঁকা রেখা এবং চোখের দুটি বিন্দু।

ইতালির ইউনিভার্সিটি অব বোলোগনার ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নিকোলো মারচেট্টি বলেন, “নিশ্চিতভাবেই স্মাইলি চেহারাটি এর উপর আঁকা রয়েছে। এর বাইরে আর কোনো আঁকিবুকি এই কলসিতে নেই।” তিনি বলেন, ইতালীয় ও তুর্কী প্রত্নতত্ত্ববিদগণ এই কলসিটি কারকামিশের একটি সমাধিস্থানের নিচে খুঁজে পেয়েছেন যা তৈরি হয়েছে আনুমানিক ১৭০০ খৃষ্টপূর্বাব্দে। এই কলসিটি খুব সম্ভবতঃ শরবত খাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ববিদগণ এই প্রাচীন শহরটি হতে আরো বেশ কিছু ধাতব এবং মৃৎপাত্র খুঁজে পেয়েছেন। এই প্রাচীন নগরীটি প্রায় ১৩৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। আকারে যা ১০০ টি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড়।

কারকামিশ শব্দটির অর্থ ‘কামিসের ঈশ্বর’। এই শহরটির সভ্যতা বিদ্যমান ছিলো ছয় সহস্রাব্দ খৃষ্টপূর্ব হতে মধ্যযুগ পর্যন্ত। তারপর এটি পরিত্যাক্ত হয় এবং হিট্টি, নব্য অ্যাসিরীয় এবং রোমানদের মাধ্যমে বসতিপুর্ণ হয়।  এই অতপর ১৯২০ সালে পুনরায় ব্যবহৃত হয় তুর্কী সেনাবাহিনীর তল্লাশীচৌকি হিসেবে।

যদিও ১৮০০ এর শতকে ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদগণ এই স্থান পরিদর্শন করেন তথাপি এতে বেশকিছু পুরাকীর্তি রয়ে যায় যেগুলো বর্তমানে মারচেট্টির তত্ত্বাবধানে উদ্ধার করা হচ্ছে। কলসির ইমোটিকনের ব্যাপারে তিনি বলেন এই ইমোটিকনের অর্থ নিজের মতো করে ধরা নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। এই ধরনের মৃৎশিল্প আর কোথাও পাওয়া যায়নি তাই তুলনা করা যাচ্ছে না। [livescience.com]

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক