একটি গাছের বীজের দিকে তাকিয়ে কখনো মনে হয়েছে এটি চিন্তা করতে পারে? গবেষকগণ একটি উদ্ভিদের ভ্রুণের অভ্যন্তরে দুটি কোষের শ্রেনী দেখতে পেয়েছেন যারা মানুষের মস্তিষ্কের মতোই পরিচালিত হয় এবং উদ্ভিদকে অঙ্কুরোদম শুরুর যথাযথ সময়টি নির্ধারণে সহায়তা করে।

যদিও এখানে প্রকৃত মানব মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটার জাতীয় কিছুর কথা বলা হচ্ছে না তবে এই কাঠামো মানব মস্তিষ্কের অনুরূপ যেখানে দুই শ্রেনীর কোষের মধ্যে হরমোন আদান-প্রদান হয় যেমনটি হয় মানুষের চলনের ক্ষেত্রে।

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলটি একটি গাণিতিক মডেল ব্যাবহার করে কোষের দুটির শ্রেনীর মধ্যে যোগাযোগ ব্যাখ্যা করেন যাদের একটি শ্রেনী বীজের সুপ্তাবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করে এবং অপর শ্রেনী মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসতে চায়। যখন অঙ্কুরোদগমের প্রচেষ্টারত শ্রেনীটি জয়ী হয় তখনই বীজটি মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে।

গবেষক দলের একজন, জর্জ ব্যাসেল বলেন, “আমাদের কাজের মাধ্যমে উদ্ভিদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেন্দ্রের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে বিভিন্নতা উদ্ঘটিত হয়। মানব মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে এই বিভিন্নতা একটি সময়ের ব্যবধান তৈরি করে, নয়েজ যুক্ত সংকেত থেকে নয়েজ আলাদা করে এটি মসৃন করার চেষ্টা করে এবং এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যথার্থতা বৃদ্ধি পায়। উদ্ভিদের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেন্দ্রের এই বিভিন্নতা একই রকম পাওয়া গেছে।”

গবেষকগণ Arabidopsis thaliana নামক উদ্ভিদ নিয়ে গবেষনাটি করেন যেখানে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেন্দ্র পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক তথ্য পর্যবেক্ষণ করে গবেষকগণ একটি মিউটেশনকৃত উদ্ভিদ উৎপাদন করেন যেখানে কোষের মধ্যে এই রাসায়নিক আদান-প্রদানের বিষয়টি আরো প্রখর। এই বর্ধিত রাসায়নিক আদান প্রদান দেখে গবেষকগণ নিশ্চিত হন দুই শ্রেনীর কোষের মধ্যে সংকেত আদান-প্রদানের মাধ্যমেই অঙ্কুরোদগমের সময় নির্ণীত হয়।

গবেষকগণ বীজের অগ্রপ্রান্তে দুই শ্রেনীর কোষ শনাক্ত করেছেন।রা

দুই শ্রেনীর কোষের কার্যক্রম দেখে মনে হয় যেন তারা একদল অপর দলের সাথে স্থায়ী বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে। এদের একদল চাইছে মাটি ফুঁড়ে বের হয়ে আসার জন্য আর অপর দল চাইছে ভেতরে থেকে যাওয়ার জন্য। এই দুই শ্রেনীর মধ্যে হরমোনের কার্যকারীতা বদলে দিয়ে গবেষকগণ অঙ্কুরোদম সময়ের নিয়ন্ত্রণ বদলে দিতে পেরেছেন।

দুই শ্রেনীর মধ্যে এই বিভিন্নতা তৈরি হওয়ার ফলে এরা বাহ্যিক প্রণোদনার প্রতি অধিক হারে সাড়া দিতে পারে এবং সেই অনুযায়ী তাদের অঙ্কুরোদগমের সময় নির্ধারণ করতে পারে। তারা পরিবেশের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য যেমন পরিবর্তিত তাপমাত্রা, আদ্রতা ইত্যাদির মাত্রার উপর ভিত্তি করে অঙ্কুরোদগমের সময় নির্ধারণ করে।

অঙ্কুরোদগমের সময় যথাযথভাবে নির্ধারণ একটি উদ্ভিদের জন্য অতিজরুরী বিষয়। এর মাধ্যমে একটি চারা যথাযথ সময় নির্ধারণ করে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে। [ScienceAlert অবলম্বনে]

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক