ডায়রিয়া খুবই বিব্রতকর আর কষ্টদায়ক। এটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জরুরী অবস্থা তৈরি করে এবং যদি গুরুতর দিকটি চিন্তা করি তাহলে বলতে হয় যথাযথ স্বাস্থ্যসুবিধা না পেলে এটি প্রানঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তবে যদিও কলের দীর্ঘ পথে ডায়রিয়া ছাপ রেখে এসেছে, কেবল মাত্র সাম্প্রতিক সময়ে গবেষণার মাধ্যমে আমরা বুঝতে শুরু করেছি ডায়রিয়া আসলে কী।

বছর দুয়েক আগে Cell Host and Microbe জার্নালে ইদুরের উপর চালানো একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। ম্যাসুচুসেটস-এর ব্রিংহাম মহিলা হাসপাতালের জীবাণু বিশেষজ্ঞ এবং পাকস্থলী-অন্ত্র বিশেষজ্ঞদের একটি গবেষকদল জানাচ্ছেন ডায়রিয়া অন্ত্র হতে ক্ষতিকর রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু বের করে দিয়ে সহায়তা করে।

হ্যাঁ, ডায়রিয়া আপনার জীবন রক্ষাকারীর ভুমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে। এই বিষয়ে গবেষণার জন্য ইঁদুরের অন্ত্রে Citrobacter rodentium নামের একটি রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করানো হয়। এটি মানব দেহের E. coli ব্যাক্টেরিয়ার সাথে তুলনীয়- যারা ডায়রিয়া সৃষ্টি করে। ইঁদুরের শরীরে ব্যক্টেরিয়া প্রবেশ করিয়ে গবেষকগণ কীভাবে এটি ডায়রিয়ার মাধ্যমে শরীর থেকে দূর হয়ে যায় তা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। গবেষণার মাধ্যমে তাঁরা যা পেলেন তা নিন্মরূপ।

আপনার অন্ত্রের পর্দা যে কোষীয় সজ্জার মাধ্যমে তৈরি হয় তাতে সামান্য ফাঁক থেকে যায়, যাদের বলা হয় আন্তকোষীয় দৃঢ় সংযোগ (Intercelluler tight junction), যার মাঝে ছোট ছোট ছিদ্রও থাকে। অন্ত্র কর্মক্ষম থাকার পেছনে এই ছিদ্রের ভুমিকা আছে। এগুলোর মাধ্যমে পুষ্টি, লবন, পানি এবং দুষিত পদার্থ শরীরের মধ্যে আসা-যাওয়া করে। গবেষনাটির প্রধান গবেষক জেরল্ড টার্নার এবং তাঁর সহকর্মীবৃন্দ দেখেন অন্ত্রে কোনো সংক্রমণ হলে এই ছিদ্রগুলো শুরুতেই বেশ প্রসস্ত হয়ে যায়। এটি ঘটে ক্লাওডিন-২ (cloudin-2) নামের একটি প্রোটিনের সহায়তায়, যেটি আবার ইন্টারলিউকিন-২২ (Imterleukin-22) নামের একটি প্রোটিনের মাধ্যমে কার্যকর থাকে। এই ঘটনায় অন্ত্রের ভেদনযোগ্যতা বৃদ্ধি পায় ফলে সোডিয়াম আয়ন এবং পানি অন্ত্রে প্রবেশ করে ব্যাক্টেরিয়া ধুয়ে নিয়ে যায়। তবে ইঁদুরের উপর গবেষণাটি চালানো হলেও মানুষের দেহেও একই প্রোটিনগুলো রয়েছে।

এই গবেষণা ডায়রিয়া সম্বন্ধে জানা-শোনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দীর্ঘদিন ঘরে ডাক্তাররা ভেবে আসছেন ডায়রিয়া হলো ব্যাক্টেরিয়া ধুয়ে পরিষ্কার করার জন্য শরীরের নিজস্ব পদ্ধতি। তবে এতদিন এই ধারনার পক্ষে কোনো তথ্য প্রমাণ ছিলো না।

এই গবেষণার মাধ্যমে পূর্বের ধারনাটি উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হলো। তবে যদিও গবেষণাটি ইঁদুরের উপর চালানো হয়েছে, টার্নার আত্মবিশ্বাসী যে মানুষের ক্ষেত্রেও এতই ধরনের ফলাফলই পাওয়া যাবে। “আমার ধারনা এটা হুবহু একই,” তিনি বলেন। (inverse.com অবলম্বনে)

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক

বিজ্ঞান পত্রিকা প্রকাশিত ভিডিওগুলো দেখতে পাবেন ইউটিউবে। লিংক:
১. স্পেস এক্সের মঙ্গলে মানব বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা
২. মাইক্রোস্কোপের নিচের দুনিয়া