জার্মানির একদল বিজ্ঞানী আমাদের প্রাচীন পূর্বপুরুষের ডিএনএ ক্রমানুসারে সাজানোর জন্য একটি অসাধারণ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। যদিও গবেষকগণ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবাশ্মের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করার জন্য কঠোর পরিশ্রম এবং সৌভাগ্যের উপর নির্ভশীল ছিলেন তবে এই নতুন পদ্ধতিটি বিজ্ঞানীদেরকে অনেকটা বিরূপ অবস্থা থেকেও ডিএনএ উদ্ধার করার সুযোগ তৈরি করে দেবে।

বিজ্ঞানীরা কয়েক বছর ধরে উপলব্ধি করছেন যে, পচে যাওয়া বস্তু বা সত্তা থেকে জেনেটিক উপাদান- যা পশু, উদ্ভিদ অথবা মানুষ তার আশেপাশের পলি বা তলানিতে মুক্ত করে দেয় এবং একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য সেখানে থেকে যায়। তবে সমস্যা হচ্ছে এদের অধিকাংশ কিংবা পুরোটাই একসাথে মিশে থাকে। এমনকি একজন মানুষের ডিএনএ এক টেবিল চামচ পরিমাণ মাটির মধ্যেও থেকে যায় যা সনাতন পদ্ধতিতে পুনুরুদ্ধার করা খুবই দুরূহ ব্যাপার হয়ে উঠে।

জার্মানীর লাইবজিগের ম্যাক্স প্ল্যাংক ইন্সটিটিউট ফর ইভোলোশনারি এনথ্রোপোলজির বিজ্ঞানী ভিভিয়েন্স স্লোনের নেতৃত্বে একটি দল ঐসব সংরক্ষিত ডিএনএকে পুনুরুদ্ধার ও সংকলন করার জন্য একটি প্রক্রিয়া তৈরী করেছেন। আর এই প্রথমবারের মতো গবেষকগণ কোন তলানি থেকে সরাসরি প্রাচীন মানুষের ডিএনএ উদ্ধার করেছেন।

এই পদ্ধতিতে কাজ করার জন্য তাঁরা কিছু অণু তৈরি করেছেন যা স্তন্যপায়ীদের ডিএনএকে নিশানা করে এবং অত্যাধিক পরিত্যাক্ত ডিএনএকে পুনরুদ্ধার করতে পারে। দলটি তাঁদের আবিষ্কারটি সায়েন্স জার্নালে উপস্থাপন করেছেন। স্লোনের দল ডেনিসোভান্স নামে আমাদের নিকটতম এক পূর্বপুরুষের প্রজাতির তথ্য উধঘাটন করেছেন যাদের সম্পর্কে আমরা খুবই কমই জানি।

এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা শুধুমাত্র আঙ্গুলের হাড় এবং দুই জোড়া দাঁতের জীবাশ্ম উদ্ধার করতে পেরেছেন যাদের উভয়ই সাইবেরিয়ার একটি গুহা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিলো।

যদি ময়লা থেকে ডিএনএ উদ্ধার করে তা বিশ্লেষণ করার এই কৌশলটি মাঠকর্মের নিয়মিত কাজের অংশ হয়ে যায় তবে জীবাশ্মবিহীন জায়গা থেকেও প্রাচীন পূর্বপুরুষের আরও প্রমাণ আবিষ্কারের সম্ভাবনা তৈরী হবে। আর এগুলিই আমাদেরকে জানাবে প্রাচীন মানুষ গুহার বাইরে কি কি করতো (মৃত্যুর অবস্থাও) বা তারা কোন কোন অঞ্চলে যাতায়াত করতো।

তবে সবচেয়ে উত্তেজনাকর বিষয় হচ্ছে, কোন রকম হাড়ের উপস্থিতি ছাড়াই যখন ডিএনএ পুনুরুদ্ধার করতে তা থেকে সম্পূর্ণ নতুন একটি মানবীয় পারিবারিক শাখা সৃষ্টি করা যাবে তখন গবেষকদের মাঝে প্রাথমিক সময়ের মানুষদের সম্পর্কে একটি সম্পূর্ণ অন্তর্দিষ্ট তৈরী হবে যাদের কঙ্কাল সম্পর্কীয় কোন প্রমাণ আমরা এখনো পাইনি। [সায়েন্সএলার্ট- অবলম্বনে]

-শফিকুল ইসলাম