চিকিৎসা বিজ্ঞানের আশ্চর্যজনক অগ্রগতির ফলস্বরূপ গবেষকরা একটি কৃত্রিম গর্ভের উন্নতি সাধন করেছেন যা এক মাস সময়ের মধ্যেই একটি সদ্য জন্মানো মেষশাবকের শারীরিক বৃদ্ধি করতে সক্ষম।

ফিলাডেলফিয়ার শিশু হাসপাতালের সেন্টার ফর ফেটাল ডায়াগনোসিস এন্ড ট্রিটমেন্টের গবেষকগণ পূর্বের চেয়ে অধিক উন্নত উৎপাদনশীল একটি কৃত্রিম গর্ভাশয় তৈরী করতে পেরেছেন। তিন বছর মেয়াদে কয়েকটি পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি (কাচের ইনকিউবেটর সহ) করার পর অবশেষে গ্যাস এক্সচেঞ্জ মেশিন এবং সেন্সরগুলির সাথে সংযুক্ত একটি প্লাস্টিকের ফিল্ম ব্যাগ ব্যবহার করে এমন একটি প্রকোষ্ঠ স্থাপন করেছেন। ব্যবস্থাটি গর্ভের অবস্থার সাথে কার্যকরীভাবে খাপখাইয়ে নিতে পারে। গবেষণাগারে উত্পাদিত একপ্রকার অ্যানায়নিক তরল দিয়ে কন্টেইনারটি ভর্তি করা হয়েছে। যেহেতু বর্ধনশীল ফুসফুসটি বায়ুমণ্ডলীয় অক্সিজেন শ্বাস হিসেবে নিতে পারে না, তাই এই পদ্ধতি বর্ধনশীল ভ্রূণটিকে কৃত্রিম অ্যামিনিটিক তরল শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে ব্যাগ ভেতরে এবং বাইরে প্রবাহিত করার সুযোগ করে দেয়। এটি ভ্রূণকে সুস্থ বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং বৃদ্ধির উপাদানগুলিও সরবরাহ করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ওষুধের অগ্রগতির কারণে প্রসবকালীন শিশুদের বেঁচে থাকার হারে অবিশ্বাস্যভাবে বৃদ্ধি করেছে, যেখানে জন্মের মাত্র ২৩ সপ্তাহ বয়সের শিশুর বেঁচে থাকার হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। কিন্তু এতে কিছু জটিল সমস্যার সম্মুখীনও হতে হয়। যেমন, শিশুরা প্রায়ই একটি অসুস্থ জীবনের সম্মুখীন হয়ে পড়ে, আবার এদের বেশিরভাগই অপরিপক্ক অবস্থায় জন্মানোর ফলে মৃত্যুবরণ করে থাকে।

নেচার কমিউনিকেশনে প্রকাশিত গবেষনাটির প্রধান লেখক অ্যালান ফ্লেকে ব্যাখ্যা করেন, “এই শিশুগুলির জন্য মায়েদের গর্ভ এবং বাইরের জগতের সাথে একটি সেতুবন্ধন স্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। যদি আমরা মাত্র কয়েক সপ্তাহের জন্য একটি অতিরিক্ত গর্ভাবস্থার পদ্ধতির উন্নয়ন করতে পারি যা এদের বৃদ্ধি এবং অঙ্গ পরিপক্বতা হতে সহায়তা করবে তবে আমরা অত্যন্ত অপরিপক্ক শিশু জন্মের হার নাটকীয়ভাবে কমাতে করতে পারবো।”
সাম্প্রতিক গবেষণায় গবেষকরা সদ্য জন্মানো মেষশাবককে নতুন এই পদ্ধতির মাধ্যমে পরীক্ষা করেছেন, যা একটি ২৩-২৪ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় থাকা শিশুর সমতুল্য ছিল। মেষশাবকটিকে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ব্যাগের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিলো এবং ২৮ দিনের একটি অসাধারণ এক চাপ এবং হালকা পরিবর্তন থেকে সুরক্ষিত। এই সময়ে এটি সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠে, স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেয় এবং চোখ খোলা বা বন্ধ করতে সক্ষম ছিলো। এমনকি নরাচড়াসহ শরীরের লোমও বৃদ্ধি পেতে থাকে।

গবেষকগণ এখন এই পদ্ধতিকে মানব শিশুর জন্য উপযোগী করে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এটা আশা করা হচ্ছে যে, একটি অপরিপক্ক শিশুর পরিচর্যায় এই গবেষণাটি বড় ধরণের উদাহরণ সৃষ্টি করবে।
[ইফসায়েন্স- অবল্মনে]
-শফিকুল ইসলাম