আরব আমিরাত নানাবিধ উদ্ভট এবং প্রাকান্তমাপের প্রকল্পের জন্য পরিচিত। ইতিপূর্বে তারা সমুদ্রের বুকে কৃত্রিম দ্বীপ, বিশ্বের সর্বোচ্চ কয়েকটি ভবন তৈরি করে খবর হয়েছে। কিন্তু নতুন এই প্রকল্পটি সব রকম পাগলামি ছাড়িয়ে গেছে। তারা বিশ্বের অর্ধেক পথ পাড়ি দিয়ে এন্টার্কটিকা থেকে একটি আইসবার্গ বা বরফের চাঁই টেনে এনে সুপেয় পানির চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা করছে।

গত সপ্তায় আবুধাবি ভিত্তিক একটি কোম্পানী, ন্যাশনাল এ্যাডভাইজর বুরো লিমিটেড ৯২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এন্টার্কটিকা থেকে ভারত মহাসাগরে একটি আইসবার্গ টেনে আনার এবং এটিকে আমিরাতের সমুদ্রতীরে নোঙর করার পরিকল্পনা ঘোষনা করেছে। কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলাইমান আল শেহী এই প্রসঙ্গে বলেন, “আইসবার্গের পানি বিশ্বের সবচেয়ে বিশুদ্ধ। আমরা কারিগরি এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তৈরি করে ফেলেছি এবং সবচেয়ে যথাযথ প্রযুক্তি প্রয়োগ করছি। এই প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালের প্রথমেই শুরু হবে।”

যদি আপাতত অবিশ্বাস ঝেড়ে ফেলা যায়, তাহলে পরিকল্পনাটি এমন:

গড়ে একেকটি আইসবার্গ ২০ বিলিয়ন গ্যালন স্বাদু পানি ধারণ করে। যা এক মিলিয়ন মানুষের পাঁচ বছরের পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে অনায়াসে সক্ষম বলে দাবী করে ন্যাশনাল এডভাইজর ব্যুরো লিমিটেড।

এবছরের দীর্ঘ একটি ভ্রমনে আইসবার্গটিকে ভারত মহাসাগরে টেনে এনে আমিরাতের দক্ষিন উপকূলের ফুজাইরাহ-তে নোঙর করা হবে। কম্পিউটারের সিমুলেশনে দেখা যায় যাত্রাকালে এই আইসবার্গটি ৩০ শতাংশ ভর হারাবে। যখনই এটি বন্দরে পৌঁছাবে তাৎক্ষণিক ভাবে এটি ভেঙ্গে ভেঙ্গে বরফ কুচি সংগ্রহ করা হবে। এই বরফকুচিকে পানিতে পরিণত করে বড় বড় জলাধারে সংরক্ষণ করা হবে।

আরব আমিরাতে খুব দ্রুত পানীয় জলের সংকট তৈরি হচ্ছে, সমুদ্রের পানি লবনমুক্ত করে পানের উপযোগী করা এই সংকট মোকাবেলায় যথেষ্ঠ নয়। এই সংকটের তীব্রতা প্রশমনেই এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া চিন্তা-ভাবনা মাথা আসছে কর্তৃপক্ষের। [সায়েন্স এলার্ট অবলম্বনে]

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক