প্রায় ৪,০০০ বছর আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হওয়া লোমশ ম্যামথকে (লোমশ হাতি) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংযের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ‘De-extinction’ প্রকল্পের গবেষকদের মতে দলটি মাত্র বছর খানেকের মধ্যেই সুবৃহৎ-হাতির সংকর ভ্রূণ বিকশিত করতে সক্ষম হবে। এশীয় হাতির অতি নিকটতম এই আত্মীয়ের ভ্রূণ যা হিমায়িত দেহাবশেষ থেকে নিষ্কাশন করা হয়েছে তা বর্তমান প্রজাতির জিনের সাথে সংযুক্ত করা হবে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যামথ পুনরুজ্জীবন দলের প্রধান গবেষক হ্যানাহ ডেভলিন থি গার্ডিয়ান জানান, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি সুবৃহৎ-হাতির সংকর ভ্রূণ উৎপাদন করা। আসলে এটা হবে একটা সুবৃহৎ ম্যামথের বহু বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হাতি, যা আগামী দুই বছরের মধ্যেই আমাদের সামনে দৃশ্যমান হবে।”

যদি গবেষকগণ এই কাজটি সফলভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হন তবে সুবিশাল ম্যামথকে পুনরায় উপস্থাপন করার জন্য ‘ডি-এক্সটিংশন’ এর গবেষকদের এক বিশাল বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

২০১৫ সালে গবেষকগণ লোমশ ম্যামথের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন কিছু জিন নিয়ে হার্ভার্ডের ম্যামথ প্রকল্প শুরু হয়েছিল। আর ম্যামথের এই ডিএনএ সাইবেরিয়ার হিমায়িত অঞ্চলের অভ্যন্তরে দেহাবশেষের অবশিষ্টাংশ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। ইতমধ্যে দলটি ম্যামথ জিনের ৪৫ টি অংশকে হাতির কোষের সাথে সংযুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এবং তারা এখন প্রথমবারের মতো সংকর ভ্রূণ তৈরী করতে যাচ্ছে।


পরিকল্পনা অনুসারে এশিয়ার হাতির ত্বকের কোষ নিয়ে তাতে জিন সম্পাদনা প্রযুক্তি ক্রিস্পার/ক্যাস৯ মাধ্যমে লোমশ ম্যামথের জিন প্রবেশ করানো হবে। দলটি সাথে সাথে একটি মহিলা হাতির উর্বর ডিম্বকোষ নেবে এবং তা থেকে এর নিউক্লিয়াস অপসারণ করবে যে অংশে সকল জেনেটিক উপাদান বিদ্যমান থাকে। এরপর গবেষকগণ নিউক্লিয়াস বিহীন ডিম্বকোষের সাথে জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত ত্বকের কোষ একত্রিত করে দেবেন যেন ডিমটি পরিবর্তিত ডিএনএ খুঁজে পেতে পারে। আর এই ডিমগুলিই কৃত্রিমভাবে ভ্রূণগুলি বিকশিত করতে পারবে।

একবার যদি দলটি প্রাথমিক পর্যায়ের ভ্রূণ বিকশিত করতে পারে তখন তারা একে কৃত্রিম গর্ভাশয়ে বেড়ে উঠার ব্যবস্থা করবে। [সাইন্সএলার্ট- অবলম্বনে]
-শফিকুল ইসলাম