পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রতলদেশের হাজার হাজার ফুট গভীরে জীবনের সন্ধান পাওয়া গেছে। মারিয়ানা ট্রেঞ্চ এর তলদেশের প্রায় ১০ কিঃমিঃ (৬.২ মাইল) নিচু স্থান সমুদ্রের গভীরতম বিন্দু। বিজ্ঞানীদের ধারণা এই স্থানেও প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে। সম্প্রতি এটা নিয়ে একটি আবিষ্কারের খবর Proceedings of the National Academy of Sciences এ প্রকাশিত হয়েছে।

মারিয়ানা ট্রেঞ্চে গভীর মহাসাগরীয় জলস্রোত থেকে বেরিয়ে আসা খনিজ থেকে এই নমুনা পাওয়া যায়। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের এই পরিখাটি দুটি টেকটনিক-প্লেটের সংঘর্ষের মাধ্যমে গঠিত। এর গভীরতম বিন্দু অন্তত ১০,৯৯৪ মিটার (৩৬,০৭০ ফুট) হবে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে, যদিও কিছু কিছু সমীক্ষায় এর পরিমাণ আরো বেশী বলে ধারণা করা হয়।

এই টেকটনিক-প্লেটের ঠিক কেন্দ্রমুখী একটি সীমানা (যা ইযু-বনিন-মারিয়ানা আর্ক নামে পরিচিত) এলাকা থেকে বিজ্ঞানীরা একটি সর্পিল আকৃতির খনিজ উপাদানের নমুনা সংগ্রহ করেছেন যাতে কিছু জৈব পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে। জৈব উপাদানটির বিশ্লেষণে দেখা যায় এটি পৃথিবীতে গঠিত অন্যান্য জীবাণুর মতই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।


নেদারল্যান্ডের আটরেচট বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভূ বিজ্ঞানী অলিভার প্লামপার বলেন, “এটি অনেকটা বোতলের ভেতর বার্তা পাঠানোর মতো ঘটনা। যদিও আমরা এই জৈব উপাদানের সঠিক উৎপত্তি স্থল সম্পর্কে এখনো কিছু জানতে পারিনি তবে আমাদের রাসায়নিক বিশ্লেষণ বলছে গভীর এলাকায় বা এর থেকেও আরো গভীরে কাদা আগ্নেয়গিরিতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে।”

গণনার পর দেখা গিয়েছে ১০ কিঃমিঃ (৬.২ মাইল) গভীর এমন এক অঞ্চল যেখানে কাদা আগ্নেয়গিরির তাপমাত্রা ১২২⁰ সেলসিয়াসে (~২৫⁰ ফারেনহাইট) পৌছানো পর্যন্ত জীবন টিকে থাকতে পারবে বলে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস।

কিন্তু এত নিচে কি কোন জীব বসবাসের সম্ভাবনা রয়েছে? Serpentinization পদ্ধতির মাধ্যমে শিলা গঠিত হওয়ার সময় এর মধ্য থেকে মিথেন গ্যাস এবং হাইড্রোজেন উৎপন্ন হয়। গবেষকগণ মনে করেন এখান থেকেই জীবাণুরা তাদের খাদ্যের উৎস খুঁজে নেয়।

আটরেচট বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য এক ভূ-বিজ্ঞানী হেলেন কিং বলেন, “কাদা আগ্নেয়গিরি গভীর ভূগর্ভস্থ এলাকার জন্য একটি অনন্য জানালা বিশেষ এবং এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি এসব এলাকায় মূলত কি কি লুকিয়ে রয়েছে। লিথোস্ফিয়ারের এই জৈব উপাদানের আবিষ্কার বিশেষতই আকর্ষনীয়, কারণ এই কাদা আগ্নেয়গিরির নিচে একটি গভীর জীবমন্ডলের ইঙ্গিত থাকতে পারে।” [Iflscience- অবলম্বনে]

-শফিকুল ইসলাম