২০১৭ সালে আধুনিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানীরা কানাডার একটি সম্পূর্ণ নদীকে দিনের ব্যবধানে বিলীন হয়ে যেতে দেখলেন।

এধরনের ঘটনাকে river piracy বা বাংলায় নদী দস্যুতা বলা যেতে পারে, যাতে একটি নদীর প্রবাহ অন্য নদী দখল করে নেয়। ঐতিহাসিক আলামত সাক্ষ্য দেয় এই প্রক্রিয়ায় একটি নদী বিলীন হয়ে যেতে হাজার হাজার বছর সময় লাগে, কিন্তু এই ক্ষেত্রে স্লিমস নামের নদীটি কেবল চার দিনের মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে, যা গবেষকদের মতে ভূতাত্ত্বিক হিসেবে ‘তাৎক্ষণিক ঘটনা’। ভুতাত্ত্বিক অধিকাংশ ঘটনাই ঘটে লক্ষ বা কোটি বছর ধরে, নিদেন পক্ষে হাজার বছর সময় লাগে।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন টাকোমার গবেষক, ড্যান শুগার বলেন, “ভূতাত্ত্বিকগণ নদী দস্যতা পর্যবেক্ষণ করেছেন, কিন্তু আমাদের জানা মতে এখন পর্যন্ত আমাদের জীবদ্দশায় এটি কেউ প্রত্যক্ষ করেন নি।” তিনি বলেন, “মানুষ কোটি কোটি বছরের ভুতাত্ত্বিক রেকর্ড থেকে এধরনের ঘটনা অনুধাবন করেছেন কিন্তু আমাদের নাকের ডগায় মূহুর্তের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটবে তা কেউ আশা করে নি।”

ইউকনে প্রবাহিত স্লিমনদীর ধারে শুগার এবং তাঁর সহগবেষকবৃন্দ গিয়েছিলেন অন্য গবেষণার জন্য। কিন্তু সেখানে যখন পৌঁছালেন তখন দেখলেন গড়ে আধকিলোমিটার প্রশস্ত নদীর পানি স্রেফ উধাও হয়ে গেছে। তার বদলে পানির একটি সুক্ষ রেখা প্রবাহিত হয়ে দেখা গেছে।

নদীর পানি কোথায় গেলো তা খুঁজে দেখতে গবেষক দলটি ড্রোন এবং হেলিকপ্টার দিয়ে জরিপ করে দেখে এবং লক্ষ্য করে অন্য একটি নদীর দস্যতায় বিলীন হয়ে গেছে এই নদীটি।

গত ৩০০-৩৫০ বছর ধরে স্লিমস নদী, কাস্কাউলশ নামক একটি হিমবাহের বরফগলা পানির মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে আসছিলো। কিন্তু ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উষ্ণতায় অধিকতর হারে বলফ গলতে থাকায় তার চাপে নতুন একটি নালার সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে পানির গতিপথ বদলে গিয়ে কাসকাউলশ নদীতে গিয়ে পড়ে।

এই ঘটনাটি কেবল এর দ্রুততার জন্যই অভিনব তা নয়, বরং গবেষকদের ধারনা, এটাই নদী পথের পরিবর্তনের প্রথম মানবসৃষ্ট কারণ।

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক