অক্টোপাস এবং স্কুইডরা তাদের নিজস্ব জেনেটিক নির্দেশাবলী সম্পাদনা করতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে। যা এদেরকে পৃথিবীতে আটকে পড়া ‘এলিয়েন’ হিসেবে খ্যাতি এনে দিয়েছে।

অন্যান্য প্রাণীদের মতো অক্টোপাস, স্কুইড এবং ক্যাটেলফিস জাতীয় স্যাফালোপডস পর্বের প্রানীরা তাদের ডিএনএর নির্দেশনা মানে না। এর পরিবর্তে তারা মাঝে মাঝে সংকেত প্রেরণের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করে যা একটি আণবিক “বার্তাবাহক” দ্বারা পরিবাহিত হয়। আর এভাবেই তাদের কোষে উৎপাদিত প্রোটিন বহুমুখীকরণের কাজে প্রভাব ফেলে যা কিছু মজার বৈচিত্র্য তৈরীতে এগিয়ে থাকে।

কিছু কিছু বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস এই পদ্ধতিটি হয়তো ডিএনএ ভিত্তিক পরিবর্তনের বদলে আরএনএ ভিত্তিক সম্পাদনার একটি বিশেষ বিবর্তনের সৃষ্টি করে যা স্যাফালোপডস পর্বের প্রাণীদের কিছু বিশেষ ও জটিল আচরণ এবং অতি উচ্চ বুদ্ধিমত্তার জন্য দায়ী হতে পারে। আরএনএ ডিএনএর খুব ঘনিষ্ঠ আত্মীয় যা জিন থেকে কোষে প্রোটিন পরিবহনে সফটওয়্যারের মতো নির্দেশাবলী স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত হয়।

বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন স্কুইডের মস্তিষ্ক আরএনএর কমপক্ষে ৬০ শতাংশ অনুলিপি সম্পাদনা করে এর পুনঃসংকেত প্ররণের মাধ্যমে। অন্যান্য প্রানীর ক্ষেত্রে- ফুলের পোকা থেকে মানুষ পর্যন্ত, এরকম পুনঃসংকেত প্ররণের ঘটনা শুধুমাত্র এক শতাংশ সময়েই ঘটে থাকে। আরএনএর এরূপ উচ্চমাত্রার সম্পাদনা অন্যান্য তিনটি “স্মার্ট” স্যাফালোপডস প্রজাতির মধ্যে পাওয়া গিয়েছে। এদের মধ্যে দুটি অক্টোপাস এবং অন্য একটি ক্যাটেলফিসে। স্যাফালোপডসের আরএনএর এই কর্মকান্ড সম্পাদনা এখনও নজরদারির ভেতর রাখা হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন বায়োলজিক্যাল ল্যাবরেটরি থেকে যশু রসেনথাল বলেন, “কখন এবং কোন পরিবেশের প্রভাবে তারা এটা চালু করবে তা অনেকটা তাপমাত্রা পরিবর্তনের মত সহজ কিংবা অভিজ্ঞতার মতো জটিল হতে পারে, যা একটি স্মৃতির আকারে থাকে।”

অক্টোপাস এবং অন্যান্য স্যাফালোপডসের আরও কয়েকটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার কারণে বিশেষজ্ঞরা এদের এলিয়েনের সাথে তুলনা করে থাকে। এদের মধ্যে তাৎক্ষণিক রং পরিবর্তনের মাধ্যমে ছদ্মবেশ ধারণ, নীল রক্ত এবং আলো দেখতে পাওয়ার দক্ষতা অন্যতম।[নিউ সাইন্টিস্ট- অবলম্বনে]

-শফিকুল ইসলাম