বোমাটির নাম MOAB। Mother of All Bomb নামে ডাকা হলেও এটি বোমার পূর্ণরূপ নয়। বরং পূর্ণরূপটি হলো A Massive Ordnance Air Blast। সম্প্রতি আফগানিস্তানে আইএসএর সম্ভাব্য উপস্থিতির উপর এই বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়, যাদে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারায় বলে দাবী করা হয়েছে। এটি হচ্ছে পারমাণবিক ও হাইড্রোজেন বোমার বাইরে সবচেয়ে বিধ্বংসী বোমা।

ভুমি কিংবা ভবন ভেদকারী অন্যান্য বোমার চেয়ে MOAB এর কার্যপদ্ধতি ব্যাতিক্রম।  এর অগ্রপ্রান্তে রয়েছে proximity fuse, যা নিক্ষেপের পর একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছানো মাত্র কার্যকর হয়। এই উচ্চতার সীমা হতে পারে ৫০ ফুট থেকে ১০০০ ফুট পর্যন্ত। যখন বোমাটি বিস্ফোরিত হয় তখন এরা বায়ুতে চতুর্পাশে জ্বালানী ছড়িয়ে দেয়। এই জ্বালানী সূক্ষ ফোঁটায় বিভক্ত হয়ে ছড়িয়ে থাকে যা অনেকটা কুয়াশার মতো। তারপর আরেকটি বিস্ফোরনে এই সূক্ষ ফোঁটার জ্বালানীতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

সাধারণ একটি বোমার মতো এটি কয়েকটি খন্ডে বিভক্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে না বরং এটি অতিচাপ প্রযুক্ত করার মাধ্যমে কাজ করে। এই অতিচাপের মাধ্যমে এরা একটি গাছের উপর আঘাত হেনে সেটিকেই বোমার টুকরোয় পরিণত করতে পারে। এই ধরনের বোমা একটি ট্যাংক ধ্বংস করতে না পারলেও অতিচাপ প্রযুক্ত করে ট্যাংকের ভেতরে বসে থাকা মানুষটিকে মেরে ফেলতে পারে। এটি কোনো গুহায় লুকিয়ে থাকা মানুষের উপর অতিচাপ প্রয়োগ করে মেরে ফেলতে পারে। এই বোমাকে দেখাও যাবে না, স্রেফ উচ্চ চাপের কারণে লুকিয়ে থাকা কোনো মানুষের ফুসফুস মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসবে। অর্থাৎ, জামাকাপড় যেমন উল্টে ফেলা যায় ভেতরের দিক বাইরে দিকে, একজন মানুষও তেমনই উল্টে যাবে।

২০০১ সালের নাইন-ইলিভেনের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র যখন আফগানিস্তানে হামলা শুরু করে তখন থেকেই এই ধরনের বায়ুবিস্ফোরণ বোমার প্রয়োগ শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী BLU-82 নামের একটি বোমা তালেবান ও আলকায়েদার উপর পরীক্ষা করে ২০০১ সালের ডিসেম্বরে, তোরাবোরার লড়াইয়ে। এই বোমাটিকে MOAB এর ক্ষুদ্র সংস্করণ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এই বোমাটিকে শত্রু অধ্যুষিত এলাকায় নিক্ষেপ করা যায় কিন্তু যেসব এলাকায় বেসামরিক নাগরিক কিংবা মিত্রপক্ষের লোকজন থাকে সেখানে ব্যবহার করা যায় না, কারণ এটি নির্বিচারে মানুষ মারে। এবং বাছাই করে মানুষ মারার সুযোগ নেই এতে।

সাম্প্রতিক সময়ে এই বোমাটি নিক্ষেপের কারণ যতটা না সামরিক তারচেয়ে বেশী রাজনৈতিক ও কৌশলগত। সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার মতে, “যখন এই ধরনের বোমা নিক্ষেপ করা হয় তখন সেটি সাধারণত একটি দুঃসাহসী বার্তা দিয়ে থাকে। এই ক্ষেত্রে এটি আফগানিস্থানে নতুন করে লড়াই করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।” [Scientific American অবলম্বনে]

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক