আমরা মঙ্গলের পৃষ্ঠের ধূলোবালি দিয়ে ইট তৈরি করতে পারি এবং তা কংক্রিটের চেয়েও শক্তিশালী হবে। ইউভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের মাটির মতোই কৃত্রিমভাবে তৈরি করা মাটি দিয়ে এই ধরনের ইট তৈরি করেছেন। মঙ্গলপৃষ্ঠ থেকে এর শিলার নমুনা পৃথিবীতে নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হয় নি এখনো। তাই গবেষকগণ মঙ্গলের মাটির উপাদানগুলো একই অনুপাতে মিশ্রিত করে এধরনের কৃত্রিম মাটি বা সিমুল্যান্ট (simulant) তৈরি করেছেন। এর নাম দেওয়া হয়েছে Mars-1a.

উচ্চ চাপ প্রয়োগ করে এই মাটিকে কঠিন বস্তুর আকার দেওয়া হয় যা দেখতে নীরেট পাথরের মতো। মাটিতে বিদ্যমান আয়রন অক্সাইডের ন্যানো কনিকা এই ক্ষেত্রে বন্ধনগঠনে সাহায্য করে। এই ধরনের ন্যানোকণিকা মঙ্গলের মাটিতেও বিদ্যমান রয়েছে। মঙ্গলের মাটির তৈরি ইট দেখতে হবে নিচের ছবির মতো:

সাধারণভাবে, মঙ্গলের নির্দিষ্ট কিছু মাটি স্বয়ং-আকর্ষক (self-cohesive), অর্থাৎ ধূলিকণাগুলো একে অপরের সাথে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা দেখায়।

এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কেননা এর অর্থ হলো মঙ্গলে কোনো স্থাপনা নির্মান করতে হলে আমাদের রকেটে করে টনকে টন ইট বয়ে নিয়ে যেতে হবে না। শুধু তাই নয়, একই সাথে এই মাটি থেকে নির্মান সামগ্রী তৈরির জন্য আমাদের বাড়তি কোনো বস্তুরও দরকার হবে না। শুধু চাপ দিয়ে কঠিন করার একটি যন্ত্র হলেই চলবে।

মঙ্গলে মানব অভিযানের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো বিপুল পরিমাণ বোঝা বয়ে নিয়ে যাওয়া যা এর মাধ্যমে বেশ খানিকটা লাঘব হতে পারে। কিছুদিন আগেই আমরা দেখেছি থ্রিডি প্রিন্টিংএর মাধ্যমে মঙ্গলের মাটি থেকে নির্মান সামগ্রী নির্মান। এই প্রযুক্তিটিও মঙ্গলে মানুষের উপনিবেশ স্থাপনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক