ইন্দোনেশিয়ায় সফল এক অস্ত্রপ্রোচারের মাধ্যমে দশ মাস বয়সী এক শিশুর শরীরের নিম্নাংশ থেকে পরজীবীয় জমজ মানব ভ্রুণ অপসারণ করা হয়েছে।

শিশুটির পেট খরমুজ ফলের আকৃতিতে ফুলে যাওয়ায় গত ১১ই মার্চ লম্বক দ্বীপের তেংগারা প্রাদেশিক জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার বাবা-মা ভয় পেয়েছিলেন হয়তো তার পেটে কোন টিউমার রয়েছে, কিন্তু সিটি স্ক্যান এবং এক্স-রের ছবিতে দেখা যায় সেখানে মেরুদন্ড ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অস্থিময় রূপরেখার একটি ভ্রুণের মতো পিন্ড রয়েছে।

শনিবার ডাক্তারের একটি দল দেড় ঘন্টা প্রচেষ্টার পর পিন্ডটি সরাতে সক্ষম হন। হাসপাতালটির একজন ডাক্তার লালু হামজি ফিকরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমাদের চিকিৎসক দল শিশুটির উপর সফল অস্ত্রপ্রোচার করে ৪০০-গ্রামের একটি ভ্রূণ অপসারণ করতে পেরেছেন।” তিনি আরও বলেন,শিশুটি এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।

অপসারিত ভ্রূণটি পরীক্ষা করে দেখা যায় এটি পুরুষ ছিলো তবে সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হতে পারেনি। এটি ‘ভ্রূণের মধ্যে ভ্রূণ’ মতো একটি বিরল অবস্থার সাথে মিলে গিয়েছে। যেখানে একটি ভ্রূণের ভেতর অন্য একটি ভ্রূণ আংশিক বা পুরোপুরিভাবে গঠিত হয় বিকশিত হতে থাকে।

১৮০০ সালের শুরুর দিকে বিশ্বব্যাপী প্রায় দুই শত ভ্রূণের ভেতর ভ্রূণের কেস নথিভুক্ত হয়েছিলো। ক্ষুদ্র ভ্রূণগুলোর সাধারণত একটি মেরুদন্ড, চেহারা এবং বিভিন্ন অঙ্গ থেকে থাকলেও কোন মস্তিষ্ক বা মাথার খুলি থাকেনা। এটা অনেকটা পরজীবীর মতো আচরণ করে থাকে।

পরজীবী ভ্রূণ শরীরের নিম্নাংশে, মাথার খুলি, পেটে, বুকসহ দেহের বিভিন্ন অংশে দেখা গিয়েছে। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একটি সদ্য ভুমিষ্ট শিশুর পেটের ভেতর ১১টি পিন্ড পাওয়া যাওয়ার খাবর মিলেছিলো।

পরজীবীয় যুগলঃ
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের রয়েল ওমেন’স হসপিটাল থেকে মার্ক আমস্ট্যাট বলেন, দুটি ভ্রূণকে যখন একসঙ্গে একটি গর্ভ শুষে নেয় তখন পরজীবীয় যুগল অবস্থা দেখা যায়। তিনি আরও বলেন, এটা তখনি সম্ভব হবে যখন কোন যমজ ভ্রূণ একই ডিম্বানু থেকে উদ্ভূত হবে এবং একই গর্ভফুল বা প্ল্যাসেন্টা ভাগ করে নেয়।

ভ্রূণ সাধারণত একটি সমতল গোলাকার অবস্থা থেকে শুরু হয় তবে ৪ সপ্তাহ পরে দেহের মৌলিক আকৃতির গঠনে ভাজ হতে শুরু হয়। [নিউসায়েন্টিস্ট-অবলম্বনে]

-শফিকুল ইসলাম