কৃষিকাজের সূচনালগ্ন থেকে মানব সম্প্রদায় কৃত্রিমভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে ফসলের জাতের উন্নয়ন ঘটিয়ে আসছে। এই প্রক্রিয়াটি সরল তবে খুব ধীর এবং অনেক প্রজন্মের প্রয়াস। যখন একটি জীব বংশবিস্তারের মাধ্যমে বেশকিছু শিশু সন্তান জন্ম দেয় তখন তারা পিতামাতার জিন বহন করলেও বিক্ষিপ্তভাবে তাদের জিনে কিছু পার্থক্য তৈরি হয়ে যায় ডিএনএ-তে মিউটেশনের কারণে। এর ফলে এদের মধ্যে প্রতি প্রজন্মে বৈশিষ্ট্যে সামান্য কিছু পার্থক্য দেখা দেয়। এই নবজাতকসমূহ হতে আমরা যদি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের আলোকে বেছে নিয়ে আবার তাদের বংশবিস্তার ঘটাই তাহলে দেখা যাবে মিউটেশনের মাধ্যমে কিছু কিছু নবজাতকে বিক্ষিপ্তভাবে সেই বৈশিষ্ট্যটি আরো প্রগাঢ় হচ্ছে। এই নির্বাচন প্রক্রিয়াটি শুধু কৃত্রিমভাবেই ঘটানো যায় তা নয়, প্রকৃতিকভাবেও প্রতিনিয়ত এই ধরনের ঘটনা ঘটছে, যার মাধ্যমে নতুন নতুন প্রজাতি সৃষ্টি হচ্ছে। প্রাকৃতিকভাবে ঘটে যাওয়া এই প্রক্রিয়াকে আমরা নাম দিয়েছি প্রাকৃতিক নির্বাচন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমরা যদি লম্বা পায়ের ব্যাঙ তৈরি করতে চাই তাহলে একজোড়া ব্যাঙ এর বংশধরের মধ্য থেকে বেছে সবচেয়ে লম্বা পায়ের কয়েটি ব্যাঙ নিয়ে প্রজনন ঘটাতে পারি। তখন দেখা যাবে এদের বংশধরের মধ্যে মিউটেশনের কারণে কিছু কিছু ব্যাঙ-এর অপেক্ষাকৃত লম্বা পা তৈরি হচ্ছে। সেই অপেক্ষাকৃত লম্বা পায়ের ব্যাঙ নিয়ে আমরা আবার বংশবিস্তার চালিয়ে যেতে পারি। এভাবে বংশ বিস্তার ঘটিয়ে যেতে যেতে এবং কৃত্রিমভাবে বাছাই করতে করতে আমরা বেশ লম্বা লম্বা পা যুক্ত ব্যাঙএর উদ্ভব ঘটাতে পারি। এভাবেই নেকড়ে হতে কৃত্রিম নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ বর্তমানে হাজার হাজার প্রকারের কুকুরের জাত তৈরি করেছে নিজেদের পছন্দ মতো।

সম্প্রতি জাস্টিন কোবাইলকা নামের এক ব্যক্তি কৃত্রিম নির্বাচনের মাধ্যমে বাছাই করে সুনির্দিষ্ট প্যাটার্নের ছোপযুক্ত অজগরের জন্ম দিয়েছেন। তিনি সাপের চামড়ায় ইন্টারনেটের ইমোটিকনের আদলে ছোপ তৈরি করেছেন। দীর্ঘ আট বছর ধরে প্রজনন ঘটাতে ঘটাতে এবং নিজের হাতে বাছাই করতে করতে তিনি এই অবস্থায় পৌঁছেছেন। এই সুনির্দিষ্ট ছোপের অজগরটি অন্ততঃ ৪৫০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা করেন। [sciencealert অবলম্বনে]

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক