Saturday, October 23, 2021
বাড়িমানবদেহপ্রশান্ত মহাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের মানুষ অজানা প্রজাতির এক ডিএনএ বহন করে চলেছে

প্রশান্ত মহাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের মানুষ অজানা প্রজাতির এক ডিএনএ বহন করে চলেছে

- Advertisement -

উত্তর-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বসবাস করা আধুনিক মিলানেসিয়ান জাতীর মানুষের ডিএনএতে বিলুপ্ত এবং অজ্ঞাত মানব প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেছে।

নতুন পাওয়া এই জেনেটিক মডেল এবং দুটি প্রাচীন প্রজাতির প্রতিনিধিত্বকারী জীবাশ্ম নথি থেকে ধারনা করা হচ্ছে যে, এরা নিয়ান্ডারথাল কিংবা ডেনিসোভান প্রাজাতি নয়।

টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজনন বিদ্যা বিশেষজ্ঞ রেয়ান বোলেন্ডার সাইন্স নিউজকে বলেন, “হয় আমরা একটি অধিবাসীর উপস্থিতি টের পাচ্ছিনা অথবা এদের সঙ্গে সৃষ্ট আন্তঃসম্পর্ক সম্পর্কে আমাদের ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে।”

বোলেন্ডার এবং তাঁর দল আজকের আধুনিক মানুষগুলো বিলুপ্ত হোমিনিডের যে ডিএনএ এখনো বহন করে চলেছে তার শতকরা হিসাব তদন্ত করেছেন। এবং তাঁরা দেখেন তাঁদের আগের বিশ্লেষণে আমাদের সঙ্গে নিয়ান্ডারথাল ও ডেনিসোভান প্রজাতির যে মিল থাকার সুপারিশ করেছিলেন সেটাই পুরোটা নয়। এর বাইরেও আরেকটা প্রজাতির অস্তিত্ত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ধারণা করা হয় যে, ১ লক্ষ অথবা ৬০ হাজার বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষরা আফ্রিকার বাইরে চলে আসে এবং ইউরেশীয় ভূখন্ডে বসবাসকৃত হোমিনিড প্রজাতির সাথে প্রথম মিলিত হয়। আর এই মিলিত হওয়াই আমাদের জিনের মাঝে একটা ছাপ ফেলে যায়। আজও ইউরোপীয় ও এশীয়রা নিয়ান্ডারথাল ডিএনএতে স্বতন্ত্র জেনেটিক রূপ বহন করে চলেছে।

আর শুধু এটাই নয়। গবেষকগণ যে ইউরোপীয় বংশদ্ভূত মানুষগুলো নিয়ান্ডারথালদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে যেসব নির্দিষ্ট জেনেটিক রূপগুলো বহন করছে সেগুলো তদন্ত করছেন। তাঁরা দেখতে পান এই মানুষগুলো সামান্য বিষন্নতা, হৃদ রোগ এবং ত্বকের কিছু সমস্যায় আক্রান্ত।

একটি পৃথক গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে যে, নিয়ান্ডারথাল ও ডেনিসোভানদের সাথে আমাদের পূর্ব পুরুষরা  যৌন সংস্পর্শে আসার পর আফ্রিকা ত্যাগ করে এবং এর ফলে আধুনিক যৌনাঙ্গের আঁচিল যা human papillomavirus (HPV) নামে পরিচিত তা হোমো সেপিয়েন্সদের মাঝে প্রবাহিত হয়েছিল।

যদিও নিয়ান্ডারথালদের সাথে আমাদের সম্পর্ক ব্যাপকভাবে গবেষণা করা হয়েছে তবে ডেনিসোভানদের দূরবর্তী আত্মীয় হিসেবে তাদের সাথে আমরা কেমন আচরণ করেছি এখনো স্পষ্ট নয়। সমস্যাটা হচ্ছে জীবাশ্ম নথিতে নিয়ান্ডারথালদের জেনেটিক তথ্য সুশৃংখলভাবেই প্রকাশ পাচ্ছে, যদিও ইউরোপ এশিয়াতে এখনো অনেক দেহাবশেষ অনাবিষ্কৃত রয়েছে। কিন্তু ২০০৮ সালে সাইবেরিয়ার একটি গুহা থেকে ডেনিসোভান প্রজাতির একটি লম্বা আঙ্গুলের হাড়, এক জোড়া দাত খুঁজে পাওয়া গিয়েছে।

আধুনিক মানুষ কি পরিমাণ নিয়ান্ডারথাল ও ডেনিসোভানদের ডিএনএ বহন করে চলেছে তা নির্ধারণ করার জন্য একটি আধুনিক কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে চলছেন। বোলেন্ডার এবং তাঁর দল ইউরোপীয় ও চীনা মানুষদের ডিএনএ তে প্রায় ২.৮ শতাংশ নিয়ান্ডারথালদের অনুরূপ ডিএনএ দেখতে পেয়েছেন।

এই ফলাফলটি পূর্ববর্তী ফলাফলের সাথে অনেকটাই মিলে যায়। যাতে দেখা যায় গড়ে ১.৫ থেকে ৪ শতাংশ নিয়ান্ডারথাল ডিএনএ ইউরোপীয় ও এশীয়রা বহন করে চলেছে।

কিন্তু যখন তাঁরা ডেনিসোভানদের ডিএনএ খুঁজে পেলেন তখন বিষয়টা আরেকটু জটিল হয়ে পরে। বিশেষ করে এটা যখন আধুনিক মিলানেসিয়ানে বসবাস করা জনগোষ্ঠির নিকট চলে আসে। যা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ভানুয়াতু, ফিজি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, পাপুয়া নিউগিনি, নিউ ক্যালেডোনিয়া, পশ্চিম পাপুয়া ও মালুকু দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত।

সাইন্স নিজের বর্ণনা মতে, “বোলেন্ডারের গণনা অনুসারে ইউরোপীয়দের মাঝে ডেনিসোভান পূর্বপুরুষদের কোন সংকেত পাওয়া যায়নি তবে চীনাদের মাঝে অল্প পরিমাণে রয়েছে যা ০.১ শতাংশ। কিন্তু পাপুয়া নিউগিনির অধিবাসীদের ডিএনএ ২.৭৪ শতাংশ নিয়ান্ডারথালদের থেকে আসে। এবং বোলেন্ডার মিলানেসিয়ানদের ডিএনএতে ডেনিসোভানের মাত্রা নির্ধারণ করেন ১.১১ শতাংশ যা অন্যান্য গবেষকগণ ৩ থেকে ৪ ভাগ ধরেছিলেন।

বোলেন্ডার এবং তাঁর দল যখন ডেনিসোভানের অমিল খোজ করছিলেন তখন তাঁরা একটি উপসংহারে আসেন। তাঁরা বলেন, হোমিনিড নামে তৃতীয় একটি দল আমাদের পূর্বপুরুষদের বেড়ে উঠেছিলো।”

বোলেন্ডার বলেন, “মানুষের ইতিহাস আমাদের ভাবনার চেয়েও অনেক জটিল।”

এই গবেষণাটি ডেনমার্কের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম পরিচালিত অন্য একটি গবেষনাতেও সঠিক হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এই গবেষকগণ অস্ট্রেলিয়ার ৮৩ জন আদিবাসী ও পাপুয়া নিউগিনির উচ্চভূমীর ২৫ জিন স্থানীয় বসতীদের ডিএনএ বিশ্লেষন করেছেন। এই গবেষণাটি ছিলো অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের উপর চালানো সবচেয়ে  বড় জেনেটিক গবেষণা। এবং এটা ইঙ্গিত করে যে, এটিই হচ্ছে পৃথবীর চলমান প্রাচীনতম সভ্যতা যার শুরু হয়েছিল ৫০ হাজার বছর আগে।

কিন্তু এর ফলাফল অন্যকিছু বলছিলো। এদের ডিএনএ ডেনিসোভানের সাথে কিছুটা মিল থাকলেও অনেকটাই স্বতন্ত্র ছিলো যার ফলে গবেষকগণ সুপারিশ করেন এটি তৃতীয় কোন দল থেকে এসেছে। যা অনাবিষ্কৃত হোমিনিড প্রজাতির।

প্রধান গবেষক এস্কি উইলারস্লেভ বলেন, “এরা সেই প্রজাতি যাদের সম্পর্কে আমরা এখনো কিছু জানতে পারিনি।”

যতক্ষণ না এই তৃতীয় মানব প্রজাতি তত্ত্বের বাস্তব কোন প্রমাণ (কিছু জীবাশ্ম) খুঁজে পাচ্ছি ততোক্ষণ আমরা এটা প্রমাণ করতে পারব না। তবে আমারা বোলেন্ডার হিসাবকে পিয়ার-রিভিউ হিসেবে নির্ধারণ করতে পারি, যাতে তাঁরা আরো সুনির্দিষ্ট ধারণার অবতারণা করতে পারেন।

আর এটা হতে পারে যে, শুধুমাত্র একটি আঙ্গুলের হাড় ও এক জোড়া দাঁত ডেনিসোভান ডিএনএর পরিচয় হিসেবে আমাদের ধরণার চেয়েও অস্পষ্ট । কিন্তু এই প্রমাণ প্রাচীন মানুষদের সাথে আমদের মিথস্ক্রিয়ার পটভূমি আমাদের ধরণার চেয়েও অনেক জটিল। আপনি যখন এ বিষয়ে চিন্তা করবেন তখন খুব একটা আশ্চর্য হওয়ার কারণ নেই।

শুধুমাত্র আমাদের জীবাশ্ম নথিতে তাদের অন্তর্ভুক্তি নেই এর মানে এই না যে তাদের অস্তিত্ত্ব নেই। তাদের দেহাবশেষ শত সহস্র বছর সংরক্ষণ করা এবং তাদের খুঁজে বের করার জন্য সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় খনন করা খুব একটা সহজ কাজ নয়।

আশা করছি যত বেশি আমরা তদন্ত করবো তত বেশি প্রাচীন সমাজের নেপথ্য জেনেটিক তথ্য সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবো।

-শফিকুল ইসলাম

বিজ্ঞান পত্রিকার ইউটিউব চ্যানেল চালু হয়েছে।
এই লিংকে ক্লিক করে ইউটিউব চ্যানেল হতে ভিডিও দেখুন।
- Advertisement -

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সম্পর্কিত খবর

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

Stay Connected

যুক্ত থাকুন

302,058ভক্তমত
783গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব

Must Read

সম্পর্কিত পোস্ট

- Advertisement -
- Advertisement -

সবসময়ের জনপ্রিয়

সবচেয়ে আলোচিত

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -