আপনার হয়তো মনে থাকবে ২০০২, ২০১০ কিংবা ২০১৪ সালের বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা হোমিওপ্যাথির অকার্যকরীতা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত প্রকাশ  করেছেন। কিন্তু এখন অস্ট্রেলিয়ার গবেষকদের ১,৮০০ গবেষণাপত্রের বিশ্লেষণে দেখা  গেছে,  অতিমাত্রায় লঘু দ্রবীভুত বস্তুনির্ভর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা  রোগ নিরাময়ে একদমই অকার্যকর।

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ হোমিওপ্যাথির ১,৮০০ এর উপর গবেষণা থেকে মাত্র ২২৫ টি গবেষণা খুঁজে পেয়েছিলেন যা বিশ্লেষণ করা যায়। আর এই গবেষণার একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ পর্যলোচনা থেকে পাওয়া যায় “এমন কোন ভাল প্রমাণ নেই যা হোমিওপ্যাথিকে শারীরিক সুস্থতার জন্য কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে সমর্থন করে।”

অস্ট্রেলিয়ার এই গবেষণা চিকিৎসা শাস্ত্রের প্রথম সারির বিবৃতি যা ব্যাপক পর্যলোচনার উপর নির্ভর করে করা হয়েছে। এটি ২০০ বছরের প্রচলিত বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির উপর আঘাত হেনেছে। ওয়াশিংটন পোষ্টে –র প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৪ মিলিয়ন আমেরিকাবাসী  হোমিওপ্যাথি ‘ওষুধ’ ব্যবহার করে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মাঝে রয়েছে ধারনা করে গবেষকগণ উদ্বিগ্ন।

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের প্রধান দি গার্ডিয়ান-কে আশাবাদ জানিয়ে বলেছেন এই তথ্য অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য বীমা এবং ফার্মেসী পদ্ধতির মধ্যে পরিবর্তন আনবে। তবে তিনি এও বলেন, “আবার এমন লোকেরও অভাব পড়বে না যারা এই তথ্যে সাড়া দেবে না এবং বলবে এটা পুরোটাই (বা আগাগোড়া) ষড়যন্ত্র।”

-শফিকুল ইসলাম