তিমির চতুর্পদ পূর্বপুরুষ আবিষ্কৃতঃ ডাঙ্গা এবং সামুদ্রিক প্রানীর মধ্যে যোগসূত্র

0
279

তিমি সমুদ্রের প্রানী এতে ভুল নেই কোনো। তবে এটি বর্তমান সময়ের জন্যই সত্য। কেননা তিমি, ডলফিনজাতীয় প্রানীগুলো স্থলচর চতুর্পদ প্রানীগুলো হতেই উদ্ভুত হয়েছে।

Current Biology জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায় পেরুতে আদিম তিমির একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি খুঁজে পাওয়া গেছে যেটি জল ও স্থল উভয় ক্ষেত্রেই বিচরণ করতে পারত। এই আবিষ্কার তিমিজাতীয় স্তন্যপায়ী প্রানীগুলোর বিবর্তনের দীর্ঘদিনের একটি ধাঁধার সমাধান দিচ্ছে।

তিমির উদ্ভব ঘটেছে পাঁচ কোটি বছর আগে, Artiodactyls নামক হামাগুড়ি দেওয়া স্থলচর প্রজাতির প্রানী হতে। শুরুতে তিমির পূর্বপুরুষেরা ছোট হরিনসদৃশ ছিলো। এদের চারটি পা এবং তার অগ্রপ্রান্তে ক্ষুর ছিলো। ইতিপূর্বে ভারতে প্রাপ্ত একটি ফসিল হতে জানা যায় তিমির এই পূর্বপুরুষেরা বিপদগ্রস্থ হলে জলে চরে বেড়াত তবে খাদ্যগ্রহণ এবং সন্তান জন্মদানের জন্য ডাঙ্গায় উঠে আসত। অগভীর পানিতে এরা সামুদ্রিক উদ্ভিদ এবং অমেরুদন্ডী প্রানী খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করত এবং পরবর্তীতে ছোট মাছ এবং উভচর প্রানীকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করে।

৫.৩ কোটি বছর আগে সবচেয়ে প্রাচীন প্রাগৈহাসিক তিমির ফসিলটি পাওয়া যায় উত্তর ভারতীয় হিমালয়ে বর্তমান পাকিস্তানে। এই ফসিল সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ে জলে বিচরণযোগ্য প্রানীর নির্দেশ দেয় যারা একই সময় ডাঙ্গাও চলাচল করতে পারত।

শিল্পীর কল্পনায় Peregocetus pacificus (Alberto Gennari/Cell Press)।

প্রায় ৪.২ কোটি বছর আগে নতুন আবিষ্কৃত Peregocetus pacificus পৃথিবীর অন্য পৃষ্ঠ বরাবর যাত্রা শুরু করে। মধ্য ইওসিন (Eocene) যুগে (মোটামুটি ৪.৮ হতে ৩.৮ কোটি বছর পূর্বে) আফ্রিকা এবং দক্ষিন আমেরিকার মধ্যে দূরত্ব ছিলো বর্তমান সময়ের অর্ধেক। তবে তারপরও ছোট একটি চতুষ্পদ প্রানীর সাঁতরে দক্ষিন মেরুতে গিয়ে পৌঁছাতে তেমন বেগ পেতে হয়নি।

৪.২ কোটি বছর প্রাচীন P. pacificus এর পশ্চাতপদ অগ্রপদের তুলনায় বেশী ছোট নয় এবং এর প্রান্তে আঙুলের ফাঁকে খাঁজ দেখে মনে হয় এটি তখনো পানির বাইরে গিয়ে ডাঙ্গায় বেশ ভালোই বিচরণযোগ্য ছিল। তবে কঙ্কালের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য দেখে মনে হয় জলজ জীবন-যাপনে এটি ভালোই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলো। [SCIENCEALERT অবলম্বনে]

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.