বাজারে আসছে প্রশান্তিময় আত্মহত্যার যন্ত্র!

0
68

মৃত্যুর মতো বিশাল ব্যাপার হয়ে যেতে পারে একটি মাত্র বোতাম টেপার মতো সহজ, দ্রুত এবং ব্যাথাহীন। ভবিষ্যতের জন্য তৈরি বিশ্বের প্রথম আত্মহত্যার যন্ত্রের নির্মাতা তেমনই মনে করছেন।

ড. ডেথ নামে পরিচিতি, ড. ফিলিপ নিটশ্কে মৃত্যু সম্পর্কিত যন্ত্রপাতির নকশা করে থাকেন। সম্প্রতি আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত শেষকৃত্য মেলায় তিনি তাঁর নববউদ্ভাবিত এবং ত্রিমাত্রিক প্রিন্টিংএর মাধ্যমে নির্মিত এই আত্মহত্যার যন্ত্র উপস্থাপন করেন। যন্ত্রটি কীভাবে কাজ করে তা ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে যে কেউ পরীক্ষাও করে দেখতে পারে।

নিটশ্কের বিবৃতি অনুযায়ী থ্রিডি প্রিন্টিংএর জন্য এই যন্ত্রের নকশা আগামী বছর হতে ইন্টারনেটে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। বিভিন্ন যন্ত্রাংশে গঠিত এই যন্ত্রটিকে যে কোন স্থানে জুড়ে নিয়ে কাজে লাগানো যাবে। এর ফলে ব্যক্তির ‘শান্তিময় বিদায়’ নিশ্চিত হবে।

যন্ত্রটির নকশা পাওয়ার আগে একজন ব্যক্তিকে অনলাইনে পরীক্ষা দিয়ে নিজেকে মানসিকভাবে সুস্থ প্রমাণ করতে হবে। পরীক্ষায় কৃতকার্য হলে তাঁরা ২৪ ঘন্টার জন্য একটি একসেস কোড পাবেন।

সার্কো নামকৃত এই যন্ত্রটি একটি জেনারেটরের উপর স্থাপিত হবে যা তরল নাইট্রোজেন ব্যবহার করে বায়ুর অক্সিজেনের মাত্রা কমাতে থাকবে। এর ফলে ব্যক্তির শরীর ক্রমশঃ নিস্তেজ হয়ে আসবে। এর ফলে হৃদগতি, শ্বাঁস প্রশ্বাস বৃদ্ধি পাবে, ঘাম বের হবে এবং নিটশ্কের কথা অনুযায়ী এক মিনিটের মধ্যে ব্যক্তি অচেতন হয়ে পড়বে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু নিশ্চিত হবে।

যন্দ্রটিতে চালু করার জন্য ব্যক্তিকে এর কুঠুরিতে ঢুকে পেছে হেলে শুয়ে পড়তে হবে এবং একটি মাত্র বোতাম চালু করতে হবে।

স্বেচ্ছামৃত্যু (Euthanasia) নিয়ে সারা পৃথিবীতেই ধর্মীয় ও নৈতিক বিতর্ক রয়েছে। তবে আধুনিক সভ্যতার অনেকেই মনে করেন একজন মানুষের নিজেকে দুনিয়া হতে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিৎ। বর্তমানে ইউরোপের বেশ কিচু দেশসহ দক্ষিন কোরিয়া, জাপান, কানাডা, ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু রাজ্যে স্বেচ্ছামৃত্যুর বৈধতা রয়েছে। [IFLScience অবলম্বনে।]

বিজ্ঞান পত্রিকা প্রকাশিত ভিডিওগুলো দেখতে পাবেন ইউটিউবে। লিংক:
১. টেলিভিশনঃ তখন ও এখন
২. স্পেস এক্সের মঙ্গলে মানব বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা
3. মাইক্রোস্কোপের নিচের দুনিয়া

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.