কোটি কোটি বছর আগে উন্নত প্রযুক্তির জীব থাকার সম্ভাবনা পৃথিবীতে

0

আমরা ভাবতে পছন্দ করি যে আমরা মানবজাতি একটি ব্যাতিক্রম,আমরা আমাদের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এক বিস্তৃত জটিল শিল্পোন্নত সভ্যতা গড়ে তুলেছি যা এই পৃথিবীতে আগে কখনো দেখা যায়নি |কিন্তু আমরা কি সত্যিই জানতে পারবো যদি মিলিয়ন মিলিয়ন বছর আগে অন্য কোন প্রাণীরা পৃথিবীতে বিশাল শহর গড়ে তুলে কিংবা পৃথিবীর ভূপ্রাকৃতিক দৃশ্য পাল্টে তাঁদের নিজস্ব কোন সভ্যতা গড়ে তুলে থাকে? তাদের কার্যকলাপের কি কি চিহ্ন অক্ষত থাকবে আমাদের আবিষ্কারের জন্যে?

এটিই নাসার গডার্ড ইনস্টিটিউট ফর স্পেস স্টাডিস এর ডিরেক্টর গ্যাভিন স্ক্যামিডট এবং রোচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স এবং এস্ট্রোনমির অধ্যাপক অ্যাডাম ফ্রাঙ্কের তাত্ত্বিক গবেষণার বিষয় | তাঁরা জানতে চাইছেন, প্রযুক্তিগতভাবে খুবই উন্নত কোন সভ্যতার কোন প্রমাণ কি লক্ষ কোটি বছর টিকে থাকতে পারে কিনা, আর যদি টিকে থাকে সময়ের বিবর্তনে তা কি রূপ ধারন করতে পারে? তাঁদের গবেষনার প্রাপ্ত ফলাফল এ্যাস্ট্রোবায়োলজির আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

ফ্রাঙ্ক তাঁদের গবেষনা হতে প্রাপ্ত ফলাফল সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, “গ্যাভিন এবং আমি অন্য কোন শিল্পোন্নত সভ্যতার নিদর্শনের কোন প্রমান খুঁজে পায়নি| তারা যেহেতু মানব সভ্যতার পূর্ববর্তী কোন সভ্যতার অস্তিত্বের কোন প্রমাণ খুঁজে পাননি তাই তারা এর পরে খুঁজে দেখছেন আমরা মানুষেরা এই পৃথিবীর উপর কি ধরনের প্রভাব ফেলছি এবং ভবিষ্যতে কত বছর পর্যন্ত এইসব প্রভাবের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যেতে পারে? এই প্রশ্ন আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতকে  নতুন আঙ্গিকে ভাবিয়ে তোলে। ভাবিয়ে তোলে কিভাবে যেকোন বৈশ্বিক সভ্যতা গড়ে উঠে এবং সময়ের পরিক্রমায় তা ধ্বংস হয়ে যায়|

আমরা যখন অতীত সভ্যতার বিভিন্ন প্রমাণের দিকে তাকাই কয়েক হাজার বছর আগের বিভিন্ন স্থাপনা, ধ্বংসাবশেষ হয়তো দেখতে পাই! কিন্তু কয়েক মিলিয়ন বছর বা কয়েক বিলিয়ন বছরের পুরোনো এধরনের স্থাপনার অথবা সভ্যতার প্রমাণের কথা চিন্তা করলে আসলে তেমন কোনো প্রমাণ অক্ষত নাই বললেই চলে| সংশয়াতীত ভাবে এসব অবশিষ্ট ধ্বংসাবশেষও কালের গর্ভে লক্ষ লক্ষ বছর পরে একদিন ধুলোতে পরিণত হবে |

ডঃ হু এর বর্নিত প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত সরীসৃপ এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে একে বলা হচ্ছে  “Silurian hypothesis”! যার মাধ্যমে ধারনা করার চেষ্টা করা হয়েছে ৬০ মিলিয়ন বছর আগে যদি কোন সভ্যতা ১০০,০০০ বছর বা তার কাছাকাছি সময় টিকে থাকে তবে তার কি প্রমাণ এখনো টিকে থাকার সম্ভাবনা আছে|

এই সময়কাল অত্যন্ত সুদীর্ঘ মনে হলেও পৃথিবীর ইতিহাসের কাছে তা এক পলক মাত্র! এক্ষেত্রে অন্যকিছু তো নয়ই এমনকি ফসিল পাওয়ার সম্ভাবনাও অত্যন্ত ক্ষীণ।

আমরা মানবসভ্যতা এখন আমাদের অস্তিত্বের সে সমস্ত প্রমাণ রেখে যাচ্ছি যা ১০০ মিলিয়ন বছর পরেও খুঁজে পাওয়া যাবে| ৭ বিলিয়ন জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটাতে গিয়ে আমরা নাইট্রোজেন চক্রের পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলেছি যার অধিকাংশই বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অবশেষে স্থান পাচ্ছে সমুদ্রের নিচে অথবা পর্বতের উপরে| অন্যদিকে যেসব মূল্যবান খনিজ একসময় মাটির গভীরে লুকানো ছিল বিভিন্ন জটিল প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে তা সহজেই আবিষ্কৃত হয়ে স্থান পাচ্ছে ভূপৃষ্টের উপরে|

তাছাড়া বিভিন্ন ফসিল ফুয়েল জ্বালানোর ফলে কার্বন চক্রের পরিবর্তন ঘটেছে এবং বিশাল পরিমাণ প্লাস্টিকের ব্যবহারের কথাও বলার অপেক্ষা রাখে না| কেউ কেউ এমনও বলেন যে বিশাল পরিমাণ প্লাস্টিক তৈরীর মাধ্যমে আমরা আসলে নতুন এক ধরনের শিলার সৃষ্টি করছি যা দূর ভবিষ্যতেও সহজেই আলাদা করে চেনা যাবে| এর সবই এ মুহুর্তে তাত্ত্বিক ভাবনা তবে তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ন যৌক্তিকতা রয়েছে| অতীতে উন্নত সভ্যতার অস্তিত্বের প্রমাণ খুঁজতেও আমাদের এধরনের প্রমাণই খুঁজতে হবে|

গ্যাভিন বলেন,”এক সময় মঙ্গল কিংবা শনিরপৃষ্টও হয়তো এখনের চেয়ে অনেক বেশি বাসযোগ্য ছিল এবং একসময় আমরা হয়তো সেখানকার ভূপৃষ্ঠেও খনন করে প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ খোঁজাখুঁজি করবো! এর ফলে আমরা বুঝতে পারবো সেখানেঅনুসন্ধানে গেলে আমাদের আসলে কি খুঁজতে হবে”। [IFLScience অবলম্বনে]

-অনির্বাণ দাশ গুপ্ত
Share.

মন্তব্য করুন