অদ্ভুতদর্শন গভীর সমুদ্রের প্রানী প্রথমবারের মতো শনাক্ত

0

এ্যাংলার ফিশের (Anglerfish) কথা এর আগেই বিজ্ঞান পত্রিকার পাঠকদের জানানো হয়েছে। এরা এক প্রকার মাছ যারা এক অদ্ভুত ধরনের প্রজনন ব্যবস্থা প্রদর্শন করে। এদের স্ত্রী মাছটি আকারে পুরুষ মাছের তুলনা অনেক বড় হয় (চিত্র দ্রষ্টব্য)। প্রকৃতপক্ষে পুরুষ মাছের পরিপাক তন্ত্র একটি নির্দিষ্ট আকারের পর অকেজো হয়ে পড়ে এবং এরা খাদ্যগ্রহনে অক্ষম হয়ে বৃদ্ধি ব্যহত হয়। তাই এদের বেঁচে থাকাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। এই অবস্থা মোকাবেলার জন্য এদের খুব অল্প সময়ের মধ্য স্ত্রী মাছ খুঁজে বের করতে হয়। এই কাজটি এরা মূলতঃ ঘ্রাণের মাধ্যমে করে থাকে। যখন একটি পুরুষ মাছ একটি স্ত্রী মাছের দেখা পায়, তখন পুরুষ মাছটি স্ত্রী মাছটিকে কামড়ে ধরে এবং মুখ থেকে একধরনের এনজাইম নির্গত করে। এতে কামড়ের স্থানের চামড়া গলে গিয়ে প্রকৃত অর্থেই পুরুষমাছটি স্ত্রী মাছের সাথে একীভূত হয়ে যায়। এই একীভবন রক্তনালী পর্যায়ে পৌঁছায় এবং স্ত্রী মাছটি যতদিন বেঁচে থাকে ততদিন পুরুষ মাছটি এভাবেই স্ত্রী মাছটির পরজীবির হিসেবে বেঁচে থাকে এবং একীভুত রক্তনালীর মাধ্যমে পুষ্টি সংগ্রহ করে।

এভাবে একপর্যায়ে পুরুষমাছটি প্রজননের জন্য শুক্রাণুও সরবরাহ করে। যেহেতু পুরুষমাছটি সর্বদাই সংযুক্ত থাকে ফলে স্ত্রী মাছটির নিষিক্ত হওয়ার সময় হলেই শুক্রাণুর সরবরাহ পায় তাই এটি বেশ কার্যকর প্রজনন প্রক্রিয়া। পুরুষ মাছটি ছোট হওয়ায় একটি স্ত্রী মাছে একসাথে একাধিক পুরুষ একীভুত হয়ে থাকতে পারে। কিছু প্রজাতির এংলার ফিশে সর্বাধিক আটটি পর্যন্ত পুরুষ মাছ স্ত্রী মাছের সাথে একীভুত থাকতে দেখা গেছে।

সম্প্রতি আটলান্টিক মহাসাগরের গভীর সমুদ্রের নিকষ কালো পানিতে অদ্ভুত দর্শন এক স্ত্রী অ্যাংলার ফিশকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। এই মাছের শরীর হতে আলো ছড়ানো উজ্জল মাছ ধরার বড়শির মতো বের হয়ে আছে। তার  পাখনার অগ্রপ্রান্তেও উজ্জ্বল প্রতিপ্রভা দেখা গেছে। একটি ছোট পুরুষ মাছকে তার পেটে একীভুত হয়ে থাকতে দেখা গেছে।

পর্তুগালের দক্ষিনে সাও জর্জ দ্বীপের সমুদ্র তট সংলগ্ন এলাকায় জার্মান গবেষক কির্স্টেন এবং জোয়াকিম জ্যাকবসেন এই বিরল ও অনন্যসাধারণ দৃশ্য ধারণ করেন। এই কাজে তাঁরা ব্যবহার করেছেন লুলা ১০০০ নামে একটি গভীরসমুদ্রগমনযোগ্য যান।

ইতিপূর্বে গবেষকগণের এই প্রজাতির এ্যাংলার ফিশ (Caulophryne jordani) সম্বন্ধে কোনো ধারনাই ছিলো না।  কিন্তু সমুদ্রের ২৬০০ ফুট গভীরে ধারণ করা ২৫ মিনিট লম্বা এই ভিডিও চিত্র সবার ধারনা পাল্টে দিয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের এ্যাকুয়াটিক ও ফিশারিজ বিভাগের এমেরিটাস অধ্যাপক টেড পিয়েটশ বলেন, “এটি সম্পূর্ণ অভিনব বিষয়, এবং এর আগে কখনোই দেখা যায়নি।” এ্যাংলার ফিশের ১৬০টি জ্ঞাত প্রজাতি আছে যারা সারা বিশ্বের সমুদ্রগুলোতে ছড়িয়ে আছে। কিন্তু এদের পর্যবেক্ষণ করা খুবই বিরল। এই যাবৎ কেবল ১৬ প্রজাতির মাছ বয়ামে সংরক্ষণ করা গেছে। এবং এবারেরটি সহ কেবল তৃতীয়বারের মতো গবেষকগণ কোনো জীবন্ত এ্যাংলার ফিশের ভিডিও ধারণ করতে পেরেছেন। [livescience অবলম্বনে]

 

Share.

মন্তব্য করুন