সীমাহীন নির্মল বিদ্যুতের দিকে আরেকধাপ : ২০৩০ সালের মধ্যে ফিউশন পারমানবিক শক্তি

0
99

যুক্তরাজ্যের নবনির্মিত ফিউশন পারমানবিক চুল্লীটি প্রথমবারের মতো সফলভাবে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। এর ফলে নক্ষত্রের শক্তি উৎপাদনের একই মূলনীতিতে শক্তি উৎপাদনের পথে বিশ্ব একধাপ এগিয়ে গেল।

[ফিউশন পারমানবিক শক্তি সম্বন্ধে জানতে পড়ুন এখানে।]

টোকাম্যাক ST40 নামের এই পারমানবিক চুল্লীটির মাঝে থাকবে প্লাজমা রূপে বৈদ্যুতিক চার্জবিশিষ্ট গ্যাস এর তাপমাত্রা উঠবে ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস। আমরা আগুন ধরানোর প্রয়োজন হলে যেমন শুরুতে উচ্চ তাপমাত্রার কোনো কিছুর মাধ্যমে তা শুরু করতে হয়  ফিউশন প্রক্রিয়া চালু করার জন্য তেমনই প্রয়োজন অতি অতি উচ্চ তাপমাত্রার। এই উচ্চ তাপমাত্রায় দুটি পারমানবিক নিউক্লিয়াস একীভুত হয় নতুন একটি নিউক্লিয়াসের পরিণত হয় এবং একই সাথে বিপুল শক্তি নির্গত হয়।

চুল্লীর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টোকোম্যাক এনার্জি জানিয়েছে ২০৩০ সাল নাগাদ এটি যুক্তরাজ্যের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবারাহ করা শুরু করবে।

ফিউশন প্রক্রিয়ায় অতি উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে হাইড্রোজেন পরমাণু একীভুত হয়ে পর্যায়ক্রমে হিলিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়। এই একই প্রক্রিয়ায় সূর্য সহ অন্যান্য নক্ষত্রগুলো প্রজ্জ্বলিত থাকে। এবং এই মূলনীতিতেই হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা হয়।

নতুন এই পারমানবিক ফিউশন চুল্লীটি অক্সফোর্ডরশায়ারের মিল্টন পার্কে টোকোম্যাক এনার্জি তৈরি করেছে। এটি তাদের তৃতীয় হালনাগাদকৃত চুল্লী এবং ২০৩০ সাল নাগাদ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগকরার পাঁচধাপের পরিকল্পনার তৃতীয় ধাপ।

ফিউশন প্রক্রিয়ায় প্রায় সীমাহীনভাবে নিরবচ্ছিন্ন এবং পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এটি হাইড্রোজেনের একটি বিশেষ আইসোটোপ জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করে যা সমুদ্রের পানি নিঃষ্কাশন করে সীমাহীনভাবে অর্জন করা সম্ভব। এতে জীবাষ্ম জ্বালানীর মতো কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয় না কিংবা প্রচলিত পারমানবিক বিদ্যুতের মতো বিস্ফোরণেরও ভয় থাকে না।

কিন্তু একটি বড় সমস্যা হলো অতি উচ্চতাপমাত্রার পরিবেশ তৈরি করা। পৃথিবীর কোনো বস্তু কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ধারন করার উপযোগী নয় যার মাধ্যমে চুল্লীটি তৈরি করা হবে তাই বর্তমানে ডোনাট আকৃতির চৌম্বকক্ষেত্রে ভাসমান অবস্থায় ফিউশন ঘটানোর প্রযুক্তি গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.