মেক্সিকোর প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ হতে মহাবিশ্বের মডেল উদ্ধার

0

প্রাচীন মেক্সিকোতে বসবাসরত মানুষের হয়তো এখনকার মত শক্তিশালী টেলিস্কোপ ছিলো না কিন্তু এই সীমাবদ্ধতা মহাবিশ্ব নিয়ে তাদের কল্পনা এবং সেই কল্পনার চিত্রায়ন দমিয়ে রাখতে পারে নি। সম্প্রতি মেস্কিকো সিটি’র নিকটবর্তী নাহুয়ালাক নামক স্থানে মহাবিশ্বের এমনই একটি কল্পিত মডেল আবিষ্কৃত হয়েছে।

অবশ্য মহাবিশ্বের এই ক্ষুদ্রাকারের মডেলে নক্ষত্র বা গ্রহ চিত্রিত করা হয় নি- বরং তার বদলে দেখানো হয়েছে পৌরাণিক দানব সিপাক্টলি স্বর্গ এবং পৃথিবীকে দ্বিখন্ডিত করছে এবং প্রাণের উদ্ভব ঘটাচ্ছে। এটি প্রাচীন অ্যাজটেক সভ্যতার একটি সাধারণ পৌরাণিক বিশ্বাস।

পাথুরে এই মডেলটি আবিষ্কৃত হয়েছে একটি লেগুনের গভীরে। বস্তুতপক্ষে, মেক্সিকোর জাতীয় নৃবিজ্ঞান এবং ইতিহাস ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, এই পাথুরে কাঠামোটিকে এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছিলো যেন দেখে মনে হয় এটি পানিতে ভাসমান, পুকুরের গভীরে স্থাপিত নয়।

গবেষকগণ এক বিবৃতিতে জানান, “জল আয়নায় আলোক প্রভাবের মাধ্যমে এমন ইফেক্ট তৈরি হয়, যাতে মনে হয় এই স্থানটি আদিম স্থান ও কালের প্রতিনিধিত্ব করে এবং মহাবিশ্বের একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপিত হয়।”

আমেরিকায় প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী দানব সিপাক্টলি কুমির, মাছ এবং ব্যঙের অংশবিশেষে গঠিত এবং দেবতাদের মাধ্যমে তাতে প্রাণের প্রবাহ ঘটে। এটি মহাবিশ্বের আদিজলে ভাসমান থেকে নিজের শরীর হতে এই পৃথিবী সৃষ্টি করে। কোনো কোনো রূপকথা অনুযায়ী সিপাক্টলি নিজের শরীর বিদীর্ণ করার মাধ্যমে মহাবিশ্ব সৃষ্টির সূচনা করে।

পুরাকীর্তির স্থানটিতে আরো বেশকিছু নমুনা আবিষ্কৃত হয় যার মধ্যে রয়েছে চিনামাটির নানাবিধ বস্তু। এগুলো প্রাচীন অ্যাজটেক বৃষ্টির দেবতা ট্লালকের সাথে সম্পর্কিত। বিশেষজ্ঞগণ ধারনা করছেন এই স্থানটি জল ও স্থলের কিছু দেবতার উদ্দেশ্যে প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

যদিও ক্ষুদ্রাকারের মহাবিশ্বের মডেলটির বয়স এখনো নির্ধারণ করা হয় নি তবে প্রাপ্ত অন্যান্য সরঞ্জামগুলো তৈরি হয়েছে ৭৫০ হতে ১১৫০ খৃষ্টপূর্বাব্দে, যা থেকে এই স্থানটির ব্যবহৃত হওয়ার সময়কাল সম্বন্ধে ধারনা করা যেতে পারে। [Science Alert অবলম্বনে]

 

Share.

মন্তব্য করুন