ক্যান্সার নির্মুলে শুক্রাণুর ব্যবহার!

0

ক্যান্সারের চিকিৎসা হিসেবে কেমোথেরাপিই সবচেয়ে কার্যকর। কিন্তু এই ব্যবস্থার সমস্যা হলো এতে প্রচুর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, যার মধ্যে রয়েছে শরীরের ক্ষয়, এবং যন্ত্রনা। এর একটি কারণ হল এই পদ্ধতিতে বাছবিছারহীনভাবে ক্যান্সারযুক্ত এবং সুস্থ উভয় ধরনের কোষ ধ্বংস হয়। তবে বিজ্ঞানীরা সম্ভবতঃ এর একটি সমাধান পেয়েছেন, অন্তত জরায়ুমুখের ক্যান্সারের জন্য। এই সমাধান হলো শুক্রাণু!

শুক্রাণু কেন? প্রতমত, এটি অনেক বেশী সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা। কেমো সাধারণত মুখে খাওয়ার মাধ্যমে কিংবা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে রোগীর দেহে প্রয়োগ করা হয়। এবং, যেহেতু এর প্রচন্ড পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, তাই মাত্রা সীমিত রাখতে হয়। কেমোর ওষুধগুলো লঘু করা হয় রোগীর নিজের শরীরের তরল ব্যবহার করে এবং শরীরে এগুলো এনজাইমের মাধ্যমে ভাঙ্গা হয়। অন্যদিকে শুক্রাণুগুলোকে সরাসরি জরায়ুমুখের দিকে চালনা করা যায় ন্যুনতম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এবং এর মাধ্যমে কড়া ডোজের ওষুধও প্রয়োগ করা যায়।

দ্বিতীয়ত, শুক্রাণু রোগীর দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থায় প্রদাহ তৈরি করে না। এটি শারীরবৃত্তীয় পরিবেশে তাই খুবই চমৎকার কাজ করবে কোন ধরনের ঝামেলা ছাড়াই।

তৃতীয়ত এবং চূড়ান্তভাবে, প্রাকৃতিক ভাবেই মানুষের শুক্রাণু নারীর জনন ব্যাবস্থায় কার্যকরভাবে সাঁতার কাটার জন্য অভিযোজিত।

এই মূহুর্তে চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নীরিক্ষাগুলো বেশ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। জার্মানীর লিবনিজ ইনস্টিটিউট ফর সলিড স্টেট এন্ড ম্যাটেরিয়ালস এর গবেষকগণ ডক্সোরুবিসিন হাইড্রোক্লোরাইড নামক কেমোথেরাপিতে ব্যবহার্য একটি ওষুধ শুক্রাণুতে প্রবিষ্ট করে এর ক্যান্সার প্রতিরোধী ভূমিকা পর্যবেক্ষণ করছেন। এই শুক্রাণুগুলোকে থালায় রাখা জরায়ুমুখে টিউমারের কাছে ছেড়ে দিয়ে এদের ক্যান্সার প্রতিরোধ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ফলাফল খুবই আশাব্যঞ্জক। মাত্র তিন দিনের মধ্যে ৮৭ শতাংশ ক্যান্সারযুক্ত কোষ ধ্বংস হয়েছে যা ACS Nano জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছে।

এই প্রাথমিক পরীক্ষার সফলতায় অনুপ্রাণীত হয়ে গবেষকগণ চারটি বাহু যুক্ত চৌম্বক কাঠামোর মাধ্যমে শুক্রাণুগুলোকে ক্যান্সারের দিকে ধাবিত করেন। অতঃপর, শুক্রাণুচালিত মাইক্রোমোটরগুলো (স্পার্মবটও বলা যায়) যখন টিউমার কোষে আঘাত করে তখন চৌম্বক কাঠামো খুলে যায় এবং শুক্রাণুটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শুক্রাণুটি তখন ক্যান্সারের দিকে সাঁতরে যায় এবং ডক্সোরুবিসিন হাইড্রোক্লোরাইড ছড়িয়ে দেয়।

এই প্রযুক্তি এখনো মানুষের শরীরের সরাসরি পরীক্ষা করে দেখা হয় নি। তবে বিজ্ঞানীরা ধারনা করছেন মোটামুটি নিকট ভবিষ্যতেই এটি জরায়ুমুখের ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যাবে এবং নারীদেহের জননব্যবস্থা সংক্রান্ত অন্যান্য চিকিৎসাতেও এটি পদ্ধতি কার্যকর ভুমিকা রাখবে। [iflscience.com অবলম্বনে]

Share.

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.