ডিএনএ- প্রতিলিপির নিয়ন্ত্রন বাগিয়ে নিয়ে ক্যান্সার ধ্বংসকরণ!

0

আমাদের সমগ্র জীবদ্দশায় শরীরের কোষগুলো বিভাজিত হতে হতে নতুন কোষ তৈরি করতে থাকে। এভাবেই দেহ চালু থাকে। এই প্রক্রিয়ায় শুধু অসুস্থতাই দূর হয় না বরং সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা বলছেন এর মাধ্যমে ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ তৈরি করা সম্ভব।

নতুন গবেষণায় ভর বর্ণালীবীক্ষণের মাধ্যমে কোষের অভ্যন্তরে ডিএনএ প্রতিলিপি তৈরির নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা প্রতিলিপির সময় নিউক্লিওটাইডের প্রবাহ যথাযথভাবে চিত্রায়িত করেন। নিউক্লিওটাইডই হলো ডিএনএ এবং আরএনএ-র গাঠনিক একক।

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনের এই গবেষকদলটি পর্যবেক্ষণ শেষে ঘোষনা দেন নিউক্লিওটাইডের প্রবাহের সংকেত পরিবর্তনের মাধ্যমে তাঁরা যথাযথভাবে ক্যান্সারকোষগুলো ধ্বংস কিংবা পুড়িয়ে ফেলতে পারবেন। ডিএনএ’র প্রতিলিপির নিয়ন্ত্রন হাতে নিয়ে ক্যান্সার কোষের ডিএনএ প্রতিলিপির গতি প্রবলভাবে বৃদ্ধি ঘটিয়ে এই ধ্বংসীকরণ ঘটানো হবে।

গবেষকবৃন্দের একজন, জিরি লুকাস বলেন, “আমরা দেখতে পেয়েছি, ডিএনএ’র প্রতিলিপি প্রক্রিয়া একটি পর্যায়বৃত্ত তাল অনুযায়ী সংঘটিত হয়। আমরা একটি কার্যপদ্ধতি খুঁজে পেয়েছি যাতে নিউক্লিওটাইডের যোগানদাতা উৎসের হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে ডিএনএ’র প্রতিলিপি ঘটার গতি নিয়ন্ত্রিত হয়। অর্থাৎ নিউক্লিওটাইডের প্রবল ঘাটতি হলে ডিএনএ প্রতিলিপি ব্যপকভাবে হ্রাস পায়।”

অন্যভাবে বললে, যখন রাইবোনিউক্লিওটাইড রিডাকটেজ নামক এনজাইম যথেষ্ট পরিমান নিউক্লিওটাইড উৎপন্ন করে না তখন ডিএনএ প্রতিলিপির স্থানে একটি বার্তা যায় যাতে করে প্রক্রিয়াটি ধীর হয়ে যায়।

কোষ বিভাজনের জন্য ডিএনএ প্রতিলিপি তৈরি অত্যাবশ্যকীয়। যদি নতুন উৎপন্ন কোষে মাতৃকোষের অনুরূপ ডিএনএ তৈরি না হয়, তাহলে শরীরের নানাবিধ জটিলতা দেখা দিতে পারে। PRDX2 নামের একটি প্রোটিন গবেষকগণ সনাক্ত করেন যার মাধ্যমে প্রতিলিপি স্থানে নিউক্লিওটাইডের বার্তাটি পৌঁছায়। যদি নিউক্লিওটাইড হ্রাস পায় তাহলে প্রোটিনের বার্তা অনুযায়ী প্রতিলিপি হওয়ার গতি হ্রাস পেয়ে কোষ বিভাজন ধীর হয়। অতপর, যথেষ্ট নিউক্লিওটাইড তৈরি হলে আবারও গতি বৃদ্ধি পায়। ফলে কোষে ডিএনএ’র চেইনের ঘটতি এড়ানো যায়।

তাহলে, এই বিষয়গুলো ক্যান্সার ঠেকানোর জন্য কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে? গবেষকদলের আরেকজন গবেষক কুমার সৌম্যজিত বলেন, “আমরা দেখেছি ক্যান্সার কোষের ডিএনএ খুব ধীরে প্রতিলিপি হয় কারণ এরা অস্বাভাবিক জিনোম দিয়ে গঠিত এবং ডিএনএ-কে প্রতিলিপি হতে হলে অনেক ধরনের বাধা অতিক্রম করতে হয়। যদি আমরা লব্ধ জ্ঞান দিয়ে তাদের ধীর প্রতিলিপি ক্ষমতা সরিয়ে দিই তাহলে এই কোষগুলো মরে যায়। কারণ তারা দ্রুত প্রতিলিপি তৈরির সাথে মানিয়ে নিতে পারে না এবং ডিএনএতে নানা জায়গায় কুঁজের মত তৈরি হয়।”

ডিএনএ-র প্রতিলিপির তথ্য কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যদিও এখনো সুদূর পরাহত, তবে প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যগুলো ভবিষ্যতে এসংক্রান্ত অগ্রগতির জন্য খুবই কার্যকর হবে। [sciencealert অবলম্বনে]

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক

Share.

মন্তব্য করুন