শৈশবকালীন অভিজ্ঞতা স্থায়ীভাবে ডিএনএ বদলে দিতে পারে

0

শৈশবকালীন অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গী একজন মানুষের পরবর্তী জীবনের আদল তৈরি করে দেয়। তবে এটি কেবল আচার-আচরণের বা ব্যক্তিত্ব গঠনের পর্যায়েই নয়। গবেষকগণ দেখেছেন জীবনের প্রাথমিক অভিজ্ঞতাগুলো মানুষের জিনের উপরও প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

গবেষকগণ এখন যথাযথভাবে অনুমান করে বলে দিতে পারেন শরীরের প্রদাহের জন্য দায়ী কোনো জিন শৈশবকালীন অভিজ্ঞতার কারণে সক্রিয় হয়েছে কিনা, যা পরবর্তী জীবনে শরীরে রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দেহে প্রদাহ সৃষ্টির জন্য দায়ী শতাধিক জিন নিয়ে এদের এপিজেনেটিক পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন।

তাঁরা কিছু আলামত হতে সন্দেহ পোষন করেছেন শৈশবকালীন পরিবেশ এবং প্রদাহজনিত ভিন্নতা ডিএনএ-র মধ্যস্থিত জিনপর্যায়ে পরিবর্তন ঘটায়। যদিও গর্ভধারণের সময়েই আমাদের দেহের ডিএনএর গঠন বা বিন্যাস স্থির হয়ে যায় তবুও এককভাবে কিছু কিছু জিন জীবনকালে নানাধরনের কর্মকান্ডের দ্বারা পরিবর্তিত হয়। এধরনের পরিবর্তনকে এপিজেনেটিক পরিবর্তন বলা হয়।

এই এপিজেনেটিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকরণ হলো মিথাইলেশন। এর ফলে ডিএনএতে কোনো একটি জিনের বিশেষ স্থানে একটি মিথাইল গ্রুপ যুক্ত হয়ে ওই জিনের কর্মকান্ড পরিবর্তিত হয়ে যায়। মিথাইলেশন এবং অন্যান্য জিন পরিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় কীভাবে আমাদের দেহে জিনগত বৈশিষ্ট্য সমূহের প্রকাশ ঘটবে।

এক সময় আমাদের ধারনা ছিলো আমাদের দেহের সবকিছুই জিনগত ফলাফল, অর্থাৎ পিতামাতার বৈশিষ্ট্যগুলোই দেহে প্রকাশ পায় কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে পরিবেশের সূক্ষ পরিবর্তনের মাধ্যমেও কিছু জিনের মধ্যে পরিবর্তন ঘটে যায় যার ফলে ওই জিনের প্রকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। আবার পরিবেশের প্রভাবে কিছু সুপ্ত জিনের প্রকাশও ঘটে থাকতে পারি দেহে যেগুলো অন্যথায় শরীরে কোনো বৈশিষ্ট্যের উপর প্রভাব বিস্তার করত না।

তবে এখনো আমাদের শরীরে কি কি জিনের এপিজেনেটিক পরিবর্তন ঘটে তার বিস্তারিত জানা যায় নি। আমরা কীভাবে ঘুমাই কিংবা আমরা কতটা সম্পদশালী শরীরের জিনের উপর এসবের প্রভাব জানতে হলে আরো প্রচুর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। [ScienceAlert অবলম্বনে]

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক

Share.

মন্তব্য করুন