আলঝেইমার: শত বছর পরেও যে রোগের চিকিৎসা অজানা

0

ডিমেনশিয়া এবং আলঝেইমার

মস্তিষ্কে কোনো অসুখ অথবা আঘাতের ফলে স্মৃতি সংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী কোনো ব্যাধি হলে তাকে ডিমেনশিয়া বলা হয়। এতে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের পক্ষে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় মানসিক দক্ষতার পরিচয় দিতে সমস্যা হয়। ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ রূপ হল আলঝেইমার।

ডিমেনশিয়া আর আলঝেইমার কি একই অবস্থাকে নির্দেশ করে? না, এদের মধ্যে পার্থক্য আছে। আলঝেইমার একটি নিউরো ডিজেনারেটিভ সমস্যা। একে তুলনা করা যায় নিঃশ্বাসের দুর্বলতা আর অ্যাজমার সাথে। নিঃশ্বাসের দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট নির্দিষ্ট কোনো রোগ নয়। এর অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। অ্যাজমা হচ্ছে সেসব কারণগুলোর মাঝে অন্যতম। একইভাবে ডিমেনশিয়াও নির্দিষ্ট কোনো রোগ নয়। এটি অনেক উপসর্গের মিলিত রূপ এবং এর অনেক কারণ থাকতে পারে যার মাঝে একটি হচ্ছে আলঝেইমার।

ব্যাপারটিকে আরো সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। ধরা যাক এক ব্যক্তি চিকিৎসকের কাছে গেলেন। তার সমস্যা শ্বাসকষ্ট। এর কারণ শনাক্ত করার জন্য চিকিৎসক রোগীর হৃৎস্পন্দন পরীক্ষা করবেন এবং বুঝতে চেষ্টা করবেন সমস্যাটা কি নিউমোনিয়া নাকি অ্যাজমা? এরপর পরীক্ষা করতে পারেন সমস্যার কারণ হার্ট ফেল অথবা দ্রুত হৃদস্পন্দন কিনা? সবকিছু পরীক্ষা করে বুঝতে পারলেন সমস্যাটি হচ্ছে রোগীর বিশেষ কোনো খাদ্যদ্রব্যের প্রতি অ্যালার্জি থেকে। তেমনই ডিমেনশিয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে আলঝেইমার। কিন্তু এটিই একমাত্র কারণ নয় যার জন্য ডিমেনশিয়া হয়। মস্তিষ্কে রক্ত সংবহনতন্ত্রের সমস্যা, পারকিনসন, লুয়ি বডি, ভিটামিনের অভাব, থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা অথবা তীব্র বিষণ্ণতাও হতে পারে ডিমেনশিয়ার কারণ।

আলঝেইমারের লক্ষণ

  • স্মৃতিশক্তি হ্রাস
  • নতুন কিছু শিখার ক্ষেত্রে কম বোধগম্যতা
  • মনঃসংযোগের সমস্যা
  • সঠিক শব্দ চয়নে সমস্যা
  • কারণ বা বিচার করার ক্ষমতা লোপ পাওয়া
  • অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনা বা অভিজ্ঞতা মনে করতে না পারা
  • সামাজিক কার্যক্রমে উৎসাহ হারিয়ে ফেলা
  • অগোছালো হয়ে যাওয়া
  • হুটহাট মুডের পরিবর্তন
  • বিষণ্ণতা
  • উৎকণ্ঠা
  • অস্থির আচরণ
  • নিপীড়নের বিভ্রম
  • স্থান, পাত্র ও কালের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি

শুরুর দিকে আলঝেইমারের সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ হল নতুন করে আহরিত তথ্যগুলো স্মরণ করতে গিয়ে অসুবিধা হওয়া। এর কারণ হল আলঝেইমারের পরিবর্তনগুলো শুরু হয় মস্তিষ্কের যে অংশটি শিখনের কাজটি নিয়ন্ত্রণ করে। আলঝেইমারের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে এই উপসর্গগুলো আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। খুব কম ক্ষেত্রেই স্মৃতিশক্তি হ্রাস অথবা অন্যান্য সম্ভাব্য লক্ষণসমূহের ব্যাক্তিরা তাদের সমস্যাটা শনাক্ত করতে পারে না। ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলো পরিবারের সদস্য অথবা বন্ধুদের ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।

মস্তিষ্কের উপর আলঝেইমারের প্রভাব

জার্মান সাইক্রিয়াটিস্ট অ্যালোয়িস আলঝেইমার সর্বপ্রথম ১৯০১ সালে কিছু লক্ষণ বর্ণনা করেন। তিনি একজন নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে কিছু অদ্ভুত সমস্যা খেয়াল করেছিলেন। এদের মাঝে ছিল ঘুমের সমস্যা, স্মৃতির সমস্যা, প্রচণ্ড মেজাজ পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান সন্দেহ। রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসক আলঝেইমার তার ময়নাতদন্ত করেন এবং তার একটি ধারণা পরীক্ষা করে দেখেন যে সম্ভবত রোগীর প্রকাশিত লক্ষণগুলোর কারণ ছিল তার মস্তিষ্কের অনিয়মিত গঠন। মাইক্রোস্কোপে তিনি মস্তিষ্কের টিস্যু নিয়ে পরীক্ষা করে কিছু দৃশ্যমান পার্থক্য দেখতে পান- কিছু মিসফোল্ডেড প্রোটিন রূপে। এই মিসফোল্ডেড প্রোটিনগুলোকে বলা হয় প্লাক এবং নিউরোফাইব্রিলারি ট্যাঙ্গেল।

প্লাক এবং ট্যাঙ্গেলগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট করে ফেলে। প্লাকগুলো বিকশিত হয় যখন স্নায়ু কোষগুলোকে ঘিরে থাকা মেদযুক্ত ঝিল্লীতে থাকা অন্য প্রোটিন একটি সুনির্দিষ্ট এনজাইম বা উৎসেচকের দ্বারা টুকরো হয়ে যায় এবং এর ফলাফল হিসেবে পাওয়া যায় বিটা অ্যামেলয়েড প্রোটিন যেগুলো আঠালো হয় ও এদের গুচ্ছ তৈরী করার প্রবণতা থাকে। এই গুচ্ছই প্রকৃতপক্ষে প্লাক তৈরী করে। প্লাকগুলোর কারণে সিগনালিং বাধাপ্রাত হয় এবং এর ফলে কোষসমূহের মাঝে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও প্লাকের কারণে দেহের ইমিউন সিস্টেমের (রোগের অনাক্রম্যতা) প্রক্রিয়াগুলোও প্রভাবিত হয় যার ফলে অকেজো নিউরনগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। আলঝেইমার রোগে নিউরোফাইব্রিলারি ট্যাঙ্গেল তৈরী হয় একটি প্রোটিন থেকে যার নাম টাউ। মস্তিষ্কের কোষগুলো টিউবের (নলাকার) মত একটি নেটওয়ার্ক রক্ষা করে যেটি অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে খাদ্যকণার জন্য মহাসড়কের মত ভূমিকা পালন করে।

সাধারণত টাউ প্রোটিন এটা সুনিশ্চিত করে যে এই টিউবগুলো একদম ঋজুভাবে অবস্থান করছে। এর ফলে অণুগুলো খুব সহজেই মুক্তভাবে চলাচল করতে পারে। কিন্তু আলঝেইমার রোগ হলে এই প্রোটিন মোচড়ানো অবস্থায় ট্যাঙ্গেল তৈরী করে যার কারণে টিউবগুলোর সংহতি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে পরিপোষক পদার্থসমূহ মস্তিষ্কে যাওয়ার পথে বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং পরিণতিতে কোষের মৃত্যু ঘটে। প্লাক এবং ট্যাঙ্গেলের ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয় মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস নামক অংশে যেটি স্মৃতি তৈরীর জন্য দায়ী। এজন্যই সাধারণত স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি (শর্ট টার্ম মেমোরি), আলঝেইমারের প্রথম লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পেয়ে থাকে। এরপর মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশও প্রোটিনগুলোর মাধ্যমে উত্তরোত্তর আক্রমণের শিকার হয়। এর ফলে বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন আসে এবং আলঝেইমারের বিভিন্ন পর্যায় প্রকাশিত হয়। মস্তিষ্কের অগ্রভাগে প্রোটিনগুলো যৌক্তিক চিন্তা করার সক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়। এরপর স্থানান্তরিত হয়ে তারা মস্তিষ্কের যে অংশটি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে সেখানে যায় এবং ফলাফল হিসেবে অনিয়মিত মেজাজ পরিবর্তন হওয়া শুরু হয়। মস্তিষ্কের একদম উপরের অংশে প্রোটিনগুলো প্যারানয়া (মস্তিষ্কের বিকৃতি) এবং হ্যালুসিনেশনের জন্ম দেয়। একবার যখন প্রোটিনগুলো মস্তিষ্কের একদম পশ্চাদ্ভাগে পৌঁছায় তখন মনের খুব গভীরতম স্মৃতিগুলোকে তারা মুছে দেয়। অবশেষে মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রসমূহ যেগুলো হৃদ কম্পন এবং শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলো পরাভূত হয়ে পরিণতিতে মৃত্যু ঘটে।

দৈনন্দিন জীবনে সাধারণভাবে আলঝেইমার এবং ডিমেনশিয়ার চিত্র

  • আলঝেইমার হচ্ছে ডিমেনশিয়ার সর্বজনীন রূপ। এর ফলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া এবং অন্যান্য চেতনাগত দক্ষতার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে যার ফলে নিত্যদিনের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে। ডিমেনশিয়ার ষাট থেকে আশি শতাংশই আলঝেইমারের দখলে।
  • আলঝেইমার বয়োবৃদ্ধির একটি স্বাভাবিক অংশ নয়। বয়স বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সর্বাধিক পরিচিত ঝুঁকির কারণ এবং আলঝেইমারে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের অধিকাংশের বয়সই পঁয়ষট্টি বছর অথবা তার চেয়েও বেশি। কিন্তু এটিও একটি অমূলক ধারণা যে আলঝেইমার একটি বার্ধ্যক্যজনিত রোগ। প্রায় দুই লক্ষ আমেরিকান আলঝেইমারে আক্রান্ত যাদের বয়স পঁয়ষট্টির কম। একে বলা হয়ে থাকে আর্লি-অনসেট আলঝেইমার।
  • সময়ের অতিবাহিত হওয়ার সাথে আলঝেইমার আরও অবনতির দিকে এগোয়। আলঝেইমার একটি অগ্রগতিমূলক রোগ যেখানে ডিমেনশিয়ার উপসর্গুলো কয়েক বছরে আরও খারাপের দিকে যায়। এটির প্রাথমিক পর্যায়ে স্মৃতিশক্তি হ্রাস মৃদু থাকে কিন্তু বিলম্বিত পর্যায়ে আক্রান্ত ব্যাক্তিরা তাদের কথোপকথন বহন করেনিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন এবং তারা তাদের পারিপার্শ্বিকের প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল হতে পারেন না। আমেরিকায় মৃত্যুর প্রধানতম কারণগুলোর মাঝে আলঝেইমার ষষ্ঠ অবস্থানে আছে। আশেপাশের মানুষগুলোর কাছে আলঝেইমারে আক্রান্ত ব্যাক্তির লক্ষণগুলো প্রকাশিত হওয়ার পর গড়পড়তা আট বছর তাদের বেঁচে থাকতে দেখা যায়। তবে বয়স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ের উপর নির্ভর করে এই সময়টা চার বছর থেকে বিশ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
  • বর্তমানে আলঝেইমারের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিকার নেই তবে উপসর্গুলোর জন্য চিকিৎসা নেওয়ার ব্যবস্থা বিদ্যমান এবং এই বিষয়ে গবেষণা চলছে। যদিও আলঝেইমারের বর্তমান চিকিৎসাটুকু এর অগ্রগতিকে বন্ধ করতে পারে না তবে সাময়িকভাবে ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলোকে আরও খারাপ হওয়া থেকে রক্ষা করা যায় এবং অসুস্থ ব্যাক্তি ও তার পরিচর্যাকারীর জীবনের মানোন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। এই রোগের আরও উন্নত চিকিৎসা, এর প্রারম্ভিকতা এবং এর প্রগাঢ় হওয়া বন্ধ করার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টা চলছে।

পরিত্রাণের উপায় তবে কী?

ব্যাপক পরিসরের ধ্বংসাত্মক এই আলঝেইমার রোগটি তার প্রকৃতির কারণেই অসংখ্য গবেষকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তারা চেষ্টা করেছেন এর একটি নিরাময় বের করতে। বিজ্ঞানীদের মনযোগ এখন রোগটির অগ্রগতি ধীর করে দেওয়ার প্রতি। একটি সাময়িক চিকিৎসা অ্যাসিটাইলকোলিনের ভাঙন কমিয়ে দিতে পারে। অ্যাসিটাইলকোলিন হচ্ছে মস্তিষ্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক বার্তাবহ যেটি আলঝেইমার রোগীদের ক্ষেত্রে পরিমাণে কমে যায়। কারণ এই অ্যাসিটাইলকোলিন তৈরীর গুরুদায়িত্ব যেসব নিউরনের কাছে অর্পিত তাদেরই একের পর এক মৃত্যু ঘটে।অন্য আরেকটি সম্ভাব্য সমাধান হচ্ছে প্রতিষেধক। প্রতিষেধকটি দেহের রোগ প্রতিরোধতন্ত্রকে প্রশিক্ষণ দেয় যাতে সেগুলো বিটা অ্যামেলয়েড প্লাকগুলোকে আক্রমণের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত জট তৈরী প্রতিহত হয়। কিন্তু এখন অবধি একটি যথাযথ চিকিৎসার অপেক্ষায় আছে সবাই। আলঝেইমার রোগটি আবিষ্কৃত হয়েছিল একশ বছরেরও আগে এবং এখন পর্যন্ত এটি ভালভাবে বোধগম্য নয়।

আলঝেইমারের যে পর্যায়টি ঔপসর্গিক নয় সেটিতে মস্তিষ্কে সাধিত পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে গবেষকদের কাছে এখন প্রচুর তথ্য আছে। প্লাক তৈরী হওয়ার পথ অনুসরণ করে মস্তিষ্কের বিপাকীয় কার্যাদিও পরিবর্তিত হয়। এগুলো অনুসৃত হয় টাউ প্রোটিনের ফলে সৃষ্ট প্রদাহে পরিবর্তনের দ্বারা। এই অন্তর্দৃষ্টিগুলো মূলত পর্যবেক্ষণমূলক অধ্যয়ন থেকে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ ডোমিন্যান্টলি ইনহেরিটেড আলঝেইমার নেটওয়ার্ক (ডিআইএএন) চার দশকেরও বেশি সময় ধরে রোগটির বিভিন্ন পর্যায়ের উপর নজর রেখেছে। আলঝেইমার ঘটানোর জন্য দায়ী জীনগত পরিব্যক্তির আধিকারী শত শত মানুষের উপর, একদম লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগ মুহূর্ত থেকে শুরু করে পরিণত পর্যায়ের ডিমেনশিয়া হওয়া পর্যন্ত নজর রাখা হয়েছে। এই ধরনের জ্ঞান, বিজ্ঞানীদেরকে বায়োমার্কারের সংকলন সরবরাহ করতে পারছে যার মাধ্যমে প্রদত্ত চিকিৎসার তিন থেকে পাঁচ বছর পর কার্যক্ষমতা সম্পর্কে জানা যাবে। এই সময়টুকু তাদের জন্য খুবই প্রীতিকর যারা কোনো ট্রায়ালে অর্থায়ন করতে চায়; যেমন কোনো ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানি। উন্নত রোগ নির্ণয় সরঞ্জাম, ব্রেইন ইমেজিং পদ্ধতি এবং সেরেব্রোস্পাইনাল ফ্লুয়িডের বিশ্লেষণ এখন রোগের অগ্রগতি জানার জন্য উপলব্ধ।

একটুখানি ব্যতিক্রম

একটি শক্তিশালী প্রমাণ আছে এই বিষয়ে যে একটি বিরল মিউটেশন (পরিব্যক্তি) আছে যা বেশ কিছু জনবসতিকে তাদের মস্তিষ্কে প্লাকের বৃদ্ধি ঘটাতে বাধা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, আইসল্যান্ডের সাধারণ জনগণের মাঝে এই মিউটেশনের বাহকদের (যেটি বিটা অ্যামেলয়েডের উৎপাদন হ্রাস করে) ডিমেনশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা এক পঞ্চমাংশ। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে এই জীনগত প্রভাবটি অনুসৃত হচ্ছে বিভিন্ন ওষুধের দ্বারা। ক্লিনিকাল ট্রায়ালের বিভিন্ন পর্যায়ে বিটা অ্যামেলয়েড উৎপাদনের সাথে জড়িত এনজাইমসমূহকে লক্ষ্য করে প্রায় এক ডজনের মত থেরাপী, প্রোটিনের উৎপাদনকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পেরেছে। অধিকন্তু, যেসব ওষুধ বিটা সিক্রেটেজ এবং গামা সিক্রেটেজের মত এনজাইমকে লক্ষ্য করে কাজ করে সেগুলো মৌখিকভাবে গ্রহণ করা যায় (অন্যান্য ওষুধসমূহ যেগুলো বিটা অ্যামেলয়েডকে লক্ষ্য করে কাজ করে সেগুলো ইনজেকশনের মাধ্যমে নিতে হয়) এবং এই শ্রেণীর যৌগের নতুন প্রজন্মগুলোর কিছু গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্রঃ

https://youtu.be/xUSpHmvW14c?list=PLbKSbFnKYVY3_PviSE5ANWtMPXAXpMj5-

https://youtu.be/yJXTXN4xrI8

http://www.alz.org/alzheimers_disease_what_is_alzheimers.asp

http://www.alz.org/what-is-dementia.asp

http://www.nature.com/news/stop-alzheimer-s-before-it-starts-1.22274

http://leandrafono.blogspot.com/2011/06/fonoaudiologia-na-doenca-de-alzheimer.html

http://agscientific.com/blog/2016/04/the-role-of-e-64d-role-in-amyloid-plaque-prevention/

-রাশিদ তাকী সাকীব
শিক্ষার্থী, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিক্যুলার বায়োলজি, শাবিপ্রবি

Share.

মন্তব্য করুন