‘কৃত্রিম তারা’ নিয়ে মহাকাশে রাশিয়ান রকেট

1
143

রাশিয়ার তৈরি সয়ুজ রকেট সম্প্রতি সফলভাবে একটি বিতর্কিত কৃত্রিম উপগ্রহ বহন করে নিয়ে গেছে কক্ষপথে, যেটি কিছুদিনের মধ্যে পৃথিবীর আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারাগুলোর একটি হতে যাচ্ছে।

কৃত্রিম এই উপগ্রহের নাম মায়াক; তৈরি করেছে মস্কো স্টেট মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি এবং এর নির্মান ব্যয় ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। এই উপগ্রহটি নির্মানের খবর প্রথম জানা যায় গত বছর এবং এই বছরের ১৪ জুলাই এটিকে কাজাখস্তানের বাইকোনুর কসমোড্রোম থেকে উৎক্ষেপন করা হয়।

মায়াক একটি ‘কিউবস্যাট’ জাতীয় স্যাটেলাইট। এটি আকারে অত্যন্ত ক্ষুদ্র, একটি পাউরুটির সমান। তবে এই যখন ভুপৃষ্ঠ থেকে ৬০০ কিলোমিটার উপরে আকাশে স্থাপন করা হবে তখন এটি খুলে গিয়ে একটি বিশালাকার পিরামিড আকৃতির পালে পরিণত হবে। এই পালটি মাইলারের তৈরি এবং এর কাজ সূর্য রশ্মি প্রতিফলিত করা। এর বিস্তৃতি ১৬ বর্গমিটার এবং মানুষের চুলের যে এই পর্দা ২০ গুন পাতলা।

এই উপগ্রহটি কিছুদিনের মধ্যেই মেলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মেলে যাওয়ার পর এটিকে ইউরোপ ও এশিয়ার সীমান্ত ককেশাস অঞ্চল থেকে অনুসরণ করা হবে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী কোম্পানী উল্লেখ করে এই অভিযানের লক্ষ্য, মানুষকে মহাশূন্যের দিকে তাকাতে উৎসাহিত করা এবং সেই সাথে বিভিন্ন পরীক্ষামূলক কর্মকান্ড চালানো।

কৃত্রিম উপগ্রহটি এর কক্ষপথ এক মাস অবস্থান করবে, যদিও এতটা উচ্চতায় পরিকল্পনা ঠিক ঠাক কাজ না করলে এটি কয়েক মাস বেশী সময় থেকে যেতে পারে। কোম্পানীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সূর্য এবং চাঁদের পর এটি আকাশের তৃতীয় উজ্জ্বলতম বস্তু হিসেবে আবির্ভূত হবে।

যদি মায়াক সফলতার সাথে কক্ষপথে নিবিষ্ট হয় তাহলে কিছু সমস্যা তৈরি করতে পাররে। এর আলোয় সাধারণ জ্যোতির্বিদদের স্বাভাবিক আকাশ পর্যবেক্ষণ বিঘ্নিত হতে পারে। এবং অন্যান্য সুক্ষ গবেষণায় এটি বাধার সৃষ্টি করতে পারে। জ্যোতির্বিদদের জন্য আকাশ পর্যবেক্ষণে বড় বাধা আলোক দূষণ। শহর অঞ্চলের নানাবিধ আলোক উৎস আকাশ পর্যবেক্ষণে বিঘ্ন ঘটায় বলে অধিকাংশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলো লোকালয় থেকে দূরে, নির্জন ও পাহাড়ী এলাকায় স্থাপন করা হয়।

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক

1 মন্তব্য

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.