বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের রহস্য উন্মোচিত

0

শুরুতেই একটা কথা বলে দেওয়া যাক। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের ধারনাটি একটি গাঁজাখুরি ব্যাপার। জাহাজ এবং উড়োজাহাজ বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নামে পরিচিত পুয়ের্তো রিকো, ফ্লোরিডা এবং বারমুডার মধ্যবর্তী স্থানে হারিয়ে যায় না বা যে পরিমানে হারিয়ে যায় তা পৃথিবীর অন্য যে কোনো স্থানের সাথে তুলনীয়। পরিসংখ্যানের হিসেবে এই স্থানের আলাদা গুরুত্ব নেই। যদিও প্রাকৃতিক অনেক পদ্ধতিতেই নৌকা বা জাহাজ সমুদ্রে ডুবে যেতে পারে তবে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে তেমন কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই বললেই চলে।

এতদসত্ত্বেও এই ত্রিজাকার অঞ্চলটি আবারো খবরের কাগজে ঠাঁই করে নিয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশতঃ এবার এই স্থানটিকে রহস্যাবৃত করা হয় নি বরং বলা হয়েছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের যেসব অধিভৌতিক ঘটনাবলী শোনা যায় সেসবের আদৌ কোনো অস্তিত্ব নেই।

আস্ট্রেলিয়ার সুবিদিত বিজ্ঞান উপস্থাপক কার্ল ক্রুসজেলনিকি এক সাক্ষাৎকারে দেখিয়েছেন শতকরা হিসেবে এই অঞ্চলে ডুবে যাওয়া জাহাজ ও বিমানের হার বিশ্বের অন্য যেকোনো স্থানের সমান। এই অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত পরিবহন রুট। দুটি বিশ্বযুদ্ধে এই অঞ্চল ছিলো অত্যাধিক জমজমাট। এসব কারণে, খারাপ আবহাওয়া এবং অপেক্ষাকৃত দুর্বল অবস্থার জাহাজ ও বিমান এই অঞ্চলে ডুবে যায়।

বেশ কিছু বিমানচালক যারা এখানে হারিয়েছেন তাঁরা আসলে মারাত্মক কিছু ভুল করেছেন। যেমন: রুট হতে সরে যাওয়া, ওড়ার আগে প্রচুর পানি পান করা এবং এমনকি যথাযথ সরঞ্চাম ছাড়াই উড়ে যাওয়া। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মৃতদেহ এবং ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায় নি কিন্তু এটি মেটেই বিষ্ময়কর কিছু নয় যদি এই জলাশয়ের বিপুলায়তন এবং সুগভীরতা বিবেচনা করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রসরতা স্বত্ত্বে্ও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা যায় না অধিকাংশ ক্ষেত্রেই।

সাম্প্রতিক সময়ে পানিতে মিথেন গ্যাস মিশ্রিত থাকায় জাহাজ ডুবে যায়, এই মর্মে একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিলো। তবে এই ব্যাখ্যাতেও সমস্যা আছে। যদিও মিথেন মিশ্রনের ফলে পানির ঘনত্ব কমে গিয়ে জাহাজ ডুবে গিয়ে থাকতে পারে তবে বাস্তবতা হলো এই অঞ্চলে পানির গভীরে মিথেনের কোনো উৎস নেই। [iflscience.com অবলম্বনে]

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক

Share.

মন্তব্য করুন