প্রথম বারের মতো একটি ব্ল্যাক হোলের ছবি দেখতে যাচ্ছি আমরা!

0

সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে এ বছরের মধ্যেই আমরা ব্ল্যাক হোলের ছবি দেখতে যাচ্ছি। গত সপ্তাহে বিজ্ঞানীরা ২৬,০০০ আলোকবর্ষ দূরে Sagittarius A* (Sgr A*) নামের একটি বিশাল ভরের (সুপার ম্যাসিভ) ব্ল্যাক হোলের ছবি সংগ্রহের লক্ষ্যে আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্রের দিকে তাক করা বিশ্বব্যাপী অ্যারো টেলিস্কোপের সুইচ চালু করে দিয়েছেন। প্রকল্পটির নাম দেয়া হয়েছে Event Horizon Telescope (EHT) যা এপ্রিলের ৪ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত চলবে। আশা করা হচ্ছে এবছরের শেষের দিকে অথবা ২০১৮ এর শুরুতেই ফলাফল পাওয়া যাবে।
ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গোপাল নারায়ণ জানান, “যেহেতু ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে বিভিন্ন তত্ত্ব প্রচলিত রয়েছে সেহেতু, এই পর্যবেক্ষন ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে যেসকল তত্ত্ব রয়েছে তা বাছাই করতে সাহায্য করবে। এই প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত আমাদেরকে ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে সেসব বিষয় বুঝতে সাহায্য করবে যা এর আগে বুঝা সম্ভব হয়নি।”

যদিও আমরা জানি ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব রয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি ও দেখতে পারিনি। তবে নক্ষত্র এবং ছায়া পথের উপর প্রভাব দেখে এদের অস্তিত্ব অনুমান করতে পেরেছি। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের ছায়াপথের কেন্দ্রে নক্ষত্রগুলি একটি অদৃশ্য বস্তুকে কেন্দ্র করে আবর্তীত হচ্ছে। এছাড়াও তীব্র পরিমাণের এক্স রে এবং বৃহৎ বস্তুর সংকীর্ণমুখী উৎস দেখে বিশ্বাস হয় যে এগুলো ব্ল্যাক হোল থেকে সৃষ্টি হয়েছে।

Sgr A* -এর মতো কিছু ব্ল্যাক হোল আমাদের সূর্যের চেয়েও লক্ষ লক্ষ গুণ বড় হলেও এদের ব্যাসার্ধ খুব কমই বড় হয়ে থাকে। নারায়ণের ভাষ্য অনুযায়ী এজন্যই এদের দেখতে পাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার, ঠিক যেমন চাঁদে একটি ফুটবল দেখতে পাওয়া কঠিন।

এমন অবস্থায় EHT এর আগমন। যেখানে Sgr A* কে নজরদারি করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় স্থাপিত ১০টি টেলিস্কোপের মাধ্যমে ১৪ টি প্রতিষ্ঠান কাজ করবে। এই সব অ্যারো থেকে আসা সকল উপাত্তএকসাথে মিলিয়ে একসেট উপাত্তে পরিণত করা হবে যা very long baseline interferometry (VLBI) নামে পরিচিত।

এছাড়াও একটি ব্ল্যাক হোল কীভাবে পদার্থ টেনে নেয় এবং বের করে তা পরিবৃদ্ধি অধ্যয়ন করবে, ৫৩.৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের আরেকটি ছায়াপথের সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল M87 কেও পর্যবেক্ষণ করবে EHT।

এই পর্যক্ষণকালে এতো উপাত্ত তৈরী হবে যে এদেরকে দুটি কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হবে। কেন্দ্র দুটির একটি জার্মানীর ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইন্সটিটিউট এবং অন্যটি ম্যাসাচুসেটস এর হেস্টেক অবজারভেটরিতে। আর এতো বৃহৎ আকারের তথ্য জমা হওয়ার দরুণ এসব প্রক্রিয়াজাত করতে কিছু সময় লেগে যাবে। ২০১৭ এর সমস্ত গ্রীষ্মকাল জুড়েই এদের প্রক্রিয়াজাত করা হবে। এরপরই EHT দল এসব উপাত্ত বিশ্লেষণ করবে। EHT এর পরিচালক জানান, “আমাদের বিশ্বাস এসব উপাত্ত থেকে দারুণ কিছু ফলাফল পাবো। তবে এটুকু বলতে পারি যে টেলিস্কোপ থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত থেকে অবশ্যই আমরা Sgr A* এবং M87 এর পরিপূর্ণ ছবি পাবো। ২০১৮ এর শুরুতেই এসব পর্যবেক্ষণের ফলাফল হাতে পাবো।” [Iflscience- অবলম্বনে]

-শফিকুল ইসলাম

Share.

মন্তব্য করুন