টাইপ-২ ডায়াবেটিস সারাতে সক্ষম হবে নতুন ওষুধ

0

টাইপ-২ ডায়াবেটিস যা একজন ব্যক্তির জিন দ্বার প্রভাবিত হয়ে থাকলেও এটি অতি নিম্নমানের খাদ্য গ্রহণ এবং দীর্ঘ সময় বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সের মাত্রাতিরিক্ত ওজনের জন্যই হয়ে থাকে। আর এ সময় অগ্ন্যাশয় যথেষ্ট পরিমাণ ইনসুলিন উৎপাদন করতে অক্ষম হয়ে থাকে অথবা শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের সাথে সঠিকভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনা। যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়তে থাকে। এই অবস্থা ইনসুলিন প্রতিরোধ হিসেবে পরিচিত এবং বর্তমানে এর কোন চিকিৎসা নেই। তবে ক্যালিফোর্ণিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল নতুন এক ওষুধের উন্নতি সাধন করেছে যা এই অবস্থার রাতারাতি পরিবর্তন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউ সায়েন্টিস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইনসুলিন প্রতিরোধকের সাথে এই ওষুধের এক ডোজ প্রতিদিন একটি ইঁদুরের উপর প্রয়োগ করার পর তা একে ক্ষতিকর অবস্থা থেকে রক্ষা করতে পেরেছে। আর এই প্রথমবার কোন চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসকে কার্যকরভাবে ‘নিরাময়’ করা গেছে।

গবেষক দলটি একটি ইঙ্গিত পেয়েছেন যে, কোন এক বিশেষ এনজাইমের সাথে ইনসুলিন প্রতিরোধের সম্পর্ক রয়েছে যা এই অবস্থার জন্য দায়ী। এই cacophonously-এনজাইমটি স্বল্প ওজনের আণবিক টাইরোসিন ফসফেট বা (low molecular weight protein tyrosine phosphate-LMPTP) নামে পরিচিত এবং একে লিভার বা যকৃতে পাওয়া যায়। এছাড়াও একে ইনসুলিনের উপস্থিতিতে কোষের সাথে প্রতিরোধক অবস্থায় যোগাযোগ করতে দেখা যায়।

LMPTP-কে রোধ করার জন্য এই নতুন ওষুধের মাধ্যমে বিশেষভাবে অগ্রগতি সাধন করা হয়েছে এবং দলটির ধারণা এটি কোষকে পুনরায় ইনসুলিনের সাথে যোগাযোগ করাতে সক্ষম হবে ঠিক সাধারণভাবে যেমন হওয়ার কথা ছিলো।

গবেষক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমাদের সংগ্রহীত তথ্য এটাই প্রমাণ করে যে, LMPTP ইনসুলিন প্রতিরোধকের অন্যতম প্রবর্তক এবং এই  LMPTP –র বাধা প্রদানকারীই টাইপ-২ ডায়াবেটিসে চিকিৎসার জন্য উপকারী হবে।”

এই গবেষণার প্রয়োজনে গবেষণাগারে পালিত কিছু ইঁদুরের মুখে এই ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছিলো। এই ইঁদুরগুলোকে অত্যন্ত উচ্চ চর্বিযুক্ত খাদ্য খাওয়ানো হয়েছিলো ফলে এদের স্থূলতা বৃদ্ধি পায় এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস তৈরী হয়।

ওষুধ প্রয়োগের ফলে ইঁদুরগুলোর শরীরে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তাদের কোষগুলো পুনরায় ইনসুলিনের উপস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া শুরু করে এবং পূর্বের মাসের মতো তাদের রক্তের শর্করার মাত্রা কমে আসে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে প্রায়োগিক চিকিৎসা ক্ষেত্রে মানুষের উপর কি প্রভাব ফেলবে সেটা পরীক্ষা করা হবে।

এটা ইঁদুরের উপর কার্যকরী হয়েছে কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে কি হবে?

বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস, বিশেষ করে টাইপ-২ মানুষের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে সপ্তম প্রধান কারণ হবে। যেহেতু মানুষের স্থূলতার হার বেড়েই চলেছে এবং অদ্ভূতভাবে জলবায়ু উষ্ণ হতে চলেছে তাতে এর সংখ্যা আরও বিপজ্জনক গতিতে বৃদ্ধি পাবে। গত প্রায় চার দশকে এই অবস্থায় মানুষের ভোগান্তির পরিমাণ ৩৯০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে এটি দমন করার উপায় ছাড়া প্রতিকার করার কোন পথ নেই। সম্ভবত এই ওষুধটিই বর্তমান অবস্থার চূড়ান্ত পরিবর্তন আনতে পারবে। [ইফ সাইন্স- অবলম্বনে]

-শফিকুল ইসলাম

Share.

মন্তব্য করুন