মস্তিষ্কে ওষুধ সরবরাহে নতুন পদ্ধতির সূচনা করবে ন্যানো প্রযুক্তি

0
155

চিকিৎসা প্রদানকারীদের নিকট একটি নিরাপদ ও কার্যকর উপায়ে সরাসরি মস্তিষ্কে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহ করা একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। এর মূল কারণঃ রক্ত-মস্তিষ্কের বাধা, যা নির্দিষ্ট কোন ওষুধ সরবরাহ করা থেকে মস্তিষ্ককে কোষ থেকে রক্ষা করে। ইনজেকশন বা পিলের মতো পদ্ধতিগুলি তাৎক্ষনিক উপায় হিসেবে ডাক্তারের পছন্দ নয় এবং মস্তিষ্কে দ্রুত ওষুধ পৌছে দেয়া নিশ্চিত করতে তাদের প্রায়ই আক্রমণাত্বক, ঝুঁকিপূর্ণ কৌশলের প্রয়োজন হয়।

সেন্ট লুইসের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীদের একটি দল নতুন এক ন্যানোপার্টিক্যাল উৎপাদন-পরিবহন পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছেন যার মাধ্যমে মস্তিষ্কে ওষুধ সরবরাহের প্রসার ঘটতে পারে। এটি নিঃশ্বাস টেনে নেয়ার মতো সহজ হবে।

স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড এপ্লায়েড সায়েন্সের গবেষক রমেশ রালিয়া বলেন, “এটি একটি ন্যানোপ্যাথিক অনুনাসিক স্প্রে হবে এবং এই সরবরহ পদ্ধতি ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে মস্তিষ্কে ঔষধ পৌছাতে সক্ষম হবে”।

তিনি আরও বলেন, “রক্ত-মস্তিষ্ক বাধা মস্তিষ্ককে রক্তে থাকা অচেনা বস্তু থেকে রক্ষা করে যা মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধন করতে পারে। কিন্তু যখন আমাদের সেখানে কিছু সরবরাহ করতে হবে, তখন সেই বাধাটি অতিক্রম করা কঠিন এবং আক্রমণাত্মক। আমাদের অ-আক্রমণকারী কৌশল ন্যানোপার্টিক্যালের মাধ্যমে ওষুধ সরবরাহ করতে পারে, তাই কম ঝুঁকি এবং অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিক্রিয়া করতে পারবে।”

এই অসাধারণ পদ্ধতিটি মূলত অ্যারোসল বিজ্ঞান ও প্রকৌশল নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে যা ন্যানোপার্টিক্যালস উৎপাদককে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পরতে সাহায্য করে এবং এটি বিকিরণের মাধ্যমে অনুনাসিক গহ্বরের উপরের অঞ্চলে জমা হতে পারে। ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি, এনভাইরনমেন্ট এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর চেয়ারম্যান ও লুসি এন্ড স্ট্যানলি লোপটারের অধ্যাপক প্রিতম বিশ্বাসের সাথে রালিয়া নিয়ন্ত্রিত আকার, আকৃতি এবং পৃষ্ঠ চার্জের সাথে সোনা মিশ্রিত ন্যানোপার্টিক্যালের সমন্বয়ে একটি এরিসোল তৈরি করেন। ন্যানোপার্টিক্যালটি ফ্লোরোসেন্ট মার্কার দিয়ে আটকানো হয়েছে, যা গবেষকদেরকে এসবের গতিবিধি অনুসরণ করার সুযোগ করে দেয়।

পরবর্তীতে, রালিয়া এবং জৈবচিকিত্সা প্রকৌশল গবেষক সহকারী দেবেজিত সাহা লোকাস্টাস্ট নামক একপ্রকার ঘাষফড়িঙের শুঙ্গকে অ্যারোসোলের সামনে উন্মুক্ত করে দেন এবং দেখেন যে ন্যানোপার্টিক্যালগুলি শুঙের সাথে ঘ্রাণজনিত স্নায়ুর মাধ্যমে অতিক্রম করছে। অতি ক্ষুদ্র আকৃতির কারণে, ন্যানোপার্টিক্যালগুলি মস্তিষ্ক-রক্ত বাধা অতিক্রম করে মস্তিষ্কে পৌঁছায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে।

দলটি locusts বা পঙ্গপালের উপর ধারণাটি পরীক্ষা করে দেখেছেন কারণ পোকামাকড় এবং মানুষ উভয়ের মধ্যে রক্ত-মস্তিষ্কের বাধা শারীরিকভাবে মিল রয়েছে এবং গবেষকরা মস্তিষ্কে প্রবেশ করার সর্বোত্তম উপায় হিসাবে স্নায়ুরক্ষেত্রগুলিতে অনুনাসিক অঞ্চলগুলির মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথাই বিবেচনা করছেন।

বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর সহযোগী অধ্যাপক বারাণি রমন বলেন, “মস্তিষ্কে সবচেয়ে স্বল্প এবং সম্ভবত সবচেয়ে সহজ পথ হচ্ছে আপনার নাকের মাধ্যমে প্রবেশ। আপনার নাকের ঘ্রাণজনিত বাল্ব এবং এর বহিরাবরণ : দুটি বেতারযন্ত্রের পথ। আর এটি অমেরুদন্ডী প্রাণিদের ঘ্রাণজনিত সীমার জন্যও প্রযোজ্য।”

বাইরের ন্যানোপার্টিক্যাল মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে কিনা তা নির্ধারণ করতে সাহা ন্যানোপার্টিক্যাল প্রয়োগ করার আগে এবং পরে পঙ্গপালদের মধ্যে ঘ্রাণজনিত নিউরোনগুলির শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করে। ন্যানোপার্টিক্যাল বিশ্লেষণের কয়েক ঘন্টার পরে, ইলেক্ট্রোফিজিয়াল প্রতিক্রিয়াগুলির কোন লক্ষণীয় পরিবর্তন সনাক্ত করা যায়নি।

রমণ জানান, “ন্যানোপার্টিক্যালসের ভিত্তিক ওষুধ সরবরাহ গবেষণার একটি সূচনা এটি।”

গবেষণার পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন ঔষধের সাথে সোনার ন্যানোপার্টিক্যালকে একিভূত করে এবং আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট এলাকায় আরো সুনির্দিষ্ট অংশকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে, যা মস্তিষ্ক-টিউমার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উপকারী হবে। [Science daily- অবলম্বনে]

-শফিকুল ইসলাম

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.