বছরে প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু ঘটে বায়ু দূষণের ফলে!

1
180

সম্প্রতি নেচার জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০০৭ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩.৪৫ মিলিয়ন মানুষ বায়ু দূষনের কারণে অকাল মৃত্যুর সম্মুখীন হয়েছে আর এই সংখ্যা সমগ্র কানেকটিকাট রাজ্যের জনসংখ্যার সমান। ভয়ানক ব্যাপার হচ্ছে বায়ু দূষণ কোন সীমানা মানে না।

এসব মৃত্যুর ২২ শতাংশ যুক্ত থাকে অন্যকোন এলাকার পণ্য ভোগ করার কারণে যে দূষণের সৃষ্টি হয়। উদাহরণস্বরূপ, চীনে মৃত্যুর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কারণ থাকে পশ্চিমের দেশগুলোর টুকিটাকি জিনিস বা খেলনা ক্রয়-বিক্রয়ের কারণে।
বেইজিংয়ের শিংঘুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং এই গবেষণাপত্রের সহরচয়িতা কিয়াং ঝাং বলেন, “বায়ু দূষণ দীর্ঘ দূরত্ব ভ্রমণ করে এবং নিম্নবায়ু প্রবাহকারী অঞ্চলে স্বাস্থ্যগত প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। আমাদের গবেষণায় জানা যায় যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ভোগ এবং উৎপাদনের প্রভাব ব্যপক দূরত্ব অতিক্রম করবে।”

প্রচন্ডভাবে দূষিত কোন অঞ্চলের বাইরে অবস্থান করা মানেই দূষণ থেকে রক্ষা পাওয়া নয় কারণ দূষণ স্থান পরিবর্তন বা ভ্রমণ করে। এই গবেষনায় আরও পাওয়া যায় যে, ১২ শতাংশ অকাল মৃত্যু ঘটে বিশ্বের কোন না কোন এক অঞ্চল থেকে উৎপত্তি হওয়া দূষণ থেকে। একইভাবে, ২০১৪ সালের এক গবেষণায় পাওয়া যায় ক্যালিফোর্ণিয়ার ধোঁয়া দৃশ্যমান হওয়ায় ভূমিকা রাখে চীনের দূষণ।

শিংঘুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং এই গবেষণার অন্য এক সহ-রচয়ীতা দাবো গোয়ান বলেন, “পূর্ববর্তী গবেষণায় বিশ্বাস করা হতো দূষণ একটি স্থানীয় বিষয় এবং এর জন্য বৈশ্বয়িক কোন প্রভাবের প্রয়োজন হয়না। কিন্তু এখানে আমার বক্তব্য হচ্ছে, আমরা বিশ্বব্যাপী একে অন্যের সাথে সংযুক্ত এবং খুব নিবিড়ভাবেই সংযুক্ত রয়েছি। এজন্যেই এর প্রভাব থেকে আমারা কেউই আলাদা হতে পারবোনা। কারণ আমরা সবাই হয় ভোক্তা না হয় উৎপাদক। কোন কোন ক্ষেত্রে উভয়ই।”

দূষণের মাত্রা যখন PM 2.5 হবে তখন তা মারাত্মক আকারের ক্ষতি করে থাকে। PM মানে particulate matter বা বস্তুকণা- যা তরলকণা এবং ক্ষুদ্র বস্তুকণার এক জটিল মিশ্রণ। যখন আমরা গাড়িতে পেট্রল পুড়ি অথবা কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ তৈরী করে থাকি তখন উভয়ের মিশ্রণে এই বস্তুকণার সৃষ্টি হয়। আর 2.5 দিয়ে উক্ত কণার আকার নির্দেশ করা হয়ে থাকে- 2.5 মাইক্রন।
সমদ্র সৈকতের সবচেয়ে ছোট বালিকণার চেয়ে মুটামুটিভাবে ৪০ গুণ ছোট 2.5 মাইক্রন। আমরা যখন শ্বাস গ্রহণ করি তখন PM 2.5 খুব সহজেই বাতাসের সাথে চলে যেতে পারে এবং আমাদের ফুসফুসে বাসা বাঁধতে পারে। আর সেইসাথে আমাদের কার্ডিওভাসকুলার পদ্ধতিতেও অবাদে চলাফেরা শুরু করে। এর ফলস্বরূপ এটি স্বাস্থ্য সমস্যার অন্যতম একটি কারণ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে মৃত্যু ঘটানোর কাজটিও করে থাকে।


গোয়ানের মতে ২০১৩ সাল থেকে দূষোণ রোধ করার জন্য চীন তার আইন সংশোধন করে যাচ্ছে এবং ফলাফল হিসেবে দূষোণ নির্গমনের মাত্রা সাত থেকে আট শতাংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু একটি নির্গমন কমাতে পারলেও অন্যান্য গুলি বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। ভারত আগের চেয়েও বেশী কয়লা পুড়িয়ে চলেছে। যদিও আমরা দূষণ সম্পর্কে বৈশ্বিকভাবে ঐক্যমতে পৌছেছি অন্যদিক থেকে কেউ না কেউ পেছনেই পড়ে যাচ্ছে।

ক্যালিফোর্ণিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক স্টিভ ডেভিস বলেন, “আপনি যদি এশিয়ার কেউ হন যেখানে আপনার দেশ উন্নত কোন দেশের জন্য পণ্য তৈরী করে আর্থিকভাবে উন্নতি সাধন করছে এবং আপনি ভাবছেন এই দূষণের জন্য আপনার সমাজের উপর বিরূপ প্রভাব পরছে আর এর জন্য অবশ্যই সেসব দেশ দায়ী। সেসব উন্নত দেশই এর প্রধান কারণ। সুতরাং দূষণ থেকে মুক্তি পাওয়া খুব একটা সহজ বিষয় নয়। কারণ তারা অবশ্যই তাদের অর্থনীতির উপর এর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা চিন্তা করবে। যদি তারা জোরপূর্বক সিদ্ধান্ত নেয় যে, তাদের অর্থনীতিকে পরিষ্কার রাখবে তবে অন্যান্য দেশগুলি প্রতিবাদ করবে এবং বলবে ব্যবসার কাজের জন্য তারা তাদের নিজেদের লোকজনকেই ব্যবহার করবে।”

আর একারণেই দূষণ থেকে মুক্তির বিষয়টি অনেক জটিল হয়েছে এবং এর জন্য আমাদের কিছু বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। যে ভাবে আপনি এই ভয়াবহ সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। [পপুলার সায়েন্স- অবলম্বনে]

-শফিকুল ইসলাম

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.