আগুনে পোড়া চিকিৎসায় বিপ্লব আনবে এই ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার

0

আগুনে পোড়া তৃতীয় স্তরের ক্ষতিগ্রস্থ রোগীদের নিরাময় করা একটি দীর্ঘ এবং কঠিন প্রক্রিয়া। তবে Wake Forest Institute for Regenerative Medicine (WFIRM)- এর গবেষকগণ একটি ত্রিমাত্রিক বায়োপ্রিন্টার তৈরী করেছেন যা ক্ষত স্থানে সুস্থ ত্বকের কোষ স্থাপন করতে পারে। আর এর মাধ্যমে আগুনে পোড়া চিকিৎসাকে আরো দ্রুত ও সহজতর করে তোলা সম্ভব।

তৃতীয় স্তরের ক্ষতিগ্রস্থ ত্বকের বাহ্যিক এবং ভেতরের উভয় স্তরই ধ্বংস হয়ে যায়। প্রথাগত চিকিৎসা পদ্ধতিতে এসব ক্ষত ঢেকে ফেলার জন্য কোন সুস্থ অংশ থেকে চামড়ার কোষ নিয়ে তা ঢেকে ফেলা হয়। কিন্তু এমতাবস্থায় বিশেষতঃ পোড়ার ক্ষেত্রে সমগ্র শরীর ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যায় ফলে সেখানে ক্ষত স্থান ঢেকে ফেলার জন্য যথেষ্ট সুস্থ ত্বক থাকেনা।

নতুন এই ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার যন্ত্রটি পুড়ে যাওয়া ত্বকে নতুন কোষ প্রিন্ট করে থাকে তবে এখানকার তথাকথিত কালিটি মূলত সুস্থ ত্বকের কোষ দিয়েই তৈরী। WFIRM এর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “একটি স্ক্যানার ব্যবহার করে ক্ষত স্থানের আকার এবং গভীরতা নির্ণয় করা হয়। আর এখান থেকে সংগৃহীত তথ্যই প্রিন্টারকে ক্ষত স্থান পূরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় ও সঠিক কোষের স্তর দিয়ে ভরিয়ে দিতে সাহায্য করে। আপনার শুধু সুস্থ ত্বকের এক দশমাংশের একটি তালি বা টুকরোর প্রয়োজন পড়বে যা দিয়ে প্রিন্টার যথেষ্ট পরিমাণ ত্বকের কোষ তৈরী করবে।”

এই প্রিন্টারের প্রায়োগিক চিকিৎসা পরীক্ষার অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ইঁদুর এবং শূকরের ক্ষত সারিয়ে তোলায় সাফল্য এসেছে। WFIRM এর গবেষকগণ দেখেছেন যে এই বায়োপ্রিন্টার দিয়ে কোন পোড়া অংশ মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই সারিয়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে, যেখানে গতানুগতিক চিকিৎসায় সময় লেগে যায় পাঁচ সপ্তাহ। WFIRM এর সহযোগী অধ্যাপক জন ডি জ্যাকশন কিউরিয়োসিটিকে জানিয়েছেন, “গবেষণায় দেখা গেছে ক্ষত স্থান সেরে উঠতে যত বেশী সময় নেবে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি, জটিলতা এবং মৃত্যুর পরিমাণ ততই বৃদ্ধি পাবে।”

বায়োপ্রিন্টার প্রযুক্তিটি কখন রোগীদের হাতের নাগালে চলে আসবে সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। এই বায়ো প্রিন্টার প্রকল্পটি এখনও উন্নতিকরণ পর্যায়ে রয়েছে। প্রযুক্তিটি গবেষকদের মনে যথেষ্ট আশার সঞ্চার করলেও এখনও অনুমান করা যচ্ছে না কত দ্রুত মানুষের জন্য এটি প্রস্তুত হবে। রোগীদের কাছাকাছি পৌঁছুতে আরও বেশী পরীক্ষা এবং সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। [Curiosity.com- অবলম্বনে]

-শফিকুল ইসলাম

Share.

মন্তব্য করুন