জিন সম্পাদনা করে মরণব্যাধি লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত শিশুর জীবন রক্ষা

1

আমাদের পৃথিবী হয়তো একই মূহুর্তে পুরোপুরি সুন্দর ও সভ্য নয়, কিন্তু অন্ধকার হটিয়ে পৃথিবীকে ধীরে ধীরে আলোকিত করে তুলছে বিজ্ঞান। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা চিকিৎসা ক্ষেত্রে অসাধারণ একটি অগ্রগতির কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। তাঁরা চিকিৎসার অযোগ্য মরণব্যাধি লিউকোমিয়া থেকে দুটি শিশুকে উদ্ধার করে এনেছেন। এই কাজে ব্যবহার করা হয়েছে জিন সম্পাদনা প্রযুক্তি।

Science Translational Medicine জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে ইউরোপীয় গবেষকদল এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন।  সেখানে বলা হয়েছে দুটি শিশুকে অভিনব পদ্ধতিতে চিকিৎসাদানের পর তারা একজন ১৮ মাস এবং অপরজন ২২ মাস ধরে ক্যান্সারমুক্ত অবস্থায় রয়েছে। এই কাজে রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার প্রকরণ T-cell কে জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে পরিবর্তিত করে ক্যান্সার কোষগুলো বেছে বেছে ধ্বংস করার উপযোগী করা হয়েছে।

গবেষকদলের গবেষণাপত্র হতে জানা যায়, উভয় নবজাতকের শরীরেই আণবিক পর্যায়ে ক্যান্সার নির্মূলের প্রমাণ পাওয়া গেছে চিকিৎসার ২৮ দিনের মধ্যে, যা অবিস্মরনীয়ভাবে অতি স্বল্প সময়। বর্তমানে এই দুটি শিশুর কারোই একিউট লিম্ফোসাইটিক লিউকোমিয়া’র কোনো লক্ষন নেই।

জিন সম্পাদনার বিষয়টি আমাদের জন্য নতুন নয়। জিন সম্পাদনা করে উদ্ভিদের জিনপরিবর্তনের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনের কথা আমরা শুনেছি। এই পদ্ধতিতে চালের মধ্যে ভিটামিন-এ উৎপাদনকারী জিন প্রদানের মাধ্যমে ভিটামিন-এর অভাব দূর করা হচ্ছে। বেগুনের জিন সম্পাদনা করে রোগবিহীন বেগুন উৎপাদন করা হচ্ছে, যা বিটি বেগুন জাত হিসেবে ইতিমধ্যে আমাদের দেশে চাষ করা হচ্ছে। কিন্তু এই বিজ্ঞানীর দল যা করেছেন ক্যান্সার নির্মূলে তা নজিরবিহীন এবং ইতিপূর্বে করা হয় নি। এই ক্ষেত্রে একজন সবল রক্তদাতার রক্ত থেকে জীবাণুপ্রতিরোধকারী লোহিত রক্ত কণিকা নিয়ে তাতে জিনকৌশলের মাধ্যমে পরিবর্তন করে শিশু রোগীদের দেহে স্থাপন করা হয়েছে।

নতুন কোষগুলো শিশুদের দেহ অবশ্য গ্রহণ নাও করতে পারত। সেই ক্ষেত্রে বিপরীত ঘটনা ঘটতে পারত, শিশুদের অবস্থার আরো অবণতি ঘটতে পারত। কেননা, এই কোষগুলো নবজাতকের শরীরে বহিরাগত। দুটি শিশুর একটির জন্য T-cell প্রতিস্থাপনের পর জটিলতাও দেখা দিয়েছিলো তবে চিকিৎসকগণ স্টেরয়েড প্রয়োগ করে এবং বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন করে সেই সমস্যার সমাধান করেন।

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক

Share.

1 Comment

মন্তব্য করুন