কার্বন নির্গমন থেকে বেকিং সোডা তৈরী করতে যাচ্ছে ভারতের একটি কোম্পানী

0

বিশ্বে এই প্রথম ভারতের একটি রাসায়নিক কারখানা কার্বন নির্গমন ধরে রেখে তা বেকিং সোডায় রূপান্তর করার একটি নতুন প্রযুক্তি চালু করতে যাচ্ছে।

তুতিকোরিন শিল্প বন্দরনগরীতে তুতিকোরিন আলকাই কেমিক্যাল প্লান্ট আশা করছে বার্ষিক প্রায় ৬০ হাজার টন CO2 নির্গমন থেকে বেকিং সোডায় রূপান্তর করতে পারবে এবং এ প্রযুক্তির পেছনে কর্মরত বিজ্ঞানীরা বলেছেন, কয়লার বৈশ্বিক নির্গমনের ১০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে তা রূপান্তর করা যাবে।

যদিও কার্বন নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি কোন নতুন বিষয় নয় তবে তুতিকুরিনের এই প্রযুক্তি সরকারের কোনপ্রকার ভর্তুকি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। আর এ থেকে অনুমান করা যায় গবেষকরা একটি লাভজনক ও ব্যবহারিক পদ্ধতির উন্নতি সাধন করতে পেরেছেন যা অন্যান্য কারখানা এবং শিল্পের জন্য বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সম্প্রসারণ করতে পারবে।

কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রামচন্দ্র গোপালান বিবিসি কে বলেন, “আমি একজন ব্যবসায়ী এবং আমি কখনই এই গ্রহের কথা ভেবে এই কাজ করিনি। আমার একটি নির্ভরযোগ্য CO2 প্রবাহের প্রয়োজন ছিলো আমি এখান থেকেই সবচেয়ে লাভজনকভাবে এই প্রবাহ পেয়ে যাচ্ছি।”

তুতিকোরিন প্ল্যান্টটিতে কয়লা ব্যবহৃত একটি চুল্লি রয়েছে যা বিভিন্ন রাসায়নিক উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। একটি যন্ত্র চুল্লির চিমনির ভেতর CO2 নির্গমন পৃথক করে থাকে যা পরবর্তিতে লবন ও অ্যামোনিয়া সমৃদ্ধ কক্ষে প্রবাহিত হয়। এরপর সর্বশেষ পণ্যটি বেকিং সোডা তৈরিতে ব্যবহার হয় অথবা জীবাণুনাশক, ডিটার্জেন্ট, কাচ উৎপাদনসহ অন্যান্য উপাদানের যৌগ হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

চিমনীর গ্যাস থেকে CO2 অণু আলাদা করার সামগ্রিক ধারণা নতুন না হলেও এই পদ্ধতি ব্যবহার করা দলটি বলেছেন তাদের পরিস্রাবন করা রাসায়নিকটি অ্যামিনো যৌগ যা বিজ্ঞানীরা পূর্বে ব্যবহার করছিলেন তার থেকে অধিক কার্যকরী এবং পরিচালনায় কম শক্তির প্রয়োজন হয়।

প্রধান নির্বাহী অনিরুদ্ধ শর্মা মনে করেন, কোম্পানিটির পদ্ধতি বাস্তবসম্মত, কম ঝুকিপূর্ণ এবং একই কৌশল সামগ্রিকভাবে কার্বন নিয়ন্ত্রণে সকল শিল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা উচিৎ।

এই পদ্ধতির আরেকটি ব্যতিক্রম সৃষ্টিকারী দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে এটি কার্বন ব্যবহার করে ইতিবাচক কিছু যেমন, কোথাও অব্যবহৃতভাবে জমিয়ে (ভূগর্ভে সমাহিত করে) না রেখে নতুন রাসায়নিক এবং পন্য তৈরী করছে।

যুক্তরাজ্যের সরকারী কার্বন নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির প্রধান লর্ড রোনাল্ড অক্সবার্গ বিবিসি কে বলেন, “জীবাশ্ম জ্বালানী পোড়ানোর ফলে যেসব ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি হয় তার প্রভাব কমানোর জন্য আম্মাদের অনেক কিছু করতে হবে। আর কার্বন নিঃসরণের বিষয়ে এটা আমাদের জন্য একটা সুখবর।” [সাইন্সএলার্ট-অবলম্বনে]

শফিকুল ইসলাম

 

Share.

মন্তব্য করুন