Top header

কালের সংক্ষিপ্ততর ইতিহাস (A Briefer History of Time): পর্ব-১৩

1

[সব পর্বের তালিকা ও লিংক পাবেন এখানে]

পরিভাষা

(বাংলা বর্ণ অনুসারে সাজাতে গিয়ে মূল পরিভাষাগুলোর ক্রমানুসার পরবর্তন হয়েছে। ব্র্যাকেটের কথাগুলো অনুবাদকের যোগ করা। * চিহ্নিত পরিভাষাগুলো অনুবাদকের যোগ করা। -অনুবাদক)

অনিশ্চয়তা নীতি (Uncertainty principle): হাইজেনবার্গের প্রদান করা এই নীতি যে, কোনো কণিকার অবস্থান ও বেগ একইসাথে নিশ্চিত করে জানা সম্ভব নয়। এর একটি যত বেশি নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা হবে, অপরটি সম্পর্কে পাওয়া তথ্য ততই অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

অবলোহিত আলো বা বিকিরণ (infrared light): যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চেয়ে বেশি এবং মাইক্রোওয়েভ বিকিরণের তুলনায় কম।  দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলোর  তরঙ্গদৈর্ঘ্যই সর্বোচ্চ।

আইন্সটাইন- রোজেন সেতু (Einstein-Rosen bridge): স্থান- কালের একটি সরু নল, যা দুটি ব্ল্যাক হোলকে যুক্ত করে। আরো দেখুন, ওয়ার্মহোল

আবর্তন (rotation): কোনো বস্তুর নিজের অক্ষের সাপেক্ষে যে ঘূর্ণন তাকে আবর্তন বলে। যেমন আপনি যদি একটি বল বা গ্লোবকে হাতের তালুতে নিয়ে ঘোরাতে থাকেন, অথবা একটি কয়েনকে টোকা দিয়ে পাক খাওয়াতে থাকেন, তবে এদের আবর্তন হবে। আরো দেখুন, প্রদক্ষিণ

আলোকবর্ষ (light-year): আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে। ( মনে রাখতে হবে, এটিসহ আলোক-সেকেন্ড এবং এই জাতীয় এককগুলো দূরত্বের একক, সময়ের নয়। আলোর বেগ হল, সেকেন্ডে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল।)

আলোক-সেকেন্ড (Light-second): আলো এক সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে।

অ্যানথ্রোপিক নীতি (Anthropic principle): এই ধারণা যে, আমরা মহাবিশ্বকে এখন যেমন দেখছি এর এমন হওয়ার পেছনে কারণ হচ্ছে, এটি যদি এমন না হত তাহলে একে পর্যবেক্ষণ করার মতো এখানে থাকতামই না।

ইলেকট্রন (Electron): নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘুর্ণনরত ঋণাত্মক চার্জধারী কণিকা।

ইলেকট্রিক চার্জ বা তড়িৎ আধান (Electric charge): কণিকার এমন ধর্ম যার মাধ্যমে এটি বিপরীত চার্জধারী অন্য কণিকাকে আকর্ষণ করে এবং একই রকম চার্জধারী কণিকাকে বিকর্ষণ করে।

ইলেকট্রোউইক ইউনিফিকেশান এনার্জি (Electroweak unification energy): শক্তির যে পরিমাণকে (প্রায় ১০০ গিগা ইলেকট্রোভোল্ট) ছাড়িয়ে গেলে তড়িচ্চুম্বকীয় বল এবং দুর্বল নিউক্লিয়ার বলের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না।

ওজোন (Weight): মহাকর্ষীয় (বা অভিকর্ষীয়) ক্ষেত্র দ্বারা কোনো বস্তুর উপর প্রযুক্ত বল। এটি ভরের সমানুপাতিক কিন্তু সমান নয়। (* আমরা সাধারণত যাকে ওজোন বলি, সেটি আসলে ভর। ভরের সাথে অভিকর্ষীয় ত্বরণ গুণ করলে ওজোন পাওয়া যায়)। আরো দেখুন, অভিকর্ষীয় ত্বরণ

ওয়ার্মহোল (Wormhole): মহাবিশ্বের দূরবর্তী দুটি অঞ্চলের সংযোগ প্রদানকারী একটি পাতলা টিউব বা সুড়ঙ্গ। ওয়ার্মহোলের অপর প্রান্তে সমান্তরাল বা শিশু মহাবিশ্ব থাকতে পারে, যার মাধ্যমে সময় ভ্রমণ সম্ভব হতে পারে।

চিত্রঃ ওয়ার্মহোল। (অনুবাদকের যোগকৃত)

কণা ত্বরকযন্ত্র (Particle accelerator): যে মেশিনের সাহায্যে ইলেকট্রোম্যাগনেট বা তড়িচ্চুম্বক ব্যবহার করে বেশি শক্তি দিয়ে দিয়ে গতিশীল চার্জধারী কণিকাদের বেগ বৃদ্ধি করা যায়।

কণা- তরঙ্গ দ্বৈততা (Wave/particle duality): কোয়ান্টাম মেকানিক্সের এই নীতি যে, কণা ও তরঙ্গের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কোনো সময় কণা আচরণ করে তরঙ্গের মতো, আবার কখনো তরঙ্গ কণা মতো আচরণ করে।

কসমোলজি বা মহাবিশ্বতত্ত্ব (Cosmology): সামগ্রিকভাবে মহাবিশ্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়ে যে শাস্রে।

কোয়ান্টাম (Quantum): কোনো পারমাণবিক প্রতিক্রিয়ায় বস্তুর সর্বনিম্ন যে পরিমাণ অংশ নিতে পারে।

কোয়ান্টাম মেকানিক্স (Quantum mechanics): প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম নীতি ও হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি থেকে প্রস্তুত তত্ত্ব।

কোয়ার্ক (Quark): একটি চার্জধারী মৌলিক কণিকা, যা সবল নিউক্লিয়ার বল অনুভব করে। প্রোটন ও নিউট্রন দুটি কণিকাই তিনটি করে কোয়ার্ক দ্বারা গঠিত।

কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকুয়েন্সি (Frequency): কোনো তরঙ্গ প্রতি সেকেন্ডে যতগুলো চক্র বা কম্পন সম্পন্ন করে।

ক্ষেত্র (Field): এমন কিছু যা স্থান- কাল জুড়ে অংশে বিস্তৃত থাকে । এটি কণিকার বিপরীত, যা নির্দিষ্ট কোনো সময়ে শুধু একটি বিন্দুতেই অবস্থান করে।

গামা রশ্মি (Gamma rays): খুব ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তড়িচ্চুম্বকীয় রশ্মি। তেজস্ক্রিয় বিকিরণ বা মৌলিক কণিকাদের সংঘর্ষের ফলে এটি উৎপন্ন হয়। আরো দেখুন, তেজস্ক্রিয়তা

গ্র্যান্ড ইউনিফায়েড থিওরি বা মহা-সমন্বয় তত্ত্ব (Grand unified theory বা GUT): যে তত্ত্ব তড়িচ্চুম্বকীয় এবং সবল ও দুর্বল নিউক্লিয়ার বলকে একীভূত করে।

ঘটনা (Event): স্থান- কালের উপরস্থ এমন কোনো বিন্দু, যাতে সময় ও স্থান নির্দিষ্ট করে বলা আছে।

ঘটনা দিগন্ত (Event horizo): ব্ল্যাক হোলের সীমানা (ব্ল্যাক হোলের চারপাশের যে অঞ্চলের বাইরে আলো আসতে পারে না)।

চৌম্বক ক্ষেত্র বা ম্যাগনেটিক ফিল্ড (Magnetic field): চৌম্বক বলের জন্যে দায়ী ক্ষেত্র। তড়িৎ ক্ষেত্রের (electric field) সাথে সমন্বিত হয়ে এটি এখন তড়িচ্চুম্বকীয় ক্ষেত্রের অংশ।

ছায়াপথ (galaxy): মহাকর্ষীয় বন্ধনে আবদ্ধ অনেকগুলো নক্ষত্র, আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘ, নাক্ষত্রিক ধ্বংসাবশেষ ও ডার্ক ম্যাটেরর সমাবেশ নিয়ে তৈরি সর্পিল, উপবৃত্তাকার বা অনিয়মিত আকারের মহাজাগতিক কাঠামো।

জড়তা (inertia): কোনো বস্তু যে অবস্থায় আছে সে অবস্থার থাকতে চাওয়ার প্রবণতা। গতিশীল বস্তুর গতিশীল থাকার প্রবণতা হল গতি জড়তা, আর স্থির বস্তুর স্থির থাকতে চাওয়ার প্রবণতা হল স্থিতি জড়তা। ভরের একটি সংজ্ঞা দেওয়া হয় জড়তার পরিমাপের মাধ্যমে। যে বস্তুর ভর যত বেশি, তার জড়তাও তত বেশি হবে।

ডার্ক ম্যাটার (Dark matter): গ্যালাক্সি, গ্যালাক্সিপুঞ্জ ও এদের মাঝে অবস্থিত সেসব বস্তু, যাদেরকে এখনো সরাসরি দেখা সম্ভব হয়নি, কিন্তু মহাকর্ষীয় প্রভাবের কারণে এদের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। মহাবিশ্বের অন্তত ৯০ ভাগ ভরই ডার্ক ম্যাটার।

তড়িচ্চুম্বকীয় বল (Electromagnetic force): ইলেকট্রিক চার্জধারী কণিকাদের মধ্যে যে বল কাজ করে। চার প্রকার মৌলিক বলের মধ্যে শক্তিতে এটি দ্বিতীয়।

তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength): কোনো তরঙ্গের পাশাপাশি অবস্থিত দুটি চূড়া বা খাঁজের মধ্যে দূরত্ব।

তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity): কিছু কিছু পরমাণু নিজেই নিজেই অন্য পরমাণুতে পরিণত হবার প্রক্রিয়া।

দশা (Phase): নির্দিষ্ট সময়ে কোনো তরঙ্গের অবস্থান। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে তরঙ্গের অবস্থান কি খাঁজে, চূড়ায় নাকি এই দুইয়ের মাঝে অন্য কোথাও আছে।

দুর্বল নিউক্লিয়ার বল (Weak force): চার প্রকার মৌলিক বলের মধ্যে দ্বিতীয় দুর্বল বল। এটি মহাকর্ষের চেয়ে শক্তিশালী। এরও পাল্লা খুব ছোট। এটি যে কোনো বস্তু কণাকে আকর্ষণ করে, তবে বলবাহী কণিকাকে আকর্ষণ করে না। (একে সংক্ষেপে বলা হয় দুর্বল বল।)

নিউক্লিয়ার ফিউসান (Nuclear fusion): যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস সংঘর্ষের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটিমাত্র ভারী নিউক্লিয়াস গঠন করে।

নিউক্লিয়াস (Nucleus): পরমাণুর কেন্দ্রীয় অংশ। এতে সবল বলের মাধ্যমে প্রোটন ও নিউট্রন যুক্ত থাকে।

নিউট্রন (Neutron): অনেকটা প্রোটনের মতোই একটি কণিকা, তবে এতে কোনো চার্জ নেই। পরমাণুর নিউক্লিয়াসের প্রায় অর্ধেক কণিকা এই নিউট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে।

নিউট্রন নক্ষত্র (Neutron star): সুপারনোভা বিস্ফোরণের পরে অনেক সময় যে শীতল অংশ বাকি থেকে যায়। এটি ঘটে যখন কোনো নক্ষত্রের কেন্দ্রভাগের বস্তু গুটিয়ে নিউট্রনের ঘন ভরের বস্তুতে পরিণত হয়। (এর মহাকর্ষ এতটা শক্তিশালী যে ইলেকট্রন ও প্রোটন এক হয়ে গিয়ে পুরোটা চার্জহীন নিউট্রনে পরিণত হয়।) আরো দেখুন, নিউট্রন

নিউট্রিনো (Neutrino): একটি অসম্ভব হালকা কণিকা, যা শুধু মহাকর্ষ এবং দুর্বল নিউক্লিয়ার বল দ্বারা প্রভাবিত হয়।

জিওডেসিক (Geodesic): দুটি বিন্দুর মধ্যে সর্বনিম্ন (বা সর্বোচ্চ) পথ। (গোলকের মতো ধনাত্নক বক্রতার ক্ষেত্রে এটি হবে সর্বনিম্ন পথ। আর ঘোড়ার জিনের মত আকৃতির বস্তুর ঋণাত্মক বক্রতার ক্ষেত্রে এটি হবে সর্বোচ্চ দূরত্ব)

ত্বরণ (Acceleration): যে হারে (সময়ের পরিবর্তনের সাথে) কোনো বস্তুর বেগ পরিবর্তন হয়।

দ্বৈততা (duality):  আপাত দৃষ্টিতে আলাদা হলেও একই ফলাফল প্রদান করা দুটো তত্ত্ব মধ্যে সম্পর্ক।  আরো দেখুন, কণা- তরঙ্গ দ্বৈততা

পজিট্রন (Positron): ইলেকট্রনের ধনাত্মক চার্জধারী প্রতিকণিকা। আরো দেখুনঃ প্রতিকণিকা

পরম শূন্য তাপমাত্রা (Absolute zero temperature): সর্বনিম্ন সম্ভাব্য সেই তাপমাত্রা, যাতে বস্তুর কোনো তাপ শক্তি থাকে না।

পরমাণু (Atom): সাধারণ বস্তুর মৌলিক একক। এতে একটি ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসের (প্রোটন ও নিউট্রন দিয়ে তৈরি) চারপাশে ইলেকট্রনরা কক্ষপথে ঘুরতে থাকে।

প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম নীতি (Planck’s quantum principle): এই ধারণা যে, আলো (বা অন্য যে কোনো প্রচলিত তরঙ্গ) শুধু বিচ্ছিন্ন কোয়ান্টা আকারে নির্গত হয়, যার শক্তি এর কম্পাঙ্কের সমানুপাতিক এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ব্যস্তানুপাতিক। আরো দেখুনঃ সমানুপাতিকব্যস্তানুপাতিক

প্রতিকণিকা (Antiparticle): বস্তুর প্রতেকটি কণিকার বিপরীতে একটি প্রতিকণিকা আছে (*যার চার্জ ছাড়া আর সব ধর্ম কণিকার মতোই। যেমন ইলেকট্রনের প্রতিকণিকা পজিট্রন, যার চার্জ +১।)। কণিকা ও প্রতিকণিকার মধ্যে সংঘর্ষ হলে দুটিই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, বিনিময়ে পাওয়া যায় শক্তি।

প্রান্থীনতার শর্ত (No-boundary condition): এই ধারণা যে, মহাবিশ্বের সাইজ নির্দিষ্ট কিন্তু এর কোনো সীমানা বা প্রান্ত নেই।

প্রোটন (Proton): প্রায় নিউট্রনের মতোই একটি কণিকা। কিন্তু এর রয়েছে ধনাত্মক চার্জ। পরমাণুর নিউক্লিয়াসের কণিকাদের প্রায় অর্ধেক সংখ্যকই এরা।

ফোটন (Photon): আলোর একটি কোয়ান্টাম। আরো দেখুনঃ কোয়ান্টাম

বর্ণালী (Spectrum): একটি তরঙ্গের উপাদান কম্পাঙ্কগুলো। সৌরবর্ণালীর দৃশ্যমান অংশ রংধনুতে দেখা যায়।

বিগ ব্যাঙ (Big bang): মহাবিশ্বের শুরুতে যে সিঙ্গুলারিটি ছিল। আরো দেখুন, সিঙ্গুলারিটি

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব (Special relativity): মহাকর্ষের অনুপস্থিতিতে যে কোনো বেগে গতিশীল সকল পর্যেবেক্ষকের কাছে বিজ্ঞানের সূত্রগুলো একই থাকবে- এই নীতির ভিত্তিতে তৈরি আইনস্টাইনের থিওরি। (কাল দীর্ঘায়ন, দৈর্ঘ সঙ্কোচন্‌ ভর-শক্তি সমতুল্যতা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ফসল।)। আরো দেখুন, সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব

বিষুব রেখা (equator): পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর মাঝ বরাবর পূর্ব পশ্চিমে কল্পিত রেখা।

ব্যস্তানুপাতিক (inversely proportional): X, Y এর ব্যস্তানুপাতিক হলে এর অর্থ হচ্ছে Y কে কোনো সংখ্যা দ্বারা গুণ করলে X কে সেই সংখ্যা দ্বারা ভাগ দেওয়া হচ্ছে। (অর্থ্যাৎ, Y যত গুণ বাড়বে, X তত গুণ কমে যাবে। যেমন Y দ্বিগুণ হলে X হয়ে যাবে অর্ধেক। Y তিন গুণ হলে X হবে তিন ভাগের এক ভাগ। তবে যদি বলা হয় X, Y এর বর্গের ব্যস্তানুপাতিক, তাহলে Y দ্বিগুণ হলে X হবে চার ভাগের এক ভাগ।) আরো দেখুন, সমানুপাতিক

ব্ল্যাক হোল (Black hole): স্থান- কালের এমন অঞ্চল যেখানে মহাকর্ষ এত শক্তিশালী যে এখান থেকে কোনো কিছুই বের হয়ে আসতে পারে না, এমনকি আলোও না। (বাংলা নাম কৃষ্ণগহ্বর বা কৃষ্ণবিবর)

ভর (Mass): কোনো বস্তুতে উপস্থিত পদার্থের পরিমাণ অথবা বস্তুর জড়তা এবং ত্বরণের প্রতি বাধা।

ভার্চুয়াল কণিকা (Virtual particle): যে কণবিকাদেরকে সরাসরি দেখা যায় না, কিন্তু পরিমাপযোগ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়।

মহাজাগতিক ধ্রুবক (Cosmological constant): স্থান- কালের সহজাত ধর্মই হচ্ছে প্রসারিত হওয়া- এমন ব্যাখ্যা দেবার জন্যে আইনস্টাইনের উদ্ভাবিত গাণিতিক ধ্রুবক। (পরে দেখা গিয়েছিল এই ধ্রুবক আনা ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। কিন্তু এখন আবার এর প্রয়োজন আছে বলে মনে হচ্ছে)।

মাইক্রোওয়েভ পটভূমি বিকিরণ (Microwave background radiation): আদি উত্তপ্ত মহাবিশ্ব থেকে নির্গত বিকিরণ। বর্তমানে এর এত বেশি লাল সরণ হয়েছে যে একে আর আলো হিসেবে দেখা যায় না, পাওয়া যায় মাইক্রোওয়েভ হিসেবে। মাইক্রোওয়েভ হল কয়েক সেন্টিমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বেতার তরঙ্গ। আরো দেখুন, লাল সরণ

মৌলিক কণিকা (Elementary particle): এমন কণিকা যাকে আর ভাঙা যায় না বলে বিশ্বাস করা হয়।

রেডার (Radar): বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে বস্তুর অবস্থান নির্ণয়ের যন্ত্র। যন্ত্র থেকে প্রেরিত সঙ্কেত বস্তুতে পৌঁছে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসতে যে সময় লাগে তা কাজে লাগিয়ে দূরত্ব বের করা হয়।

লাল বা লোহিত সরণ (Red shift): ডপলার ক্রিয়ার কারণে আমাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়া নক্ষত্রের আলোকে লাল দেখা।

সবল নিউক্লিয়ার বল (Strong force): চার প্রকারের মৌলিক বলের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বল। তবে এর পাল্লা সবচেয়ে ছোট (বেশি দূর পর্যন্ত এর প্রভাব কাজ করে না)। এটি কোয়ার্কদেরকে যুক্ত করে প্রোটন ও নিউট্রন এবং প্রোটন ও নিউট্রনকে যুক্ত করে পরমাণু গঠন করে।  একে সংক্ষেপে সবল বলও বলা হয়।

সমানুপাতিক (Proportional): X, Y এর সমানুপাতিক হলে এর অর্থ হচ্ছে Y কে কোনো সংখ্যা দ্বারা গুণ করা হলে X কেও সেই সংখ্যা দ্বারা গুণ করা হবে (এর অর্থ হবে Y যে হারে বাড়বে X ও সেই হারে বাড়বে। তবে যদি বলা হয় X, Y এর বর্গের সমানুপাতিক, তবে Y দ্বিগুণ হলে X চার গুণ হবে;Y তিন গুণ হলে X নয় গুণ হবে ইত্যাদি।) আরো দেখুন, ব্যস্তানুপাতিক

সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব (General relativity): যে কোনো গতিতে চলা পর্যবেক্ষকের কাছে বিজ্ঞানের সূত্রগুলো একই হবে- এই ধারণার ভিত্তিতে তৈরি আইনস্টাইনের থিওরি। এই থিওরি মহাকর্ষকে চতুর্মাত্রিক স্থান- কালের সাহায্যে প্রকাশ করে। (বাংলায় সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বও বলা হয়। তবে সার্বিক বলাই বেশি সঠিক)

সিঙ্গুলারিটি (Singularity): স্থান- কালের এমন বিন্দু যেখানে স্থান- কালের বক্রতা (অথবা অন্য কোনো বস্তুগত রাশি) অসীম হয়। (বাংলায় একে অনন্যতাও বলা হয়।)

স্ট্রিং থিওরি (String theory): পদার্থবিদ্যার সেই তত্ত্ব, যাতে বিভিন্ন কণিকাকে স্ট্রিং (সুতা বা দড়ি) এর কম্পন মনে করা হয়। স্ট্রিং এর শুধু দৈর্ঘ্য আছে, অন্য কোনো মাত্রা (উচ্চতা বা প্রস্থ) নেই।

স্থানাংক (Coordinates): স্থান ও কালের মধ্যে কোনো বিন্দুর অবস্থান প্রকাশ করতে যে সংখ্যাগুলো প্রয়োজন।

স্থান- কাল (Space-time): চতুর্মাত্রিক স্থান, যার বিন্দুগুলোকে ঘটনা বলা হয়।

স্থানিক মাত্রা (Spatial dimension): সময় ছাড়া অন্য তিন মাত্রার যে কোনোটি।

মূলঃ Stephen Hawking এবং Leonard Mlodinow
অনুবাদঃ আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ
শিক্ষার্থী, পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
[লেখকের ফেসবুক প্রোফাইল]

Share.

1 Comment

  1. Mohammed Monir Hossain on

    Thanks for writer who translate in bangla and we read it easily.Thanks also science page.We hope we read more science book in bangla translate famous English science book.

মন্তব্য করুন